NEET UG Paper Leak Case

রহস্যের সমাধান করল জিজ্ঞাসাবাদের মাঝের একটি ফোন! কে এই ঋষি? বহু হাত ঘুরে কী ভাবে ফাঁস হয়েছিল নিট-এর প্রশ্ন?

তদন্তকারী সূত্রে খবর, তদন্তের সবচেয়ে বড় অগ্রগতিগুলির অন্যতম অমিত মিনার জিজ্ঞাসাবাদ। জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ঋষি’ নামে পরিচিত এক যুবকের কাছ থেকে একটি ফোন আসে অমিতের কাছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১৬:২১
Share:
০১ ২০

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে গোটা দেশে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। গত ৩ মে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি পরীক্ষা হয়। কিন্তু তার পরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ঘটনাচক্রে, ২০২৪ সালেও ঠিক একই রকম ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই এ বার পরীক্ষার ন’দিনের মধ্যে তা বাতিল করে দেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। আগামী ২১ জুন নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

০২ ২০

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে তোলপাড় সারা দেশ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের লাতুরের রেণুকাই কেমিস্ট্রি ক্লাসেস (আরসিসি) কোচিং কেন্দ্রের কর্ণধার শিবরাজ মোতেগাঁওকার তথা ‘এম স্যর’কেও। এই নিয়ে নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

Advertisement
০৩ ২০

ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট-ইউজি ২০২৬) প্রশ্নপত্র ফাঁসের এক জন মাথাকেও (কিংপিন) চিহ্নিত করেছে সিবিআই। তদন্তে জানা গেছে যে পিভি কুলকার্নি নামের ওই ব্যক্তি রসায়নের অধ্যাপক! নিট পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ)-র গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক ছিলেন তিনি। ফলে প্রশ্নপত্র দেখার সুযোগ ছিল তাঁর।

০৪ ২০

এর মধ্যেই খবর, সিবিআই অভিযুক্ত ছাত্র অমিত মিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তদন্তকারীরা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে পেয়েছেন, যা চলমান নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে সহায়ক হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। তেমনটাই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ়১৮-এর প্রতিবেদনে।

০৫ ২০

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় অমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে সিবিআই। তবে সেই জিজ্ঞাসাবাদ নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে বড় মোড় হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। রাজস্থান, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং কেরল জুড়ে ডাক্তারি পড়ুয়া, দালাল, কোচিং অপারেটর এবং প্রশ্নপত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি জটিল নেটওয়ার্কের পর্দাও উন্মোচন করেছেন তদন্তকারীরা।

০৬ ২০

তদন্তকারী সূত্রে খবর, তদন্তের সবচেয়ে বড় অগ্রগতিগুলির অন্যতম অমিত মিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ। জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন ‘ঋষি’ নামে পরিচিত এক যুবকের কাছ থেকে একটি ফোন আসে অমিতের কাছে।

০৭ ২০

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই ফোনে অমিতকে ঋষি জিজ্ঞাসা করেন, “টাকা কেন দেওয়া হয়নি?” ওই অজ্ঞাতপরিচয় অমিতকে আরও বলেন, “আমি তোমাকে ২০২৭ সালে আরও বেশি টাকা আয় করতে সাহায্য করব।”

০৮ ২০

তদন্তকারীরা সঙ্গে সঙ্গে কথোপকথনটির গুরুত্ব বুঝতে পেরে ইশারা করেন অমিতকে। নির্দেশ দেন, ঋষিকে যেন তিনি দেখা করার কথা বলেন। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবক সন্দেহ করতে শুরু করেন এবং হঠাৎ করে ফোনটি কেটে দেন।

০৯ ২০

ঋষি সেই বিওয়াল পরিবারের সদস্য, যে পরিবারটি ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি প্রশ্নপত্র ফাঁসে একটি বৃহত্তর সংগঠিত চক্রের সক্রিয় থাকার সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।

১০ ২০

অন্য দিকে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অমিত নাকি স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ৫ লক্ষ টাকায় নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কিনেছিলেন এবং পরে তা পুনরায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

১১ ২০

তদন্তকারীদের দাবি, অমিত আরও প্রকাশ করেছেন যে ২০২৫ সালের পরীক্ষার পর ঋষি নাকি গর্ব করে তাঁকে বলেছিলেন, “আমার পরিবারের পাঁচ জন সদস্য নিট পাশ করেছে।” কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৬ সালের পরীক্ষার জন্যও আলোচনা প্রায় এক মাস আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর একটি বৃহত্তর তদন্ত শুরু হয়েছে। এ-ও প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি ২০২৫ সালেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল নিট-এর?

১২ ২০

অমিতের বক্তব্যের ভিত্তিতে, তদন্তকারী স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-র একটি দল জয়পুরের জামওয়ারামগড়ে গিয়ে ঋষির বাবা দীনেশ বিওয়ালকে আটক করে। সূত্রের খবর, পুরো কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার বিষয়ে দীনেশের কাছ থেকে তাঁর ভাই মঙ্গিলাল বিওয়ালের নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। এর পর উঠে আসে মঙ্গিলালের পুত্র বিকাশ বিওয়ালের নামও।

১৩ ২০

সাওয়াই মাধোপুরের ডাক্তারি পড়ুয়া বিকাশকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাঁর কাছ থেকে জানা যায় গুরুগ্রামের যশ যাদব এবং নাসিকের শুভম খৈরনার নাম। অভিযোগ, তাঁরা দু’জনেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৪ ২০

কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গিলাল তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রটি নাসিক থেকে ফাঁস হয়েছিল। আর এ বছরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস ছিল হরিয়ানা-ভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ক।

১৫ ২০

জিজ্ঞাসাবাদের সময় উঠে আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হল পরীক্ষার আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছিল নিট-এর প্রশ্নপত্র। বহু বার তা হাতবদল হয়েছে। সিএনএন-নিউজ়১৮-এর হাতে আসা এসওজি-র কেস ডায়েরি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্রটি সিকার থেকে চুরি হয়ে কেরলে অধ্যয়নরত এক ডাক্তারি পড়ুয়ার ছাত্রের কাছেও পৌঁছোয়।

১৬ ২০

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই ছাত্র প্রশ্নপত্রটি পেয়ে তাঁর বাবার কাছে পাঠান। ওই ছাত্রের বাবা সিকারে একটি পিজি (পেয়িং গেস্ট) চালাতেন। ওই ব্যক্তি এর পর প্রশ্নপত্র পিজির পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। পরীক্ষার পর পিজির ছাত্রীরা ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

১৭ ২০

তদন্তকারীদের মতে, ছাত্রীরা পিজির ওই মালিককে বলেছিলেন, ‘‘কাকু পরীক্ষার প্রশ্নগুলো এই প্রশ্নপত্রের মতোই হুবহু মিলে গিয়েছে।’’ এর পরেই নাকি অভিযুক্তদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

১৮ ২০

তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, রাজস্থানের এক সরকারি কর্মচারীর হাতেও পৌঁছেছিল প্রশ্নপত্রটি। তিনি প্রশ্নপত্রটি শশীকান্ত সুথার নামে রসায়নের এক শিক্ষককে দেখান। ওই শিক্ষক রাজস্থানের গুরুকৃপা কোচিং ইনস্টিটিউটের প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ।

১৯ ২০

কর্মকর্তাদের মতে, কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ ওই সরকারি কর্মচারীকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তাঁর সরকারি চাকরি এবং ছেলের ডাক্তারি পরীক্ষায় ভর্তি উভয়ই বিপন্ন হতে পারে।

২০ ২০

পরে ওই কর্মচারী উদ্যোগ নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ফলস্বরূপ, ৭ মে কোচিং ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষকের পক্ষ থেকে কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর কাছে একটি অভিযোগ পাঠানো হয়।

সব ছবি: ফাইল থেকে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement