দীর্ঘ ছ’বছরের পড়াশোনা শেষে অবশেষে এমবিবিএস ডিগ্রি হাতে পেলেন। চিকিৎসক হলেন দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলীলা। একের পর এক শুটিং, ছবির প্রচার, বিজ্ঞাপন, অনুষ্ঠানের ব্যস্ততা সামলে ডাক্তারির পড়াশোনা শেষ করেছেন তিনি।
বুধবার সমাজমাধ্যমে শ্রীলীলার ডিগ্রি হাতে পাওয়ার এবং চিকিৎসক হিসাবে শপথগ্রহণের একাধিক ছবি এবং ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। যদিও সেই সব ছবি এবং ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
শ্রীলীলার অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক। তাঁর নাচে মোহিত গোটা দেশ। তেলুগু ছবির পাশাপাশি কাজ করেছেন অন্যান্য ভাষাতেও। এ বারে তাঁর মুকুটে নয়া পালক, অভিনয়ের পাশাপাশি ডাক্তারির শংসাপত্র উঠল তাঁর হাতে। অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন শ্রীলীলা।
২০০১ সালের ১৪ জুন আমেরিকার মিশিগানে জন্ম শ্রীলীলার। বিদেশে জন্ম হলেও পরে তিনি বেঙ্গালুরু চলে আসেন। সেখানেই স্কুল এবং কলেজের পড়াশোনা শেষ করেন।
শ্রীলীলার ‘বাবা’ পেশায় ব্যবসায়ী এবং তাঁর মা এক জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। ‘বাবা’-মায়ের বিচ্ছেদের পর জন্ম হয় শ্রীলীলার। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি।
ছোট থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল শ্রীলীলার। ভরতনাট্যমে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী হিসাবেও জনপ্রিয়তা রয়েছে শ্রীলীলার।
২০১৭ সালে ‘চিত্রাঙ্গদা’ নামের একটি তেলুগু ছবিতে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান শ্রীলীলা। তবে সেই ছবিতে তিনি কাজ করেছিলেন শিশুশিল্পী হিসাবে।
২০১৯ সাল থেকে পুরোদমে অভিনয় শুরু করেন শ্রীলীলা। কন্নড় ছবি ‘কিস্’-এর মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসাবে আত্মপ্রকাশ শ্রীলীলার। পরে তেলুগু ছবি ‘ধমাকা’ তাঁকে জনপ্রিয় করে।
শ্রীলীলার কেরিয়ারের ঝুলিতে রয়েছে ‘কিস্’, ‘পেল্লি সান্দাদি’, ‘বাই টু লভ’, ‘ধমাকা’, ‘স্কন্দা’, ‘ভগবন্ত কেসরী’, ‘আদিকেশব’, ‘গুন্তুর কারাম’, ‘রবিনহুড’, ‘মাস জঠারা’-এর মতো একাধিক দক্ষিণী ছবি।
অল্লু অর্জুন অভিনীত ‘পুষ্পা ২’ ছবিতে আইটেম গান ‘কিসিক’-এ নেচে ঝড় তুলেছিলেন শ্রীলীলা। চলতি বছরের শুরুতে ‘পরাশক্তি’ ছবির মাধ্যমে তামিল সিনেদুনিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তবে ছবিটি বক্সঅফিসে বিশেষ সাফল্য পায়নি।
বর্তমানে শ্রীলীলার হাতে রয়েছে অনুরাগ বসু ও ধনুষের পরবর্তী ছবির কাজ। অনুরাগ বসুর ছবির মাধ্যমেই বলিউডে পা রাখতে চলেছেন শ্রীলীলা। ওই ছবিতে নায়কের চরিত্রে দেখা যাবে কার্তিক আরিয়ানকে।
শোনা যাচ্ছে, ইব্রাহিম আলি খানের সঙ্গেও জুটি বাঁধবেন তিনি। তবে সেই ছবির কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি। ‘উস্তাদ ভগত সিংহ’ নামেও তাঁর একটি তেলুগু ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
সমাজমাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন শ্রীলীলা। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি।
পেশাগত ভাবে পর পর সাফল্যের মুখ দেখলেও শ্রীলীলার ব্যক্তিগত জীবন কণ্টকময়। জীবনে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। এমনকি, শ্রীলীলাকে মেয়ে হিসাবে অস্বীকার করেন তাঁর ‘বাবা’!
শ্রীলীলার ব্যবসায়ী ‘বাবা’ সুরপানেনী শুভকর রাও এবং চিকিৎসক মা স্বর্ণলতা প্রায় দু’দশকের সংসার জীবনের পর আলাদা হয়ে যান। আইনি পদ্ধতিতে বিচ্ছেদ হয় তাঁদের।
শ্রীলীলার মা এক জন সুপরিচিত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুভকরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শ্রীলীলার জন্ম দেন তিনি। এর পর ২০২১ সালের অক্টোবরে একটি সংবাদিক সম্মেলন করেন শুভকর। যদিও তখনও শ্রীলীলা অভিনেত্রী হিসাবে তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করেননি।
সাংবাদিকদের কাছে শুভকর দাবি করেন, তিনি শ্রীলীলার বাবা নন। অভিনেত্রীকে কোনও ভাবেই তাঁর মেয়ে বলা যায় না। কারণ, শ্রীলীলার জন্মের বহু আগে থেকেই স্বর্ণলতা আর তিনি আলাদা থাকছিলেন। এমনকি, অভিনেত্রীর জন্মও তাঁদের বিচ্ছেদের পরে হয়েছে।
একই সঙ্গে শুভকর অনুরোধ করেছিলেন যে, সংবাদমাধ্যম এবং ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে শ্রীলীলাকে যেন তাঁর মেয়ে হিসাবে উল্লেখ না করা হয়। শ্রীলীলার বিষয়ে জানতে চেয়ে তাঁকে যেন বিব্রতও না করা হয়।
শুভকরের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের পরেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি শ্রীলীলার মা। শ্রীলীলার প্রকৃত বাবা কে, তা নিয়েও কখনও কিছু জানাননি স্বর্ণলতা।
এর পর ২০২২ সালে শ্রীলীলার মা তথা প্রাক্তন স্ত্রী স্বর্ণলতার বিরুদ্ধে একটি এফআইআরও দায়ের করেন শুভকর। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর কোরামঙ্গলার বাসভবনের তালা ভেঙে জোর করে প্রবেশ করেছিলেন স্বর্ণলতা।
কানাঘুষো রয়েছে, উপরোক্ত মামলাটি ছাড়াও স্বর্ণলতার বিরুদ্ধে আনেকাল থানায় আরও একটি মামলা হয়েছিল। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জোরপূর্বক ঢুকে রেজিস্ট্রারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও জামিন পেয়ে যান তিনি।