El Mencho

মাথার দাম ছিল ১৩৬ কোটি টাকা, করতেন খুন-মানবপাচারও! দুঁদে পুলিশ থেকে ‘ড্রাগ লর্ড’ হওয়া কে এই এল মেঞ্চো?

মেঞ্চোর মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়েছে মেক্সিকোর সরকার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রবিবার জ়ালিস্কোর তাপালপা শহরে সামরিক অভিযানের সময় ‘জ়ালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-র নেতা নেমেসিয়ো নিহত হয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩১
Share:
০১ ১৯

মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর গোপন অভিযানে নিহত কুখ্যাত মাদকসম্রাট এল মেঞ্চো। মেঞ্চোর আসল নাম নেমেসিয়ো রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস। রবিবার তাঁকে খতম করেছে মেক্সিকোর সেনা।

০২ ১৯

মেঞ্চোর মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়েছে মেক্সিকোর সরকারও। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রবিবার জ়ালিস্কোর তাপালপা শহরে সামরিক অভিযানের সময় ‘জ়ালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-র নেতা নেমেসিয়ো নিহত হয়েছেন।

Advertisement
০৩ ১৯

আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপের পরেই মেক্সিকোর বাহিনী নেমেসিয়োর বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিল। মার্কিন গোয়েন্দাদের থেকে তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মেক্সিকো কর্তৃপক্ষও। জানা গিয়েছে, আমেরিকার বিশেষ সামরিক টাস্ক ফোর্স, ‘জয়েন্ট ইন্টারএজেন্সি টাস্ক ফোর্স-কাউন্টার কার্টেল (জেআইটিএফ-সিসি)’ মেক্সিকোর সেনাকে মেঞ্চোর অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল। আমেরিকার বিশেষ টাস্ক ফোর্স মেঞ্চোর মাদক নেটওয়ার্কের মানচিত্র তৈরিতে সহায়তা করেছিল বলেও খবর।

০৪ ১৯

মেঞ্চোর মৃত্যুকে মেক্সিকো এবং আমেরিকা— উভয় দেশের জন্যই ‘বড় উন্নতি’ বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার বিদেশ উপসচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। মেঞ্চোর বিরুদ্ধে অভিযানকে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্ত জুড়ে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলির বিরুদ্ধে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসাবেও তুলে ধরেছেন তিনি।

০৫ ১৯

মেঞ্চোর মৃত্যুর জেরে মেক্সিকো জুড়ে অশান্তি শুরু হয়েছে। আগুন জ্বলছে সে দেশের একাধিক প্রদেশে। সিজেএনজি কার্টেলের সদস্যেরা মিচোয়াকান, গুয়ানাজুয়াতো এবং জ়ালিস্কোর গুয়াদালাজ়ারা-সহ একাধিক শহরে পথ অবরোধ করে যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়ান তাঁরা। আপাতত সেই দেশের একাংশের পরিস্থিতি বেশ গুরুতর।

০৬ ১৯

কিন্তু কে ছিলেন এই মেঞ্চো? কী ভাবেই বা মাদকসম্রাটের তকমা জুড়ল তাঁর মাথায়? আমেরিকার ‘ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি’র মতে, ৫৯ বছর বয়সি এল মেঞ্চো ছিলেন মিচোয়াকানের আগুইলিলার বাসিন্দা।

০৭ ১৯

একসময় মেক্সিকো পুলিশের দুঁদে অফিসার ছিলেন মেঞ্চো। তাঁর নামে কাঁপত অপরাধীরা। কিন্তু পরবর্তী কালে তিনি নিজেই অপরাধজগতে নাম লেখান। ১৯৯০ সালে মাদকপাচারে হাতেখড়ি করেন মেঞ্চো। সেখান থেকে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন মেক্সিকোর অন্যতম কুখ্যাত মাদকসম্রাট।

০৮ ১৯

জ়ালিস্কোর সিজেএনজি কার্টেলের প্রধান ছিলেন মেঞ্চো। আমেরিকায় কোকেন, মেথামফেটামিন এবং ফেন্টানাইল পাচারের অভিযোগ ছিল ওই কার্টেলের বিরুদ্ধে। মেঞ্চো শুধু মাদকপাচারে সিদ্ধহস্ত ছিলেন তেমনটা নয়, খুন, তোলাবাজি, মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ছিল। তাঁর সিজেএনজি কার্টেল বর্তমানে মেক্সিকোর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নির্মম অপরাধী সংগঠন’ হিসাবে বিবেচিত।

০৯ ১৯

মাদকের দুনিয়ায় প্রবেশের পর গ্রেফতারও হয়েছিলেন মেঞ্চো। আমেরিকায় হেরোইন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। প্রায় তিন বছর জেল খাটতেও হয়েছিল।

১০ ১৯

জেল থেকে মুক্তির পর মেক্সিকোর অধুনাপ্রয়াত ‘ড্রাগ লর্ড’ ইগনাসিয়ো করোনেল ভিলারিয়াল ওরফে নাচো করোনেলের অধীনে সংগঠিত অপরাধজগতে আবার যোগদানের জন্য মেক্সিকোয় ফিরে যান মেঞ্চো।

১১ ১৯

করোনেলের মৃত্যুর পর ২০০৭ সালে এরিক ভ্যালেন্সিয়া সালাজ়ার ওরফে ‘এল ৮৫’-এর সঙ্গে যৌথ ভাবে সিজেএনজি কার্টেল তৈরি করেছিলেন মেঞ্চো। সিজেএনজি কার্টেল পরে সিনালোয়া কার্টেল থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং মেক্সিকোর মাদক ব্যবসায় সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়।

১২ ১৯

মেঞ্চোর জন্মদত্ত নাম ছিল রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস। মেক্সিকোর মাদকসম্রাট হওয়ার পর নেমেসিয়ো ‘উপাধি’ গ্রহণ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধজগতের অন্যতম কুখ্যাত মাথাও হয়ে ওঠেন।

১৩ ১৯

মেঞ্চোর নেতৃত্বে সিজেএনজি কার্টেল দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছিল। সিনালোয়া কার্টেলের প্রতিপত্তি কমিয়ে ধীরে ধীরে মেক্সিকোর মাদকপাচারের অন্যতম মুখ্য মাথা হয়ে ওঠে সিজেএনজি।

১৪ ১৯

মেক্সিকোর অপরাধজগতে মেঞ্চোর প্রতিপত্তি ছিল সীমাহীন। তাঁর প্রভাব ছিল রাজনীতিতেও। মেক্সিকোয় মাদকপাচার এবং অপরাধজগতের মুকুটহীন সম্রাট হয়ে ওঠার পরেই আমেরিকার নজরে আসেন মেঞ্চো। আমেরিকার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাতেও নাম তোলেন।

১৫ ১৯

মেঞ্চোর মাথার দাম ১.৫ কোটি ডলার (প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা) ধার্য করেছিল আমেরিকা। আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দাসংস্থা দীর্ঘ দিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল। এর পর মার্কিন গোয়েন্দাদের সূত্রে গোপন খবর পেয়ে রবিবার মেঞ্চোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামে মেক্সিকোর সামরিক বাহিনী। নিহত হন মেঞ্চো-সহ সিজেএনজি কার্টেলের চার সদস্য।

১৬ ১৯

এর পরেই অস্থির হয়ে ওঠে পশ্চিম মেক্সিকোর একাংশ। কার্যত অচল হয়ে পড়ে ওই এলাকাগুলি। পথ অবরোধ করে, গাড়ি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন মেঞ্চোর সমর্থকেরা। দফায় দফায় মেক্সিকোর সেনার সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

১৭ ১৯

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জ়ালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি মেক্সিকোর সরকার জানিয়েছে, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করা হচ্ছে।

১৮ ১৯

আমেরিকা এবং কানাডার বিদেশ মন্ত্রকও জ়ালিস্কো এবং তার আশপাশের শহরগুলিতে থাকা দেশের নাগরিকদের সাবধান এবং সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে। ভিড় এড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লির তরফেও সে দেশে থাকা ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

১৯ ১৯

অন্য দিকে, বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করেছেন, মেঞ্চো হত্যাকাণ্ডের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। দিকে দিকে হিংসা ছড়াতে পারে। উল্লেখ্য, কুখ্যাত মাদকপাচারকারী জোয়াকিন গুজ়ম্যান ওরফে ‘এল চ্যাপো’ এবং ইসমাইল জ়াম্বাদার ওরফে ‘এল মায়ো’র মতো প্রভাবশালী কার্টেল নেতাদের গ্রেফতারির পরেও একই রকম হিংসা ছড়িয়েছিল মেক্সিকো জুড়ে।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement