আইপিএল মানেই টাকার বন্যা। বিশ্বের ধনীতম ক্রিকেট লিগ হিসাবে পরিচিত আইপিএল অনেক বছর ধরে ক্রিকেটারদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে। সেই দিন এখন আর নেই যখন ভাল জীবনযাপনের জন্য ক্রিকেটারদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার সুযোগ পাওয়ার উপর নির্ভর করতে হত। এখন আইপিএলে সুযোগ পাওয়াই ক্রিকেটারদের বিলাসবহুল জীবন নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট।
বিভিন্ন দলের সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তিই ক্রিকেটারদের সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। চুক্তির সময় বা নিলামে নতুন করে দর হাঁকার সময় এই অর্থের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এ ছাড়াও দলে ধারাবাহিক ভাবে ভাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে খেলোয়াড়েরা একটি ‘ব্র্যান্ডে’ পরিণত হওয়ার সুযোগ পান, যা তাঁদের উপার্জনের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অর্থ অর্থই নিয়ে আসে। তাই আইপিএলের ক্রিকেটাররা যত বেশি আয় করেন, ততই তাঁরা সেই অর্থ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করতে সক্ষম হন। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়ে ওঠেন তাঁরা।
উপরোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করে দেখে নেওয়া যাক আইপিএল খেলা ১০টি দলের সেরা ধনী খেলোয়াড় কারা। ওই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা চেন্নাই সুপার কিংসের স্তম্ভ মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ‘থালা’র মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১২০০ কোটি।
ধোনিকে আইপিএলের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার হিসাবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তাঁর বন্ধন অটুট। একাধিক ব্যবসাও রয়েছে ধোনির। ক্রীড়াদল এবং লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে অংশীদারিও রয়েছে।
এর পরেই আসে কিং কোহলির নাম। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির মুখ বিরাট। দলের সবচেয়ে ধনী খেলোয়াড়ও তিনিই। কোহলির সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। কোহলিকে নিঃসন্দেহে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বলা যেতে পারে। আরসিবির সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক বিরাটের। এ ছাড়াও অনেক নামীদামি ব্র্যান্ডের প্রচারের মুখ তিনি। ফিটনেস ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং রেস্তরাঁ রয়েছে বিরাটের, যা তাঁর আয় আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক আইপিএলের অন্যতম ধনী খেলোয়াড়ও বটে। কামিন্সের আইপিএল চুক্তি এবং নেতৃত্ব তাঁর আয় ব্যাপক ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি লিগের অন্যতম ধনী বিদেশি খেলোয়াড়। কামিন্সের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৭৮ কোটি টাকা।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সবচেয়ে বিত্তশালী ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। রোহিতের আনুমানিক সম্পত্তির পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দীর্ঘ দিনের অধিনায়ক এবং ভারতের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসাবে রোহিত আইপিএল চুক্তি এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় করেন।
নাইটদের দলে সবচেয়ে ধনী খেলোয়াড় সুনীল নারিন। কেকেআর-এর বোলার অলরাউন্ডার নারিন বহু বছর ধরেই দলের সম্পদ। আইপিএল চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক লিগ খেলে সম্পত্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েছেন তিনি। সুনীলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৬০ কোটি টাকা।
এর পরে তালিকায় রয়েছেন রবীন্দ্র জাডেজা। রাজস্থান রয়্যালসের সবচেয়ে ধনী খেলোয়াড় তিনি। অলরাউন্ডার জাডেজার আনুমানিক সম্পত্তির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। এর আগে দীর্ঘ দিন ধরে চেন্নাই সুপার কিংসের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। তবে এ বছর আবার রাজস্থান রয়্যালসে ফিরেছেন। রাজস্থানের হাত ধরেই আইপিএলে প্রবেশ করেছিলেন জাডেজা।
দিল্লি ক্যাপিটালসের ধনীতম খেলোয়াড় কেএল রাহুল। মাঠের ভিতরে এবং বাইরে সমান ‘স্টাইলিশ’ তিনি। শান্ত স্বভাব এবং আইপিএলে ধারাবাহিক ভাবে ভাল পারফরম্যান্স বড় তারকা বানিয়েছে তাঁকে। বিভিন্ন পণ্যের প্রচারের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। রাহুলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটিরও বেশি।
লখনউ সুপার জায়ান্টস দলের সবচেয়ে বিত্তশালী খেলোয়াড় ঋষভ পন্থ। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি বলে মনে করা হয়। আইপিএলের চুক্তি এবং ব্র্যান্ডের প্রচারের কারণে তিনি বর্তমানে দেশের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার। ভারতের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানও মনে করা হয় তাঁকে।
পঞ্জাব কিংসের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেটার শ্রেয়স আইয়ার। শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত শ্রেয়সের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকা। ক্রিকেট এবং উপার্জন— উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক ভাবে উন্নতি করেছেন তিনি। বর্তমানে আইপিএলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তারকা ক্রিকেটার শ্রেয়স।
এই তালিকার শেষে রয়েছে শুভমন গিলের নাম। গুজরাত টাইটানসের অধিনায়কই সে দলের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেটার। শুভমনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা।