পশ্চিম এশিয়ার আকাশ জুড়ে অস্ত্রের দাপাদাপি। হামলা-পাল্টা হামলায় যুদ্ধের ময়দানে তাল ঠুকছে ইহুদি ও মুসলিম রাষ্ট্র। যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে পশ্চিম এশিয়া। ইরান-ইজ়রায়েল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। ২৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক পারস্য দেশের রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক শহরে আছড়ে পড়ে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।
দেশের সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি তেহরান। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইজ়রায়েলে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইরানের নেতারা জানিয়েছেন তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না। ইজ়রায়েল যা করেছে, তার যথাযোগ্য ‘জবাব’ তাঁরা দেবেনই। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে ‘নরকের দ্বারে’ পৌঁছে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভেলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)।
শিয়া দেশটির থেকে ইহুদিদের উপর এ ভাবে আক্রমণ নেমে আসায় পশ্চিম এশিয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যুদ্ধের রব উঠেছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সেনাছাউনি রয়েছে। সেই সেনাঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছাড়াও কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সৌদি আরব এবং জর্ডনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আমেরিকার সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।
লড়াইয়ের ময়দানে একে অপরের দিকে তাকিয়ে তাল ঠুকছে ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ইরান ও ইজ়রায়েল। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে ইরানে। রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। সেই হামলার প্রতিবাদে লড়াইয়ের ময়দানে ইরানকে সমর্থন জোগাচ্ছে তেহরান মদতপুষ্ট সশস্ত্রবাহিনীগুলি। কে কোন মারণাস্ত্র ব্যবহার করে শেষ হাসি হাসবে? এই নিয়ে ইতিমধ্যেই দুনিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে তুল্যমূল্য বিশ্লেষণ।
বিশ্বের সামরিক শক্তিধর শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে ‘চিরশত্রু’ দুই দেশই। ‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স’ সমীক্ষক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফৌজিশক্তির নিরিখে একে অপরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ইহুদি ও শিয়া রাষ্ট্র। সামরিক শক্তির নিরিখে তেল আভিভের এক ধাপ নীচেই অবস্থান করছে তেহরান। ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স অনুসারে, ইজ়রায়েল ১৪৫টি দেশের মধ্যে ১৫তম স্থানে রয়েছে। আর ইরানের ফৌজিশক্তির স্থান ১৬।
ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সের নিয়ম অনুযায়ী যে দেশের স্কোর সবচেয়ে কম হবে তার র্যাঙ্কিং তত উঁচুতে থাকবে। সেই স্কোর অনুযায়ী ইজ়রায়েলের প্রাপ্ত নম্বর ০.২৭০৭। আর ইরানের স্কোর ০.৩১৯৯। সে দিক থেকে দেখতে গেলে ইজ়রায়েল এবং ইরান দুই দেশই সামরিক শক্তিতে একে অপরকে টেক্কা দিতে পারে বলে মত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
জনসংখ্যার নিরিখে ইহুদি রাষ্ট্রের তুলনায় পাল্লা ভারী মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরানের। ইরান এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ১৯৪৮ সালে জন্ম হওয়া ইজ়রায়েলের জনসংখ্যা মাত্র ৯৪ লক্ষ। সে তুলনায় ইরানের জনসংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লক্ষ। স্বাভাবিক ভাবেই সৈনশক্তির নিরিখে ইরানের থেকে কয়েক যোজন পিছিয়ে রয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ।
তেহরানের ফৌজিশক্তি ১১ লক্ষ ৮০ হাজার। এ ছা়ড়াও আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল ইরানের সুদক্ষ আধা সেনা ‘ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি। দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বহর নিয়ন্ত্রণ করেন এর ফৌজি জেনারেলরা। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক আইআরজিসি পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে বড় সৈন্যবাহিনী। তাতে রয়েছেন ৬ লক্ষ ১০ হাজার সৈনিক। এ ছাড়াও দু’লক্ষ ২০ হাজার রিজ়ার্ভ বাহিনী রয়েছে তেহরানের হাতে। খামেনেইয়ের নির্দেশে দেশ ও জাতির স্বার্থে যে কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন তাঁরা।
সেই তুলনায় ইজ়রায়েলের হাতে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫০০ সক্রিয় সৈন্য রয়েছে। সৈন্য রিজ়ার্ভের দিক থেকে অবশ্য বেশ শক্তিশালী তেল আভিভ। ইরানের দ্বিগুণ সেনা সংরক্ষিত বাহিনীতে রয়েছে সে দেশের। ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার রিজ়ার্ভ বাহিনীর উপর নির্ভর করে যুদ্ধক্ষেত্রের খেলা ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম ইজ়রায়েল। তেমনটাই মত সমরকুশলীদের।
ইরানের হাতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ়, দু’ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রই রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে ৩,০০০-এরও বেশি। তবে সব ক’টিই মাঝারি ও কম পাল্লার। ইহুদিদের ধ্বংস করতে ইরানের কাজে লাগাতে পারে দু’ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। ৩০০ কিলোমিটার থেকে শুরু করে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটির একাধিক ধরন রয়েছে। এর মধ্যে ছোট ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান থেকে সরাসরি ইহুদি ভূখণ্ডে হামলা করা সম্ভব নয়।
স্বল্পপাল্লার অস্ত্রের মধ্যে, ইরান শাহাব-১ (৩৫০ কিমি) এবং শাহাব-২ (৭৫০ কিমি) ব্যবহার করে। এ ছাড়াও রয়েছে কিয়াম-১, যার পাল্লা ৭৫০ কিমি। সব ক’টিই তরল জ্বালানি দিয়ে চলে। কঠিন জ্বালানি চালিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ফতেহ পরিবারের মধ্যে রয়েছে ফতেহ-১১০ (৩০০ কিমি), ফতেহ-৩১৩ (৫০০ কিমি) এবং জ়োলফা (৭৫০ কিমি)। তবে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার অস্ত্র দিয়ে ইহুদিদের এলাকায় আক্রমণ চালাতে পারে শিয়ামুলুকটি। তার মধ্যে রয়েছে শাহাব-৩, সেজ্জিল, গদর ১১০-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলির পাল্লা ১২০০ থেকে ৩০০০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে।
বায়ুসেনার দিক দিয়ে বিচার করলে অবশ্য তেহরানের থেকে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর ফৌজ। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সের ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, অন্য দিকে ইজ়রায়েলের হাতে সামরিক বিমান রয়েছে ৫৯৭টি। লড়াকু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ২৩৯টি। তুলনায় মোট ৫৫১টি সামরিক বিমান রয়েছে ইরানি বায়ুসেনার কাছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ১৮৮। তবে ইহুদিদের কাছে আমেরিকার তৈরি এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫র মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা ইরানের কাছে নেই। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, আকাশ-যুদ্ধে শিয়াবাহিনীকে বলে বলে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইহুদি সেনার।
১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূর থেকে উড়ে নিখুঁত লক্ষ্যে শত্রুঘাঁটি নিকেশ করতে সক্ষম, এমন কয়েকটি লং রেঞ্জ আর্টিলারির (লরা) অধিকারী নেতানিয়াহুর ফৌজ। গোল্ডেন হরাইজ়ন একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল। অর্থাৎ, এটি আকাশপথে ছোড়া যায় এমন একটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল কাতারের দোহায় হামাসের নেতাদের নিশানা করে সুনির্দিষ্ট বিমানহামলা চালানোর সময় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করেছিল ইজ়রায়েল। শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য রয়েছে ইজ়রায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র লরা।
এ ছাড়াও ইজ়রায়েলি ড্রোনের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। মানববিহীন উড়ুক্কু যান, আত্মঘাতী কামিকাজ়ে ড্রোন হার্মিস-৯০০ ও হেরন, হারোপের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে শত্রুপক্ষ। এই ধরনের হাজারেরও বেশি ড্রোন রয়েছে ইজ়রায়েলি বায়ুসেনার। হেলিকপ্টার এবং হামলাকারী কপ্টারের নিরিখেও এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর ফৌজ। ইহুদি বায়ুসেনার হাতে থাকা এর সংখ্যা যথাক্রমে ১২৭ ও ৪৮। শিয়া সেনার বহরে আছে ১২৯টি হেলিকপ্টার এবং ১৩টি হামলাকারী হেলিকপ্টার।
ট্যাঙ্ক বা সাজোঁয়া যানের দিক থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে ইরান। ইজ়রায়েলের থেকে সামরিক গাড়িও বেশি রয়েছে ইরানের। ২৬৭৫টি ট্যাঙ্ক আছে ইরানের কাছে। ইজ়রায়েলের হাতে রয়েছে ১৩০০ ট্যাঙ্ক। ৭৫ হাজার ৯৪৯টি সামরিক গাড়ি রয়েছে ইরানে। ইজ়রায়েলের সামরিক বাহিনীতে রয়েছে ৬২ হাজার ৩৮০টি গাড়ি। এ ছাড়া ইহুদি ও শিয়া সেনার রকেট লঞ্চারের সংখ্যা যথাক্রমে ২২৮ এবং ১৫৫০।
জলপথেও দু’দেশ তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে নজর দিয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে ১০৯টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে ইরানের নৌবাহিনীর কাছে। ইজ়রায়েলের কাছে সব মিলিয়ে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ৮২। ইরানের কাছে ২৫টি ডুবোজাহাজ রয়েছে। ইজ়রায়েলের ভরসা মাত্র ৬টি ডুবোজাহাজ। আকাশপথে ইজ়রায়েলের সামরিক শক্তি বেশি হলেও জলপথে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইজ়রায়েলের তুলনায় বেশ শক্তপোক্ত। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে নজরদারি চালানোর জন্যই মূলত জলপথে মোতায়েন থাকে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনগুলি। অন্য দিকে মূলত উপকূল পাহারা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত থাকে ইজ়রায়েলের নৌবাহিনীর ছ’টি সাবমেরিন এবং সাতটি আধুনিক কর্ভেট-সহ ৮২টি জাহাজ।
‘স্টকহলোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের গোড়ায় বিশ্বের ন’টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পরমাণু হাতিয়ার রয়েছে। সেই তালিকায় আছে ইজ়রায়েলের নাম। সূত্রের খবর, বর্তমানে ৮০ থেকে ৪০০টি আণবিক অস্ত্র সজ্জিত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইহুদি সেনার অস্ত্রাগারে। অন্য দিকে ইরানের হাতে আপাতত এখনও কোনও পরমাণু অস্ত্র না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ওই মারণাস্ত্র তৈরির মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান। সেই কারণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ শুরু করেছেন সেখানকার প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা। পড়শি দেশের প্রধান নেতানিয়াহুর দাবি, আর কিছু দিনের মধ্যে ন’টি পরমাণু বোমা তৈরি করবে তেহরান।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পর থেকে পরমাণু চুক্তি করতে ইরানের উপর চাপ তৈরি করে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যাতে কোনও ভাবেই আণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে ওয়াশিংটন। শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলি খামেনেইয়ের ঠিকানা লক্ষ্য করে ৩০টি বোমা ফেলে ইজ়রায়েলি লড়াকু জেট। হামলার সময় রাজধানী তেহরানেই ছিলেন তিনি। তাঁর গুপ্ত ঘাঁটি চিহ্নিত হওয়ার পর যুদ্ধবিমান নিয়ে সে দিকে উড়ে যান ইহুদি যোদ্ধা পাইলটেরা।
বিশেষজ্ঞদের সাবধানবাণী, হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধের ফলে আরও বড় সংঘাতের মুখে পড়তে পারে পশ্চিম এশিয়া। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা, ইজ়রায়েলের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহযোগিতার ফলে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। উভয় দেশই ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত অস্ত্রাগার, ড্রোন থেকে শুরু করে উন্নত যুদ্ধবিমান এবং নৌবহরের দিক থেকে আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক শক্তির ভারসাম্য বজায় রেখেছে। পরবর্তী ধাপে আমেরিকার পদক্ষেপ ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি কোন দেশের সমর্থনে ঝুঁকবে তার উপরই নির্ভর করবে ইরান-ইজ়রায়েল দ্বৈরথের ভাগ্য, এমনটাই মনে করছেন সমরকৌশলীরা।