Khan Sir Defamation Case

মাথায় গ্রেফতারির খাঁড়া, আত্মসমর্পণে নারাজ খান স্যরের বিরুদ্ধে দু’কোটি টাকার মামলা মহিলা সাংবাদিকের!

কোচিং সেন্টারে গুলি চালানো, হামলা ও সংঘর্ষের পর এ বার মানহানির মামলা। দিল্লি হাই কোর্টে খ্যাতনামী ইউটিউবার তথা শিক্ষক খান স্যরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠুকেছেন জাতীয় সংবাদমাধ্যমের এক মহিলা সাংবাদিক। দু’কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে আদালতে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১১:৪০
Share:
০১ ১৭

একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন খান স্যর। কোচিং সেন্টারে গুলি চালানোর ঘটনায় বিহারে তাঁর নামে এফআইআর হয়েছে। ঘটনার দিন কী কী ঘটেছিল তা নিয়ে একাধিক বার বয়ান বদল করেছেন। এফআইআরে নাম জুড়তেই পটনা আদালতে আগাম জামিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খ্যাতনামী ইউটিউবার তথা শিক্ষক। কোচিং সেন্টারে গুলি ও সংঘর্ষ হওয়ার পর থেকে একাধিক কাণ্ডে নাম জড়াচ্ছে খান স্যরের।

০২ ১৭

শুধু বিহার নয়, খান স্যরকে নিয়ে বিতর্কের জল এ বার গড়াল দিল্লিতেও। দিল্লি হাই কোর্টে খান স্যরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠুকেছেন জাতীয় সংবাদমাধ্যমের এক মহিলা সাংবাদিক। সাংবাদিক খান স্যরকে নিয়ে টিভি চ্যানেলে একটি প্রতিবেদনে পেশ করার পর সমস্যার সূত্রপাত। প্রতিবেদনে সমালোচনা করায় খান স্যর মানহানিকর মন্তব্য করেন বলে আদালতে নালিশ জানিয়েছেন ওই মহিলা সাংবাদিক।

Advertisement
০৩ ১৭

দু’কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মহিলা সাংবাদিক ছাড়া আরও একটি সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে খান স্যারের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ করা হয়েছে।

০৪ ১৭

খান স্যর, আরও বেশ কয়েক জন শিক্ষাবিদ, কয়েকটি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং একটি নিউজ় প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসে খান স্যর সংবাদিক ও একটি নিউজ় চ্যানেলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন। এমনকি খান স্যরের বক্তব্যে সাংবাদিকের পরিবারের গোপনীয়তা বিপন্ন করা হয়েছে।

০৫ ১৭

২০২৬ সালের ২৯ মে ওই খ্যাতনামী মহিলা সাংবাদিক একটি বিতর্কসভা সঞ্চালনা করার পর এই বিবাদের সূত্রপাত হয়। আলোচনা চলাকালীন তিনি অনলাইন ‘স্টার টিচার’দের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে এবং শিক্ষার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকের দাবি, তিনি নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাননি।

০৬ ১৭

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিডিয়ো, সমাজমাধ্যম পোস্ট এবং সম্প্রচারে সাংবাদিক ও তাঁর চ্যানেলের বিরুদ্ধে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ, ‘বিকিয়ে যাওয়া সাংবাদিক’, ‘চাটুকার’, ‘দালাল’ এবং ‘ভুয়ো সংবাদের আখড়া’ বলে ক্রমাগত প্রচার করে গিয়েছেন খান স্যর ও অন্যান্য কয়েক জন। এ ছাড়াও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে সংবাদিককে অপমান, উপহাস, অবজ্ঞা করে তাঁকে জনসমক্ষে শত্রু বলে দেগে দেওয়া হয়েছে।

০৭ ১৭

গুলি চালানো ও সংঘর্ষ ঘিরে আইন-আদালত নিয়ে নাজেহাল হওয়ার পর পারিবারিক সূত্রেও বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে খান স্যর ওরফে ফয়জ়ল খানের বিরুদ্ধে। এক সংবাদ প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ভাটপার রানি নামের গ্রামে রয়েছে খান স্যরের পৈতৃক ভিটে। সেই সম্পত্তি নিয়েও আত্মীয়দের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন তিনি। অভিযোগ, টাকা ও ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁদের কোণঠাসা করে রেখেছেন খান স্যর ও তাঁর পরিবার।

০৮ ১৭

খান স্যরের কাকা ইমরান বলেন, ‘‘খান ও তাঁর পরিবার খুবই অহঙ্কারী। তাঁরা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। খবরের শিরোনামে আসার জন্য ওঁরা সব কিছু করতে পারেন। পটনার ঘটনাটি এই উচ্চাকাঙ্ক্ষারই ফল। খান চান না তাঁর সামনে অন্য কেউ মাথা তুলে দাঁড়াক।’’ আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা নিশার আহমেদ খানের দাবি, ‘‘খান স্যরের কোনও বিশেষ ডিগ্রি নেই। তিনি শুধু ভাল বক্তা এবং তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন।’’

০৯ ১৭

খান স্যর সম্পর্কে তাঁর প্রতিবেশীরাও ক্ষুব্ধ। তাঁর প্রতিবেশী ধর্মেন্দ্রের অভিযোগ, গ্রামের রাস্তার একটি অংশ নিয়ে বিবাদ ছিল। খান স্যর চাপ সৃষ্টি করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাসিন্দাদের হয়রান করেছেন দীর্ঘ দিন। অভিযোগ, ধর্মেন্দ্রের বাড়ির দেওয়াল জোর করে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এই ধরনের জবরদস্তি তাঁর স্বভাবের মধ্যেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন গ্রামের একাধিক বাসিন্দা।

১০ ১৭

ফয়জ়ল খান ওরফে খান স্যরের কোচিং সেন্টার এবং জ্ঞান বিন্দু কোচিংয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে প্রথমে হাতাহাতি, পরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। খান স্যরের কোচিং ইনস্টিটিউট এবং জ্ঞান বিন্দু কোচিংয়ের সদস্যদের মধ্যে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশে এফআইআর দায়ের করা হয় খান স্যরের বিরুদ্ধে।

১১ ১৭

মঙ্গলবার ২ জুন রাতে গুলি চালানোর ঘটনায় প্রথমে খান স্যরের দাবি ছিল যে, তাঁর কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলি চালানো হয়েছে। কোচিং সেন্টারের বাইরে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে তিনি জানান, রাতে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে তিনি স্পষ্ট ভাবে কিছু বুঝতে পারেননি।

১২ ১৭

এই পরিস্থিতিতে খান স্যরের গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, গুলি চালানোর ঘটনায় প্রথমে জ্ঞান বিন্দু কোচিং সেন্টারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছিল। সেই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক রোশন আনন্দকে গ্রেফতার করে। কিন্তু পরবর্তী কালে পুলিশ তদন্ত করতে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। গুলি চালানোর ঘটনায় দুই পক্ষই জড়িত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

১৩ ১৭

এফআইআর দায়ের হতে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই খান স্যরের আদালতে পৌঁছোনোর খবরে চাঞ্চল্য ছড়ায় আদালত চত্বরে। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন এই নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। শনিবার তাঁর আইনজীবী অরবিন্দ কুমার মাহুয়ার জানান, আগাম জামিনের আবেদন দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে। আইন অনুযায়ী সোমবার আবেদনটি দাখিল করা হবে। খান স্যর আত্মসমর্পণ করবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

১৪ ১৭

ঘটনার পরে হামলা, ভাঙচুর এবং গুলি চালানোর জন্য জ্ঞান বিন্দু কোচিং সেন্টারের পরিচালক রোশন আনন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন খান স্যর। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পটনা পুলিশ প্রতিপক্ষ সেন্টা়রের পরিচালককে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তের পর পটনা পুলিশ জানিয়েছিল, গুলি চালানোর কোনও ঘটনা ঘটেনি। এটি দু’টি কোচিং ইনস্টিটিউটের মধ্যে বিবাদের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছিল পুলিশ। এফআইআরে গুলি চালানোর কোনও অভিযোগও করা হয়নি।

১৫ ১৭

আনন্দ আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেন যে, খান স্যার তাঁকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন। পুলিশের তদন্তে জানা যায় যে, খান স্যরের কেজিএস কোচিং সেন্টারের রক্ষীরাই গুলি চালিয়েছিলেন। পরে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই পরিস্থিতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়েরা।

১৬ ১৭

গোলমালের রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি গুলি চালানোর একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিলেন। অভিযোগ, খান স্যরের কোচিং সেন্টারের কর্মীরা তাঁকে জোর করে মোবাইল ফোন থেকে ভিডিয়োটি মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। তবে, ভিডিয়োটি কোনও ভাবে পরে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

১৭ ১৭

ভাইরাল ভিডিয়োয় খান স্যরের দুই রক্ষীকে গুলি চালাতে দেখা যায়। ভিডিয়োটি পুলিশের নজরে প়ড়তেই মামলাটি সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়েছে। পটনা পুলিশ গুলি চালানোয় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া রক্ষীরা হলেন প্রদীপ ও তালেশ্বর। এই দু’জন নিরাপত্তাকর্মী খান স্যরের কোচিং ইনস্টিটিউটেরই।

ছবি: পিটিআই, সংগৃহীত ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement