মণ্ডপের ভিতরে পর পর পাতা ফোল্ডিং খাট। সেখানে চলছে রক্তদান। কিন্তু মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশ। রক্তদান শিবিরের সামনে পুলিশ কেন? জবাব এল, হামলার আশঙ্কায় পুলিশি প্রহরায় চলছে শিবির।
ঘটনাস্থল বাগুইআটির ফয়রা ভবন এলাকা। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, তাঁদের আয়োজিত শুক্রবারের রক্তদান শিবিরের আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূলের বাইক বাহিনী এসে একটি মঞ্চ ভেঙে দেয়। আরও অভিযোগ, ওই বাহিনী হুমকি দিয়ে যায়, কোনও রক্তদান শিবির করা চলবে না। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবারের গণ্ডগোল যাতে শুক্রবার না ছড়ায়, তাই এ দিন সকাল থেকেই বাগুইআটি থানার পুলিশ ছিল ওই রক্তদান শিবিরে। বিধাননগর কমিশনারেটের এডিসি সন্তোষ নিম্বলকর বলেন, “আমরা কোনও গণ্ডগোল হতে দেব না। বৃহস্পতিবার রাতে একটা ঝামেলা হয়েছিল। তাই এ দিন ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করি। গোলমাল এড়াতে রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার সামনেও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”
রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরে এখন ওই পুরসভা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মহকুমা শাসক। কিন্তু কিছু দিন ধরেই রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা এলাকায় তৃণমূল ও সিপিএম নানা কারণে বিবাদে জড়াচ্ছে। অভিযোগ, পুরসভার মেয়াদ উত্তীণর্র্ হওয়ার পর থেকে সেই বিবাদ মাঝে মধ্যেই হাতাহাতির আকার নিচ্ছে।
দিন তিনেক আগে অস্থায়ী পুরকর্মীদের বেতন সংক্রান্ত একটি বিষয় ঘিরে পুরসভার সামনে তৃণমূল ও সিপিএম-এর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একে অপরকে দোষারোপ করে চলে ভাঙচুর ও মারপিট। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তদান শিবির নিয়ে গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়লেন স্থানীয় সিপিএম ও তৃণমূল নেতৃত্ব। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এক দল বাইক বাহিনী শিবিরের সামনে এসে চড়াও হয় এবং মঞ্চ ভাঙচুর করে। চলে ধস্তাধস্তিও। এর পরেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সিপিএম সূত্রে খবর, প্রতি বছর শিক্ষক দিবসের দিন এক জন ব্যতিক্রমী শিক্ষককে সংবর্ধনা দেয় রাজারহাট-গোপালপুর পুরশিক্ষা উন্নয়ন কমিটি। এ ছাড়া ওই কমিটি এবং ডিওয়াইএফআই-এর যৌথ উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। এলাকার সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ন’বছর ধরে রক্তদান অনুষ্ঠান করছি। এ বছর তৃণমূলের প্রায় দু’শোর মতো গুণ্ডাবাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে। রক্তদানের মতো একটা কাজও ওরা করতে দেবে না।” সিপিএম এর তরফে অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগনার জেলা আইএনটিটিইউসি-এর সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ও তাঁর দল এই কাজ করেছেন।
যদিও বিশ্বজিৎবাবু বলেন, “ওদের পায়ের তলায় মাটি সরে গেছে। তাই নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে আমাদের উপরে দোষারোপ করছে।”
তবে বারবার এই অশান্তির জেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রক্তদান শিবিরের মতো একটা ভাল বিষয়েও যদি দুই দল একে অপরের সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে তাহলে এলাকায় শান্তি কতটা আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু অবশ্য বলেন, “গণ্ডগোলের কোনও খবর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।”