কথায় আছে ‘দিল্লি কা লাড্ডু’, খেলেও পস্তাতে হয়, আবার না খেলেও আফসোস। তবে এক বার নয়, তিন বার বিয়ে নামক লাড্ডু চেখে দেখলেন ভারতের এক আইএএস আধিকারিক। মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের এই অফিসার তৃতীয় বারের জন্য বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন বলে খবর। তিন নম্বর বিয়ে সারার পর সেই ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই আইএএস অফিসারের বিয়ে।
মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার অভি প্রসাদ। গত ১১ ফেব্রুয়ারি কুনোর একটি হোটেলে তৃতীয় বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন তিনি। পাত্রী ২০১৭ সালের ব্যাচের অফিসার অঙ্কিতা ঢাকর। রাজ্য প্রশাসনের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে রয়েছেন অঙ্কিতা। অভি প্রসাদ বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ কর্মসংস্থান কাউন্সিলের চিফ এগ্জ়িকিউটিভ অফিসারের পদে কর্মরত।
এ দেশের অন্যতম কঠিন এবং সম্মানজনক পেশা হল আইএএস, আইপিএস বা আইএফএস। সেই পেশায় পা রাখার প্রথম ধাপ হল ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি পরিচালিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করা স্বপ্নের সমান। অন্যতম কঠিন এই পরীক্ষায় সফল হওয়া মুখের কথা নয়! হাই স্কুল বা কলেজের পঠনপাঠন শেষের পর কেরিয়ার গড়তে অনেকেই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।
উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার ২০১৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার অভি প্রসাদ সেই কঠিনতম পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ১৩ নম্বর র্যাঙ্ক করেছিলেন। তবে ইউপিএসসি পাশ করার আগে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।
দেশের অসংখ্য পড়ুয়ার স্বপ্ন ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস অথবা আইপিএস আধিকারিক হওয়া। সেই স্বপ্নপূরণের জন্য প্রয়োজন কঠিন পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়। পরীক্ষায় সফল হওয়ার পথ যথেষ্ট কঠিন। এই কঠিন পথ অতিক্রম করে প্রথমে আইপিএস ও পরে আইএএস আধিকারিক হয়ে স্বপ্নপূরণ করেছিলেন অভি।
সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগে তিনি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কর্মী ছিলেন। অভি ২০১৩ সালে প্রথম বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করেন এবং আইপিএস পদের যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হন। ২০১৪ সালে আরও এক বার সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি যোগ দেন আইএএসে। কাটনির কালেক্টর পদে যোগ দেওয়ার পর শিশুদের অপুষ্টি দূর করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন অভি। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় জেলা কালেক্টর হিসাবে তার কাজের জন্য জনগণের সুনজরেও ছিলেন এই সরকারি আধিকারিক।
একের পর এক বিয়ের কারণে ‘টক অফ দ্য টাউন’ এই সরকারি আমলা। প্রশাসনিক স্তরে কাজ করতে করতে তিন-তিন বার পাত্রী নির্বাচন করেছেন ও ছাঁদনাতলায় গিয়েছেন অভি। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দু’বার বিবাহবিচ্ছেদের পর অভি প্রসাদ আইএএস অফিসার অঙ্কিতাকে বিয়ে করেছেন।
অভির প্রাক্তন দুই স্ত্রীও প্রশাসনিক উচ্চ পদে প্রতিষ্ঠিত। কাকতালীয় ভাবে অভির তিন জীবনসঙ্গীই আইএএস আধিকারিক।
আইএএস অভি প্রসাদের প্রথম বিয়ে হয়েছিল আইএএস অফিসার রিজু বাফনার সঙ্গে। তিনি অভির ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। বর্তমানে শাজাপুর জেলার কালেক্টর পদে কর্মরত অভির প্রথম স্ত্রী রিজু। দিল্লিতে সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতির সময় তাঁদের দু’জনের দেখা হয়েছিল। বিয়ের কয়েক বছর পরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
দ্বিতীয় বার তিনি ২০১৬ ব্যাচের আইএএস অফিসার মিশা সিংহকে বিয়ে করেন। প্রেমের টানে মিশা মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারে চলে আসেন। প্রায় চার বছর পর এই আমলা দম্পতি আলাদা হয়ে যান। মিশা বর্তমানে রতলমের কালেক্টর হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০২৫ সালে তিনি এই দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রশাসনিক পদের প্রতি ছোটবেলা থেকে অভির আগ্রহ তৈরি হলেও তাঁর পরিবারের সঙ্গে রাজনীতির নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধরি চরণ সিংহের সরকারের মন্ত্রী ছিলেন অভির ঠাকুরদা তাম্বেশ্বর প্রসাদ ওরফে বাচ্চা বাবু।
অভি-অঙ্কিতার বিয়ের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল একেবারেই ব্যক্তিগত পরিসরে। শুধুমাত্র ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্যদের উপস্থিতিতে চার হাত এক হয় দু’জনের। মধ্যপ্রদেশের অশোকনগরের বাসিন্দা অঙ্কিতা বর্তমানে রাজ্য সচিবালয়ে উপসচিব পদে রয়েছেন। তাঁর বাবা রবীন্দ্র সিংহ ধাকরে অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা। তিনি মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এসডিএম হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভি প্রসাদ বা অঙ্কিতা ধাকরে কেউই এই বিয়ের প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেননি। সমাজমাধ্যমে ছবিগুলি ছড়িয়ে পড়তেই তা নেটাগরিকদের কৌতূহলের বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অভির তিন স্ত্রীই একই পেশার সঙ্গে যুক্ত।
প্রশাসনিক পদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বা চাকরি সূত্রে আমলাদের প্রেমের উদাহরণ ভূরি ভূরি। সিভিল সার্ভিসের ‘পাওয়ার কাপল’ রয়েছেন অনেকেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী আইএএস এবং স্ত্রী আইপিএস। আবার দু’জনেই আইএএস। কেরিয়ার, দায়িত্ব এবং সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় কী ভাবে রাখতে হয় তার উদাহরণ এই দম্পতিরা।
আইএএস অফিসারদের মধ্যে প্রেম ও বিয়ে অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অভির দুই প্রাক্তন এবং বর্তমান স্ত্রী সকলেই প্রশাসনিক স্তরে কর্মরত। এই বিষয়টিই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে আলোচনার বিষয়বস্তু করে তুলেছে।