Pakistan Oil Crisis

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে তেলের সঙ্কট এড়াতে পেরেছে ভারত, পারেনি পাকিস্তান! কেন? কারণ জানালেন পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পরভেজ় মালিক। তাঁর দেশের জ্বালানি সঙ্কট প্রসঙ্গে সম্প্রতি একাধিক বার মুখ খুলেছেন তিনি। সেই বিষয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার সুস্পষ্ট পার্থক্যও তুলে ধরেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৭:২৫
Share:
০১ ১৯

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে তেলসঙ্কটের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল। কেন? কারণ জানালেন পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। ভারত তেলসঙ্কট এড়াতে পারলেও কেন তাঁর দেশ পারেনি, সে বিষয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি।

০২ ১৯

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পরভেজ় মালিক। তাঁর দেশের জ্বালানিসঙ্কট প্রসঙ্গে সম্প্রতি একাধিক বার মুখ খুলেছেন তিনি। সেই বিষয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার সুস্পষ্ট পার্থক্যও তুলে ধরেছেন।

Advertisement
০৩ ১৯

ইরান যুদ্ধের পর তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। মালিক উল্লেখ করেছেন, কৌশলগত তেলের মজুত এবং পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারের কারণেই পাকিস্তানের তুলনায় তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল ভারত।

০৪ ১৯

পরভেজ়ের দাবি, ভারতের হাতে থাকা তেলের মজুতের কারণেই হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার পরেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিঘ্নের প্রভাব সামলে নিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু ইসলামাবাদ পারেনি। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্তৃক আরোপিত কঠোর বেলআউট শর্তাবলিকেই দায়ী করেছেন পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী পরভেজ়।

০৫ ১৯

পাকিস্তানের একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে পরভেজ় বলেন, ‘‘ভারতের বিপুল মূল্যের তেলের মজুত যেমন রয়েছে, তেমনই তারা কৌশলগত মজুতও বজায় রাখে। এটি তাদের এই সঙ্কট মোকাবিলায় সাহায্য করে। তা ছাড়া তারা আইএমএফ কর্মসূচির অংশ নয় এবং তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তারা কর কমিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেছে। ভারতের কাছে তা করার মতো আর্থিক সংস্থান ছিল।’’

০৬ ১৯

অন্য দিকে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জনগণকে স্বস্তি দিতে পাকিস্তানকে আইএমএফ-এর সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। তেমনটাই দাবি করেছেন মন্ত্রী। পরভেজ়ের কথায়, ‘‘বাজেট চলাকালীন আইএমএফ এবং অন্য ঋণদাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে মিলে ক্ষতি কমাতে ডিজ়েল ও পেট্রলের উপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান।’’

০৭ ১৯

পরভেজ় আরও বলেন, ‘‘এখন ডিজ়েলের দাম ৩-৪ গুণ বেড়ে যাওয়ায়, আমরা ডিজ়েলের উপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার এবং পুরো বোঝা পেট্রলের উপর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি মোটরবাইক চালকদের নির্দিষ্ট ভর্তুকি দিয়ে সুরক্ষা দিচ্ছি। তবে, আমরা যদি আইএমএফ-এর সঙ্গে আমাদের প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করতাম এবং আমাদের ক্ষতি বাড়িয়ে দিতাম, তা হলে পরিণতি আরও খারাপ হত। আমরা আইএমএফ-এর সঙ্গে গোপনে আলোচনা চালিয়েছি এবং তাদের প্রতি লিটারে ৮০ পাকিস্তানি রুপি শুল্ক কমাতে রাজি করিয়েছি।’’

০৮ ১৯

উল্লেখ্য, পাকিস্তান প্রতি লিটার পেট্রলের দাম পাকিস্তানের মুদ্রায় ৮০ রুপি কমিয়ে ৩৭৮ রুপি করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ বলেছেন, এই মূল্যহ্রাসের অর্থায়ন করা হবে সরকারের পেট্রোলিয়াম শুল্ক থেকে। বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সরকার পেট্রল এবং ডিজ়েল উভয়ের দাম বাড়ানোর ঠিক এক দিন পরেই এই পদক্ষেপ করল ইসলামাবাদ।

০৯ ১৯

তবে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরেও ভারতে পেট্রল এবং ডিজ়েলের দাম তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। নয়াদিল্লি উভয় জ্বালানির উপর প্রতি লিটারে প্রায় ১০ টাকা কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক কমিয়ে মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে, যা ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্যের কারণে লোকসানে থাকা তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে সাহায্য করেছে।

১০ ১৯

এর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতকে সাহায্য করেছে তাদের হাতে থাকা বিশাল বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার। ওই মুদ্রাভান্ডার ব্যবহার করে একাধিক দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে নয়াদিল্লি।

১১ ১৯

আন্তর্জাতিক তেল সঙ্কটের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ‘রিজ়ার্ভ’ এবং জ্বালানি কর ব্যবস্থাও ব্যবহার করেছে ভারত। কিন্তু অন্য দিকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে তৈরি তেল সঙ্কট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দুর্বল অথর্নীতির প্রতিবেশী পাকিস্তানকে।

১২ ১৯

সে প্রসঙ্গই উঠে এসেছে সে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর মুখে। সরাসরি দেশের নিন্দা না করলেও পাকিস্তানের খামতির কথা উঠে এসেছে তাঁর কথায়। পরভেজ় দাবি করেছেন, পাকিস্তানের কাছে তেলের কৌশলগত মজুত নেই। পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমাদের কেবল বাণিজ্যিক মজুত রয়েছে। আমাদের কাছে পাঁচ থেকে সাত দিনের মতো অপরিশোধিত তেল আছে। আর তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির কাছে থাকা পরিশোধিত তেলে ২০-২১ দিন চলতে পারে।’’

১৩ ১৯

এর আগেও ইরান-মার্কিন সংঘাতকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের জ্বালানি মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী পরভেজ়কে।

১৪ ১৯

সম্প্রতি পাক টেলিভিশন চ্যানেল সামা টিভির ‘নাদিম মালিক লাইভ’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে পরভেজ় জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কোনও শেষ দেখতে পাচ্ছেন না তিনি এবং এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

১৫ ১৯

ওই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সীমিত কৌশলগত মজুত এবং জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। উদ্বেগও প্রকাশ করেন ইসলামাবাদের হাতে থাকা অবশিষ্ট তেল নিয়ে।

১৬ ১৯

সাক্ষাৎকার চলাকালীন পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানান, পাকিস্তানে বর্তমানে মাত্র পাঁচ-সাত দিনের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। অন্য দিকে, দেশের এক দিনের চাহিদা মেটাতে পারে, এমন পরিমাণ পেট্রলও মজুত নেই। পুরো বিষয়টি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলেও দাবি করেন পরভেজ়।

১৭ ১৯

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরভেজ়। পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুবাইয়ের অপরিশোধিত তেলের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি মজুত করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি প্রস্তুতি উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়া উচিত ইসলামাবাদের। তাঁর কথায়, ‘‘আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদকে অবশ্যই তার জ্বালানি প্রস্তুতি পুনর্গঠন করতে হবে।’’

১৮ ১৯

জ্বালানি মজুতের বিষয়ে পাকিস্তানের বেহাল দশা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তখনও ভারতের প্রসঙ্গও শোনা গিয়েছিল পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর মুখে। পরভেজ় বলেছিলেন, “আমাদের কোনও তেলের মজুত নেই। আমরা বাণিজ্যিক মজুতের উপর নির্ভর করে চলি। আমরা ভারতের মতো নই, যারা এক ইশারা বা স্বাক্ষরেই ৬০-৭০ দিনের তেলের মজুত পেয়ে যেতে পারে।”

১৯ ১৯

যদিও পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর আশ্বাস, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে চেষ্টা করছে সরকার এবং যেখানে সম্ভব ভর্তুকি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ইরান-মার্কিন সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি সত্ত্বেও পেট্রলের জোগান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ বর্তমান পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন বলেও দাবি পরভেজ়ের। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে হইচই পড়েছে সে দেশে। আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি করানোর আগে দেশের অর্থনীতির দিকে নজর দেওয়া উচিত পাকিস্তানের।

সব ছবি: সংগৃহীত এবং ফাইল থেকে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement