Sapna Didi

স্বামীর মৃত্যুর শোধ নিতে দাউদ-হত্যার ছক! হাত মেলান শত্রুর শত্রুর সঙ্গে, ২২ বার কুপিয়ে খুন করা হয় ‘মাফিয়া কুইন’ স্বপ্না দিদিকে

স্বপ্না দিদির আসল নাম ছিল আশরাফ খান। পরে স্বপ্না দিদি নামে পরিচিত হন তিনি। বলা হয়, স্বপ্না ছিলেন মুম্বইয়ের সবচেয়ে নির্ভীক গ্যাংস্টারদের এক জন। দাউদের সঙ্গে সরাসরি শত্রুতা ছিল তাঁর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩
Share:
০১ ২০

মুক্তি পেয়েছে বিশাল ভরদ্বাজের নতুন ছবি ‘ও রোমিও’র টিজ়ার। সেই ঝলকে একেবারে অন্য ভাবে দেখা গিয়েছে ছবির মুখ্য চরিত্র শাহিদ কপূরকে। ছবিতে নাকি খানিকটা প্রেমে পাগল, বদমেজাজি চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। শাহিদের চোখে-মুখে রক্ত, শরীরে উল্কিও দেখা গিয়েছে।

০২ ২০

৯ জানুয়ারি শাহিদের জন্মদিনে ‘ও রোমিও’ ছবির পোস্টার শেয়ার করা হয়। তার পর দিন, শনিবার মুক্তি পায় ছবির ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের টিজ়ার।

Advertisement
০৩ ২০

শাহিদ একা নন, ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তিন নায়িকা— তৃপ্তি ডিমরী, তমন্না ভাটিয়া ও দিশা পটানী। ছবিতে সকলকে চমকে দিতে রয়েছেন ফরিদা জলাল। টিজ়ারে তাঁর মুখে গালিগালাজের সংলাপ।

০৪ ২০

শোনা যাচ্ছে, শাহিদের চরিত্রটি মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হুসেন উস্তারার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।

০৫ ২০

এ-ও শোনা যাচ্ছে, আসন্ন ছবিতে তৃপ্তির চরিত্র অনুপ্রাণিত মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম মহিলা ডন স্বপ্না দিদির থেকে। স্বপ্নাও ছিলেন দাউদের শত্রু। স্বামীর হত্যার প্রতিশোধ নিতে দাউদকে খতম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

০৬ ২০

ছবির টিজ়ার মুক্তির পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্বপ্না দিদিকে নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে নেটাগরিকদের মধ্যে। তিনি কে ছিলেন এবং হুসেন উস্তারার সঙ্গেই বা তাঁর সম্পর্ক কী ছিল, তা জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে নেটপাড়া।

০৭ ২০

স্বপ্না দিদির আসল নাম ছিল আশরাফ খান। পরে স্বপ্না দিদি নামে পরিচিত হন তিনি। বলা হয় স্বপ্না ছিলেন মুম্বইয়ের সবচেয়ে নির্ভীক গ্যাংস্টারদের এক জন। দাউদের সঙ্গে সরাসরি শত্রুতা ছিল তাঁর।

০৮ ২০

বলা হয়, স্বপ্নার স্বামী মেহমুদ খান খুন হয়েছিলেন দাউদের গ্যাং ‘ডি কোম্পানি’র সদস্যদের হাতে। নির্মম ভাবে খুন করা হয় তাঁকে। মেহমুদও ছিলেন গ্যাংস্টার। দাউদ নাকি মেহমুদকে তাঁর হয়ে কাজ করতে বলেছিলেন। কিন্তু রাজি হননি মেহমুদ। এর পরেই খুন হতে হয় তাঁকে।

০৯ ২০

মেহমুদ খুনের পরেই আন্ডারওয়ার্ল্ডে প্রবেশ করেন স্বপ্না। প্রতিজ্ঞা নেন দাউদকে শেষ করার। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাউদকে বেশ কয়েক বার হত্যার ছক কষেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতি বারই ব্যর্থ হন।

১০ ২০

স্বামীর হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের বেতাজ বাদশা দাউদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন স্বপ্না। সে সময়ই সাহায্যের আশায় হুসেন উস্তারার গ্যাংয়ে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

১১ ২০

অনেকে বলেন, লড়াইয়ের কৌশল এবং অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা হুসেনের কাছ থেকেই শিখেছিলেন স্বপ্না। শিখেছিলেন মোটরবাইক চালাতে। শীঘ্রই এক জন রক্ষণশীল মহিলা থেকে কঠোর, নির্ভীক গ্যাংস্টারে পরিণত হন স্বপ্না। বোরখা ছেড়ে জিন্‌স পরা শুরু করেন। মুম্বইয়ের পুরুষশাসিত আন্ডারওয়ার্ল্ডে তিনি হয়ে ওঠেন ‘মাফিয়া কুইন’।

১২ ২০

হুসেনও ছিলেন দাউদের শত্রু। তাই ‘শত্রুর শত্রু বন্ধু’ নীতি মেনে জোট বেঁধেছিলেন হুসেন এবং স্বপ্না। দাউদের উপর বেশ কয়েক বার যৌথ ভাবে আক্রমণও চালিয়েছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি, দাউদের ডানা ছাঁটতে তাঁর অবৈধ ব্যবসাগুলির নেটওয়ার্কও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দাউদ নিয়ন্ত্রিত অনেক ক্লাব এবং বারেরও দখল নিয়েছিলেন।

১৩ ২০

শীঘ্রই মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের রানি হয়ে ওঠেন স্বপ্না। দাউদের ব্যবসার বিরুদ্ধে তাঁর পদক্ষেপ তাঁকে খ্যাতি এবং মানুষের মনে ভীতি— উভয়ই এনে দেয়। শোনা যায়, দাউদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু হুসেন নন, অনেকেই তখন মদত জুগিয়েছিলেন স্বপ্নাকে। তবে নিঃশব্দে কাজ করতেন স্বপ্না। তাই অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে বাগে আনতে পারেননি দাউদ এবং তাঁর ডি কোম্পানি।

১৪ ২০

দাউদের বিরুদ্ধে স্বপ্না দিদির সবচেয়ে দুঃসাহসিক ষড়যন্ত্র ছিল ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে। সে বার শারজায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন দাউদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বপ্না। দাউদ মূলত ভিআইপি এনক্লোজ়ারে বসে খেলা দেখতেন। স্বপ্না ভেবেছিলেন, হাজার হাজার দর্শকের মধ্যে দাউদকে খুন করা সহজ হবে।

১৫ ২০

দাউদকে হত্যার ছক কষে বেশ কয়েক জন দুষ্কৃতীকে নিয়োগও করেছিলেন স্বপ্না। ঠিক করেন তাঁর ভাড়া করা গুন্ডারা ভিআইপিদের বসার জায়গার সামনে থাকবে। অন্য একটি দল খেলার মাঝে হট্টগোল তৈরি করবে।

১৬ ২০

বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সকলের নজর যখন মাঠের দিকে থাকবে, তখন দাউদকে খতম করা হবে। মানুষের মন থেকে দাউদের ভয় শেষ করে স্বপ্নার ভয় ঢোকাতে পুরো হত্যাকাণ্ডটি করা হবে সংবাদমাধ্যমের সামনে। তেমনটাই ছিল স্বপ্নার পরিকল্পনা।

১৭ ২০

তবে স্বপ্নার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। দাউদের দলের কাছে সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। সে কথা জানতে পেরে যান স্বপ্নাও। ফলে শারজায় দাউদকে খুনের পরিকল্পনা বাধ্য হয়ে বাতিল করতে হয় তাঁকে।

১৮ ২০

স্বপ্নাকে পরবর্তী পদক্ষেপ করার সুযোগ দেননি দাউদ। ১৯৯৪ সালে ডি-কোম্পানি হামলা চালায় তাঁর মুম্বইয়ের বাড়িতে। এলোপাথাড়ি ভাবে ২২ বার কোপানো হয় স্বপ্নাকে।

১৯ ২০

রক্তাক্ত ‘মাফিয়া কুইন’ সাহায্যের জন্য প্রতিবেশীদের ডাকলেও নাকি কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। পুলিশ সে সময় জানিয়েছিল, স্বপ্নাকে খুনের ঘটনা ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

২০ ২০

স্বপ্না দিদি আজও মানুষের কাছে এক রহস্যময় নারী। তাঁর দুঃসাহস এবং দাউদকে খতম করার ধনুকভাঙা পণের কারণেই এখনও বহু মানুষের মনে রয়ে গিয়েছেন তিনি। স্বপ্নার বেশি ছবিও পাওয়া যায় না। তাঁর জীবন অনেকের কাছে এখনও রহস্য। সেই স্বপ্না দিদি ওরফে ‘মাফিয়া কুইন’-এর চরিত্রই নাকি ‘ও রোমিয়ো’ ছবিতে ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন তৃপ্তি।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement