মা ছিলেন আশির দশকের ডাকসাইটে সুন্দরী অভিনেত্রী। পরে রাজনীতির মাঠেও নামেন। বাবা বলিপাড়ার প্রযোজক। বলিউডের জনপ্রিয় ছবিনির্মাতা সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর সঙ্গে কেরিয়ারের প্রথম ছবি তারকা-সন্তানের। কিন্তু একটি মাত্র হিন্দি ছবি করেই বলিপাড়া থেকে হারিয়ে গেলেন অনমোল ঠাকেরিয়া ঢিলোঁ। এখন কী করছেন তিনি?
১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্ম অনমোলের। তাঁর মা বলিপাড়ার অভিনেত্রী এবং বিজেপি নেত্রী পুনম ঢিলোঁ। অনমোলের বাবা অশোক ঠাকেরিয়া বলিউডের প্রযোজক। অনমোলের এক বোনও রয়েছেন। তিনি পেশায় নেটপ্রভাবী।
অনমোলের শৈশবে তাঁর বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই অনমোল তাঁর মা এবং বোনের সঙ্গে থাকতেন। অনমোলের কথায়, ‘‘আমার মা দুই সন্তানকে বড় করে তোলার জন্য অনেক ত্যাগ করেছেন। আমার জীবনে তাঁর প্রচুর প্রভাব রয়েছে। তাই বাবার পদবির পাশাপাশি আমি মায়ের পদবিও ব্যবহার করি। আমার মাকে নিয়ে গর্ববোধ হয়।’’
মুম্বইয়ে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর বিদেশে চলে যান অনমোল। অভিনেতা হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না তাঁর। বলি অভিনেতা হৃতিক রোশনকে দেখে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর। অভিনয়ের পাশাপাশি হৃতিকের নৃত্যশৈলী দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন অনমোল।
লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে ‘মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে পড়াশোনা করেন অনমোল। কলেজে পড়াকালীন তিনি এক তরুণীর প্রেমে পড়েন। তাঁর প্রেমিকা অবশ্য বিদেশে থাকতেন না। তিনি ছিলেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা। চ্যাট অথবা ভিডিয়ো কলের মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখতেন তাঁরা। তবে, প্রেমিকাকে ‘সারপ্রাইজ়’ দিতে মিথ্যা কথা বলে সুদূর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে মুম্বই চলে গিয়েছিলেন অনমোল।
পুরনো প্রেমের সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে অনমোল বলেছিলেন, ‘‘আমি তখন বিদেশে পড়াশোনা করতাম। আমার প্রেমিকা থাকত মুম্বইয়ে। ছ’মাস ধরে কোনও দেখা-সাক্ষাৎ ছিল না ওর সঙ্গে। তাই সারপ্রাইজ় দেওয়ার জন্য না জানিয়েই মুম্বই চলে গিয়েছিলাম আমি।’’
বিমানে বহু ক্ষণ থাকার কারণে অনমোলের প্রেমিকা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। মুম্বই বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই অনমোল তাঁর প্রেমিকাকে মিথ্যা কথা বলেছিলেন। অনমোল জানিয়েছিলেন, তাঁর ল্যাপটপ ভেঙে যাওয়ায় দোকানে মেরামতির জন্য দিয়েছিলেন। সে কারণেই প্রেমিকার সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ যোগাযোগ রাখতে পারেননি তিনি।
মিথ্যা বলে বিমানবন্দর থেকে সোজা প্রেমিকার বাড়ির দরজার সামনে হাজির হয়েছিলেন অনমোল। পরে অবশ্য সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় তারকা-পুত্রের। তবে এই মুহূর্তটি ভুলতে পারেননি তিনি।
পড়াশোনা শেষ করে মুম্বই ফিরে যান অনমোল। তাঁর বাবা-মা কখনওই অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়ার জন্য চাপ দেননি বলে জানান অনমোল। মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলতেন তাঁরা। এমনকি, অনমোলের কেরিয়ার তৈরির জন্য স্বজনপোষণের পথেও হাঁটেননি তাঁরা।
২০১৪ সালে ‘ডবল দি ট্রাবল’ নামের একটি পঞ্জাবি ছবিতে গৌণ চরিত্রে অভিনয় করেন অনমোল। একই বছরে ‘দিল হি তো হ্যায়’ নামের হিন্দি ধারাবাহিকে অতিথিশিল্পী হিসাবে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
বড়পর্দায় অভিনয় করবেন বলে নানা জায়গায় অডিশন দিতে শুরু করেন অনমোল। সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর প্রযোজনায় ২০২১ সালে ‘টিউসডেজ় অ্যান্ড ফ্রাইডেজ়’ নামের একটি হিন্দি ছবি মুক্তি পায়। সেই ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান অনমোল।
কেরিয়ারের প্রথম ছবি প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অনমোল বলেছিলেন, ‘‘সঞ্জয় স্যর বহু ছেলেমেয়ের অডিশন নিচ্ছিলেন। আমিও অডিশন দিতে গিয়েছিলাম। পরে নাচ এবং অভিনয়ের কয়েকটি ভিডিয়োও পাঠাতে হয়েছিল। অডিশন থেকে নির্বাচন করে আমায় পছন্দ করা হয়েছিল। বাবা-মা বলিউডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সুযোগ পাইনি। নিজের চেষ্টায় সুযোগ পেয়েছিলাম।’’
ভন্সালীর সঙ্গে কেরিয়ারের প্রথম ছবি। কিন্তু সেই ছবি বক্সঅফিসে বিন্দুমাত্র ব্যবসা করতে পারেনি। প্রথম ছবি মুখ থুবড়ে পড়ার পর অনমোলের কেরিয়ারও অন্ধকারে ডুবে যায়।
বলিপাড়ার অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, বর্তমানে বড়পর্দায় কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না অনমোল। তবে সমাজমাধ্যমের পাতায় নিজেকে সক্রিয় রাখেন তিনি। ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রামের পাতায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ৭১ হাজারের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।
বড়পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ না পেলেও ওটিটির পর্দায় কেরিয়ার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন অনমোল। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রিয়্যাল কাশ্মীর ফুটবল ক্লাব’ নামের ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।