১৬ বছর আগে বলিপাড়ায় পা রেখেছিলেন। পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও নবাগতা অভিনেত্রী হিসাবে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বিস্তর। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের সঙ্গে যুক্ত থেকে কেরিয়ারের ঝুলিতে খুব কম সংখ্যক ছবি ভরতে পেরেছিলেন তিনি। বড়পর্দায়ও এখন বিশেষ দেখা যায় না তাঁকে। এখন কী করছেন এইচডিএফসি-র প্রাক্তন কর্তার মেয়ে অমৃতা পুরী?
১৯৮৩ সালের অগস্টে মুম্বইয়ে জন্ম অমৃতার। বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। অমৃতার বাবা আদিত্য পুরী এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য এবং নাটকের প্রতি ঝোঁক ছিল অমৃতার।
মুম্বই থেকে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার একটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে স্নাতক হন অমৃতা। পরে গণজ্ঞাপন নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কলেজের পড়াশোনা চলাকালীন তিনি নানা জায়গায় নাটকে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন।
অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়বেন, স্থির করেন অমৃতা। কলেজের গণ্ডি পার হওয়ার পর বাবার পরামর্শ মেনে টানা এক বছর এক বিজ্ঞাপন সংস্থায় ‘কপিরাইটার’ পদে চাকরি করেন তিনি। সেখান থেকেই অভিনয়জগতের পথে হাঁটা শুরু হয় তাঁর।
বিজ্ঞাপন সংস্থায় লেখালিখির কাজ করার সময় বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন অমৃতা। সেখান থেকেই বিভিন্ন নামী সংস্থার বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
২০১০ সালে ‘আয়েশা’ ছবির মাধ্যমে বলিপাড়ায় আত্মপ্রকাশ করেন অমৃতা। সেই ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি। কেরিয়ারের প্রথম ছবিতে অভিনয়ের পর দু’বছর কোনও কাজ করেননি তিনি।
২০১২ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ব্লাড মানি’। এই ছবিতে বলি অভিনেতা কুণাল খেমুর বিপরীতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেন অমৃতা। ২০১৩ সালে ‘কাই পো ছে!’ ছবিতে সুশান্ত সিংহ রাজপুতের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন অমৃতা। ছবিটি বক্সঅফিসে ভাল ব্যবসা করেছিল।
‘কাই পো ছে!’ মুক্তি পাওয়ার পর ছ’বছর আর কোনও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায়নি অমৃতাকে। কানাঘুষো শোনা যায়, সেই সময় ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন নায়িকা।
বলিউডের সঙ্গে যুক্ত হলেও অমৃতা প্রেমে পড়েছিলেন রেস্তরাঁর মালিক ইমরুন শেট্টির। এক ‘কমন ফ্রেন্ড’-এর মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল তাঁদের। পরে দু’জনের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে পরিণতি পায়।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, বেশ কয়েক বছর সম্পর্কে থাকার পর ইমরুনকে বিয়ে করেন অমৃতা। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাইল্যান্ডের ব্যাংককে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ সারেন তাঁরা।
মাঝে কয়েকটি ওয়েব সিরিজ় এবং টেলিভিশনে টুকটাক অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে অমৃতাকে। ছ’বছরের সাময়িক বিরতির পর কঙ্গনা রানাউত এবং রাজকুমার রাও অভিনীত ‘জাজমেন্টাল হ্যায় কয়া’ ছবির মাধ্যমে আবার বড়পর্দায় ফিরে আসেন অমৃতা।
বড়পর্দায় আবার ফিরে এলেও কেরিয়ারে তেমন থিতু হতে পারেননি অমৃতা। ‘জাজমেন্টাল হ্যায় কয়া’ ছবিতে অভিনয়ের পর হাতেগোনা কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু বড়পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে।
২০২৩ সালে ‘নীয়ত’ নামের একটি ক্রাইম থ্রিলার ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান অমৃতা। তার পর আবার বড়পর্দা থেকে ‘উধাও’ হয়ে যান তিনি।
বড়পর্দায় তেমন দেখা না গেলেও ওটিটির পর্দায় চেনা মুখ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন অমৃতা। ‘ফোর মোর শট্স প্লিজ়!’, ‘মেড ইন হেভেন’, ‘মেন্টালহুড’, ‘আইসি ৮১৪: দ্য কন্দহর অ্যাটাক’ নামের ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের পর আর ওটিটির পর্দাতেও দেখা যায়নি অমৃতাকে। বলিউডের জনশ্রুতি, কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি সংসার নিয়েও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন বলি নায়িকা।