গণআন্দোলনকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ ইরান। সাবেক পারস্য দেশে কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারের অবসান চাইছে বিক্ষোভকারী আমজনতা। পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে তাতে ভেনেজ়ুয়েলার মতো তেহরানের কুর্সি বদলে সেনা অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইজ়রায়েলকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকা শেষ পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত নিলে উপসাগরীয় ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রটিকে বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (পিপল্স রিপাবলিক অফ চায়না)? এই প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞমহল।
তেহরান-বেজিং ঘনিষ্ঠতার নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। ঐতিহাসিক ভাবে সাবেক পারস্য দেশটির সঙ্গে ড্রাগনের যে দহরম-মহরম ছিল, এমনটা নয়। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরান ‘একঘরে’ হয়ে পড়লে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় চিন। গত কয়েক দশকে উপসাগরীয় দেশটিতে বিপুল লগ্নি করেছে মান্দারিনভাষীরা। ফলে সেখানে সরকার বদল হলে রাতারাতি ডুবতে পারে বেজিঙের ওই বিনিয়োগ। সে ক্ষেত্রে লোকসানের অঙ্ক ভেনেজ়ুয়েলার থেকে কয়েক গুণ বেশি হবে, বলছেন বিশ্লেষকেরা।
২১ শতকের গোড়া থেকেই ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়াতে থাকে আমেরিকা। পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির দাবি, ঠিক তখনই চুপিসারে সাবেক পারস্য দেশে ‘মেগা এন্ট্রি’ নেয় চিন। ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ৪০ হাজার কোটি ডলারের একটি ২৫ বছরের চুক্তি সারে বেজিং। ঠিক হয় ওই অর্থের পুরোটাই উপসাগরীয় দেশটির জ্বালানি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে খরচ করবে ড্রাগন। প্রবল গণবিক্ষোভে ইরানে শাসনব্যবস্থার বদল হলে মান্দারিনভাষীদের ওই লগ্নি জলে যাওয়ার যে প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলির মতো ইরানের কাছেও আছে খনিজ তেলের বিশাল ভান্ডার। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জেরে সেই ‘তরল সোনা’ উত্তোলন এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা তেহরানের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারস্য সরকারের সঙ্গে হওয়া মেগা চুক্তি অনুসারে সেখানকার জ্বালানি পরিকাঠামো তৈরিতে ২৮ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে চিন। বাকি ১২ হাজার কোটি যাবে বেজিঙের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআরআই প্রকল্পে।
২০২১ সালের ওই মেগা চুক্তির পর সস্তায় ড্রাগনকে ‘তরল সোনা’ বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি করে তেহরান। এর জেরে বর্তমানে পারস্যের শিয়া মুলুকটি থেকে দৈনিক ১৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে পারছে চিন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দিতে সংশ্লিষ্ট ‘তরল সোনা’ সরবরাহ করতে ‘ভূতুড়ে’ পণ্যবাহী জাহাজ ব্যবহার করছে ইরান। অর্থাৎ, ভিন্দেশের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারে খনিজ় তেল বেজিঙের কাছে পাঠাচ্ছে তারা।
নিষেধাজ্ঞার বেড়া টপকে এবং যাবতীয় ঝঞ্ঝাট সামলে ইরানি তেল কেনার নেপথ্যে মান্দারিনভাষীদের আরও একটা স্বার্থ রয়েছে। সেটা হল আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে প্রতি ব্যারেলে ১০ থেকে ১৫ ডলার সস্তায় পারস্যের ওই ‘তরল সোনা’ ঘরে তুলতে পারছে বেজিং। ফলে জ্বালানি খাতে ফি বছর ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হচ্ছে চিনের। সেই অর্থ অনায়াসেই প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও পরিকাঠামো খাতে লগ্নির সুযোগ থাকছে ড্রাগন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের হাতে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তেল কেনার টাকা সরাসরি ইরানকে দিচ্ছে না চিন। কারণ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার জেরে ডলার গ্রহণে অসুবিধা আছে তেহরানের। আর তাই ‘তরল সোনা’ আমদানির অর্থ নিজেদেরই সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অ্যাকাউন্টে পাঠাচ্ছে বেজিং। সেখান থেকে ওই টাকা চলে যাচ্ছে ড্রাগনভূমির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচিতে জড়িত সংস্থাগুলির হাতে। ফলে পারস্য দেশে বিআরআই প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না তাদের।
সূত্রের খবর, ইরানের মূলত তিন ধরনের শিল্পক্ষেত্রে লগ্নি করেছে চিন। তেহরানের খনিজ তেল উত্তোলন পরিকাঠামোর বেশির ভাগটাই বেজিঙের তৈরি। শুধু তা-ই নয়, পারস্যের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘তরল সোনা’ সংস্থাগুলির স্টকের উপরেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আছে ড্রাগনের। পাশাপাশি, উপসাগরীয় দেশটিতে পেট্রোকেমিক্যাল, রাস্তা ও রেলপথ বিস্তারের বিআরআই প্রকল্পে বিনিয়োগ আছে মান্দারিনভাষী সরকার ও একাধিক সংস্থার।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, আগামী দিনে ইরানে শিয়া ধর্মগুরু পরিচালিত সরকার বদলে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দসই ব্যক্তি গদিতে বসলে সেখানে যাবতীয় লগ্নির পাশাপাশি আরও দু’টি বিষয় হারাবে চিন। প্রথমত, সস্তায় খনিজ তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ হবে তাদের। দ্বিতীয়ত, এত দিন তেহরানকে কেন্দ্র করে মধ্য এশিয়ায় ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছিল বেজিং। বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত রাস্তা ও রেলপথ বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে ড্রাগন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের। সেই স্বপ্ন যে মাঠে মারা যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ-হেন পরিস্থিতিতে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঠেকানোর বেশ কয়েকটা বিকল্প আছে চিনের সামনে। সেগুলি হল, রাষ্ট্রপুঞ্জে উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বলে আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকাকে ‘আক্রমণকারী’ হিসাবে তুলে ধরা। এতে রাশিয়া-সহ একাধিক রাষ্ট্রের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হবে বেজিং। তবে পশ্চিম ইউরোপ, জাপান, তাইওয়ান বা দক্ষিণ কোরিয়ার (রিপাবলিক অফ কোরিয়া) মতো প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির পাল্লা ওয়াশিংটনের দিকে ঝুঁকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
তা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ চিনের থেকে অনেকটাই বেশি। ফলে সেখানে মার্কিন বিরোধিতার ঝড় তোলা ড্রাগনের পক্ষে একেবারেই সহজ নয়। সাবেক সেনাকর্তারা মনে করেন, সে ক্ষেত্রে বিকল্প হিসাবে ঘুরপথে ইরানকে আর্থিক ও সামরিক সাহায্য দিয়ে যেতে পারে বেজিং। তাতে ধীরে ধীরে আর্থিক সঙ্কট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে তেহরান। তখন পারস্য দেশটির উপর যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘সুপার পাওয়ার’-এর সঙ্গে বড় আকারের যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার চাপ তৈরির সুযোগ পাবে মান্দারিনভাষীরা।
তবে এর উল্টো যুক্তিও রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন ভেনেজ়ুয়েলার মতো ইরানে আক্রমণ শানানো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মোটেই সহজ নয়। কারণ, ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালানোর জন্য তেহরানের হাতে আছে একাধিক সশস্ত্র সংগঠন, যার মধ্যে প্যালেস্টাইনপন্থী হামাস, হিজ়বুল্লা এবং হুথি গুরুত্বপূর্ণ। এদের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে থেকেও লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজ ও রণতরীগুলিকে নিশানা করতে পারে পারস্যের সেনা কমান্ডারেরা।
বিশ্লেষকদের দাবি, লড়াই শুরু হলে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করবে ইরান। পারস্য উপসাগরের এই এলাকাটি আন্তর্জাতিক খনিজ তেল সরবরাহের অন্যতম ব্যস্ত রুট হিসাবে চিহ্নিত। হরমুজ় আটকে গেলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির পক্ষে বিশ্ববাজারে ‘তরল সোনা’ বিক্রি করা কঠিন হবে। ব্যাহত হতে পারে ২০ শতাংশ তেলের সরবরাহ। তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে এর দাম। সে ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
আর তাই এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ সূত্র উদ্ধৃত করে তেহরান ইস্যুতে মুখ খোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই মাত্র কিছু খবর পেলাম। আর সেটা হল, ওখানে (ইরানে) হত্যা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুদণ্ডও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই বহু মানুষ এটা নিয়ে কথা বলছিল।’’ এই মন্তব্যের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সাবেক পারস্য দেশের সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে তার পরিণাম ভাল হবে না!
গত ২ জানুয়ারি মধ্যরাতে (স্থানীয় সময় রাত ২টো নাগাদ) ভেনেজ়ুয়েলায় আক্রমণ শানায় মার্কিন ফৌজ। ওই সময় রাজধানী কারাকাসে ঢুকে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স। এই সামরিক অভিযানের কোড নাম ছিল ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজ়লভ’ বা চরম সংকল্প। মাদুরো গ্রেফতার হতেই ক্যারিবিয়ান উপকূলের দেশটির বিশাল তৈলভান্ডার নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একের পর এক বিস্ফোরক বিবৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাতেই চিনের কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ।
১৯৯৯ সালে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন বামনেতা উগো চাভেজ়। তিনি ক্ষমতায় আসার পরই অন্য উচ্চতায় ওঠে বেজিং-কারাকাস সম্পর্ক। ফলে লাটিন আমেরিকার দেশটির কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ খুলে যায় ড্রাগনের সামনে। ২০০৫-’১৫ সালের মধ্যে ভেনেজ়ুয়েলার ‘তরল সোনা’ এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের বাজারে মান্দারিনভাষীদের প্রবেশাধিকার দেন চাভেজ়। এটা করা ছাড়া অবশ্য তার সামনে ছিল না কোনও দ্বিতীয় বিকল্প। কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে তত দিনে ‘খোঁড়াতে’ শুরু করেছে কারাকাসের অর্থনীতি।
ক্যারিবিয়ান সাগর সংলগ্ন দেশটির খনিজ তেলে লগ্নি করেই কিন্তু চিন চুপ করে থাকেনি। পরবর্তী কালে পরিকাঠামোগত উন্নতির নামে ভেনেজ়ুয়েলাকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআরআই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসেন ড্রাগন প্রেসিডেন্ট শি। এতে রাস্তা, রেল, সেতু এবং উড়ালপুল নির্মাণের নামে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি ডলার ঢেলেছে বেজিং। পাশাপাশি, অর্থনীতি সচল রাখতে কারাকাসকে বিপুল ঋণ দিতে কার্পণ্য করেনি মান্দারিনভাষীরা।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি দ্য ইউরেশিয়ান টাইমসের কাছে মুখ খোলেন যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের একাধিক অর্থনীতির অধ্যাপক। তাঁদের দাবি, ২০১৬ সালের মধ্যেই চিন থেকে নেওয়া ভেনেজ়ুয়েলার ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাপিয়ে যায়। ফলে বেজিঙের বৃহত্তম ঋণগ্রহণকারীদের তালিকায় একেবারে উপরের দিকে উঠে আসেন কারাকাস। মার্কিন সামরিক অভিযানের পর সেখান থেকে ড্রাগনের পাততাড়ি গোটানো এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা, বলেছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের মতোই এত দিন ভেনেজ়ুয়েলা থেকেও বিপুল পরিমাণে খনিজ় তেল আমদানি করছিল চিন। সাংহাইয়ের গবেষণা সংস্থা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিউচার্স’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক তার পরিমাণ প্রায় আট লক্ষ ব্যারেল। কারাকাসের যাবতীয় বিনিয়োগ ডুবতে বসছে বুঝতে পেরে তেহরানের ব্যাপারে আগেভাগেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বেজিং। সাবেক পারস্য দেশে বহিরাগত শক্তির ‘নাক গলানো’ যে মেনে নেওয়া হবে না, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে ড্রাগন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, কূটনৈতিক স্তরে এই বিবৃতির অর্থ হল ইরানে স্থিতাবস্থা বজায় থাকুক, চাইছে চিন। কিন্তু যে ভাবে বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে তাতে বর্তমান শাসকদের গদি থেকে টেনে নামাতে পারে সেখানকার আমজনতা। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ২,৫০০ জন। বেশ কয়েক জনের হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। এ-হেন উভয়সঙ্কটে পারস্যের জন্য আমেরিকার সঙ্গে বেজিং কোনও বড় সংঘাতে জড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার।