তামিলনাড়ুতে বিজয়‘রথ’। রাজনীতির ময়দানে আত্মপ্রকাশ করে এবং প্রথম বার নির্বাচন লড়ে তাঁর দল কী করবে, সে দিকে নজর ছিল সারা দেশের। প্রথম বার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেই বৈতরণী পার করেছেন তামিল সুপারস্টার থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)।
দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ ১০০-র বেশি আসনে এগিয়ে ছিল বিজয়ের দল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা আগেই প্রকাশ করেছিলেন বিজয়। মনে করা হচ্ছে সব কিছু ঠিক থাকলে তিনিই হতে চলেছেন তামিলনাড়ুর আগামী মুখ্যমন্ত্রী।
লোকসভা ভোটের আগেই নিজের রাজনৈতিক দল গড়ে নিজের ভক্তদের বড় চমক দিয়েছিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়। দলের নাম তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)।
নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে যোগ দেন বিনোদন জগতের তারকারা। এই চল দক্ষিণ ভারতে নতুন কিছু নয়। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতকে পথপ্রদর্শকও বলা যেতে পারে। বিভিন্ন সময় বিনোদন জগতের তারকারা এসেছেন রাজনীতিতে।
তার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত ছিলেন এমজি রামচন্দ্রন, জয়ললিতা, বৈজন্তিমালা, শিবাজি গণেশনরা। এ ছাড়াও রয়েছেন কমল হাসন, ‘ক্যাপ্টেন’ বিজয়কান্ত, সরথকুমারের মতো তারকারা। এঁদের মধ্যে একাধিক তারকা-রাজনীতিবিদ সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছেন। সে পথেই এগিয়েছিলেন বিজয়ও।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সূচনা হয় বিজয়ের দলের। লোকসভা নির্বাচনের আগে দল খুললেও সেই নির্বাচন লক্ষ্য ছিল না বিজয়ের। লোকসভা ভোটে লড়েনি টিভিকে।
বিজয় পাখির চোখ করেছিলেন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকেই। অর্জুন হয়ে সেই লক্ষ্যভেদ তিনি করতে চলেছেন বলেই মনে হচ্ছে।
বেলা সাড়ে তিনটের হিসাবে তামিলনাড়ুতে ১০৫ আসনে এগিয়ে বিজয়ের দল। সরকার গড়তে দরকার মোট ১১৮ আসন। অর্থাৎ জাদুসংখ্যা থেকে ১৩টি আসন কম রয়েছে টিভিকে-র।
প্রশ্ন উঠছে কার সঙ্গে জোট গড়বেন বিজয়েরা। কংগ্রেস ইতিমধ্যে জোটের প্রস্তাব পাঠিয়েছে অভিনেতার কাছে। বিজয়ের বাবা সে কথা স্বীকার করেছেন।
একটি সূত্র বলছে, এডিএমকে-ও জোটে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে। তামিলনাড়ুতে তারা বিজেপির সঙ্গে লড়ছে। এ দিকে, বিজেপি-কে ‘নীতিগত শত্রু’ বলে দাবি করেছেন বিজয়।
তামিলনাড়ুর ভোট বহু দিন ধরেই দ্বিমুখী লড়াই। ডিএমকে বনাম এডিএমকে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ললিতার দল এডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ছে বিজেপি। তবে এ বারে ভোটের লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তি হিসাবে ঢুকে পড়েছিল বিজয়ের টিভিকে।
জল্পনা ছিল, আসন্ন বিধানসভা ভোটে ডিএমকের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারেন বিজয়। কিন্তু করেননি। বিধানসভা ভোটে একাই লড়েছিল তাঁর দল।
অন্য দিকে, ডিএমকে জোটে লড়ছে কংগ্রেস এবং বামের সঙ্গে। তবে তামিলভূমে এ বার বিশেষ নজর ছিল বিজয়ের দিকে। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই মনে করেছিলেন, তরুণ প্রজন্মের ভোট ঝুঁকছে টিভিকে-র দিকে।
বিজয় লড়েছিলেন তিরুচিরাপল্লি পূর্ব এবং পেরাম্বুর— দু’টি কেন্দ্র থেকে। দু’টি আসনেই জিতছেন তিনি। এগিয়ে রয়েছেন বিপক্ষদের তুলনায়।
বিজয়ের চেন্নাইয়ের বাড়িতে ইতিমধ্যেই উৎসবের আমেজ। একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে (আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি)। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, টিভিতে ভোটগণনা দেখানো হচ্ছে। তা দেখে উচ্ছ্বসিত বিজয়ের পরিবারের সদস্যেরা। তাঁর বাবাকে জড়িয়ে ধরলেন কয়েক জন।
তামিলনাড়ুতে মোট বিধানসভা আসন ২৩৪। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে মাত্র ২০টি আসন ছেড়েছিল এডিএমকে। সেই ভোটে বিপুল জয় পায় ডিএমকে-কংগ্রেস-বামেদের জোট। এর পরে এনডিএ জোট ছেড়েছিল এডিএমকে।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আলাদা ভাবে লড়ে দু’দলেরই ভরাডুবি হয়েছিল। তামিলনাড়ুর ৩৯টি আসনের সব ক’টিতেই জিতেছিল ‘ইন্ডিয়া’। তবে এ বারের ভোটেও এডিএমকে-কে সঙ্গী করেই তামিলভূম জয়ের লক্ষ্যে নেমেছিল বিজেপি।
কিন্তু ফলপ্রকাশ শুরু হতে দেখা যাচ্ছে, সব দলই কার্যত উড়ে গিয়েছে বিজয়-ঝড়ে। ‘মার্শাল’, ‘থুপাক্কি’, ‘মাস্টার’ এবং ‘লিও’র মতো সুপারহিট ছবিতে বিজয়কে দেখেছেন দর্শক। ৫১ বছরের এই অভিনেতার নাচেও মাতোয়ারা অনুরাগীরা। এ বার শুরু হতে পারে তাঁর নতুন ইনিংস। অন্তত তেমনটাই ইঙ্গিত। মনে করা হচ্ছে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় বিজয়কে খুব তাড়াতাড়িই দেখবে সারা দেশ।