Aogashima

অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণ হারান বহু মানুষ, সেই জীবন্ত আগ্নেয়গিরির মাথায় সংসার ১৭০ জনের! অবাক করবে অগাশিমার ইতিহাস

অগাশিমায় বসতি তৈরির ইতিহাস অজানা। তবে দ্বীপের সিংহভাগ মানুষই জাপানি। হাচিজো-জিমায় রাখা এদো যুগের নথিতে দ্বীপটির উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে ১৬৫২ এবং ১৬৭০ থেকে ১৬৮০ সাল পর্যন্ত আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের কথা লেখা রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১৪:২৩
Share:
০১ ১৪

যেমন সুন্দর, ঠিক ততটাই ভয়ঙ্কর। পদে পদে রয়েছে বিপদ। যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে অঘটন। এ রকম কোনও জায়গার কথা চিন্তা করলে সবার প্রথমে যে জায়গার নাম মাথায় আসবে তা হল অগাশিমা গ্রাম।

০২ ১৪

অগাশিমা একটি ছোট্ট জাপানি গ্রাম। কিন্তু ফিলিপিন্স সাগরের মাঝে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সেই দ্বীপেই লুকিয়ে ভয়ঙ্কর বিপদ। কিন্তু কেন?

Advertisement
০৩ ১৪

কারণ পুরো অগাশিমা দ্বীপটিই রয়েছে একটি আগ্নেয়গিরির উপর। অগাশিমা জাপানের দক্ষিণে উত্তরতম মাইক্রোনেশিয়ায় উপর অবস্থিত একটি আগ্নেয় দ্বীপ। এটি ইজু দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণতম এবং সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ।

০৪ ১৪

উত্তর-পূর্ব ফিলিপিন্স সাগরে থাকা দ্বীপটি ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে অবস্থিত। দ্বীপটি টোকিয়োর মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩৫৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং হাচিজো-জিমা থেকে ৬৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

০৫ ১৪

অগাশিমা দ্বীপে রয়েছে অগাশিমা গ্রাম। সেই গ্রামের প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছে হাচিজো উপ-প্রশাসন, যা আবার টোকিয়ো দ্বারা শাসিত। দ্বীপটির আয়তন ৮.৭৫ বর্গ কিলোমিটার।

০৬ ১৪

২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, দ্বীপটির জনসংখ্যা মাত্র ১৭০। জাপানের যে কোনও এলাকার মধ্যে অগাশিমার জনসংখ্যাই সবচেয়ে কম। অগাশিমা ফুজি-হাকোনে-ইজু জাতীয় উদ্যানেরও একটি অংশ।

০৭ ১৪

অগাশিমা একটি জটিল কোয়াটারনারি আগ্নেয় দ্বীপ, যেখানে একটি আগ্নেয়গিরির মধ্যে অন্য একটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এটি অন্তত চারটি ক্যালডেরা (ক্যালডেরা হল একটি বৃহৎ কড়াই-সদৃশ গহ্বর যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ খালি হওয়ার ঠিক পরেই তৈরি হয়)-র অবশিষ্টাংশ দ্বারা গঠিত।

০৮ ১৪

অগাশিমা দ্বীপটি স্তরীভূত আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত অত্যন্ত খাড়া এবং বন্ধুর পর্বতশ্রেণি দিয়ে পরিবেষ্টিত। এর দক্ষিণ উপকূলও একটি তীক্ষ্ণ শৈলশিরার দিকে উঠে গিয়েছে, যা ইকেনোসাওয়া নামক একটি ক্যালডেরার অংশ।

০৯ ১৪

অগাশিমায় শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল ১৭৮১ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত— চার বছর ধরে। সেই অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন অনেক স্থানীয় মানুষ।

১০ ১৪

তবে মজার বিষয় হল়, জাপান আবহাওয়া সংস্থা এখনও এটিকে ক্লাস-সি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসাবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ, এখন অগাশিমা গ্রামে যত জন রয়েছেন, তাঁরা ঘর করছেন একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির উপরে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে অগাশিমার জুড়ি মেলা ভার।

১১ ১৪

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সমুদ্রে ঘেরা দ্বীপটি জাপানি কাঠপায়রা, প্লেস্কস গ্রাসহফার ওয়ারব্লার, ইজিমাস লিফ ওয়ারব্লার এবং ইজু থ্রাশ পাখির আবাসস্থল। অগাশিমাকে পাখিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসাবেও স্বীকৃতি দিয়েছে পাখিদের নিয়ে কাজ করা অসরকারি সংস্থা ‘বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল’।

১২ ১৪

অগাশিমায় বসতি তৈরির ইতিহাস অজানা। তবে দ্বীপের সিংহভাগ মানুষই জাপানি। হাচিজো-জিমায় রাখা এদো যুগের নথিতে দ্বীপটির উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে ১৬৫২ এবং ১৬৭০ থেকে ১৬৮০ সাল পর্যন্ত আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের কথা লেখা রয়েছে।

১৩ ১৪

১৭৮০ সালের জুলাই মাসে একাধিক ভূমিকম্পে বার বার কেঁপে ওঠে অগাশিমা। ইকেনোসাওয়া ক্যালডেরার হ্রদগুলি থেকে বাষ্প উঠতে দেখা যায়। এর পর ১৭৮১ সালের মে মাসে আবারও ভূমিকম্প হয় ওই এলাকায়। শুরু হয়ে যায় অগ্ন্যুৎপাত।

১৪ ১৪

১৭৮৩ সালের এপ্রিল মাসেও অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল অগাশিমায়। লাভার প্রবাহের কারণে দ্বীপের ৬৩টি পরিবারকেই সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পর ১৭৮৫ সালের এক ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে দ্বীপের ৩২৭ জন বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১৩০-১৪০ জন প্রাণ হারান। অষ্টাদশ শতাব্দীর পর থেকে অগাশিমায় আর কোনও উল্লেখযোগ্য আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেনি।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement