পরিবারের মহিলারা বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করবেন, তা-ও আবার অভিনয়! এ তো ভাবাই যায় না! কড়া শাসনে বন্দি এমন পরিবারেই জন্ম রুচি গুজ্জরের। সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন ফেলেছেন তিনি। কান চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় হেঁটেছেন তিনি। জমকালো পোশাক পরলেও নজর কেড়েছে তাঁর নেকলেস। সেখানে বসানো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখ। তার পর থেকেই রুচির ‘রুচি’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে।
রাজস্থানে জন্ম রুচির। তাঁর পরিবারের অনেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। রুচির বাবাও সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। কিন্তু শৈশব থেকে রুচির আগ্রহ ছিল বিনোদনজগতের প্রতি।
স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে রাজস্থানের জয়পুরের একটি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন রুচি। তার পর স্বপ্নপূরণের জন্য ‘স্বপ্নের নগরী’ মুম্বই পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু বাদ সাধে সমাজ এবং পরিবার।
রুচি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি যে ধরনের রক্ষণশীল পরিবারে থাকেন, সেখানে মহিলাদের বাইরে কাজ করতে যাওয়ার অনুমতি পাওয়াই কঠিন। তার পর রুচি আবার চলচ্চিত্রজগতে কেরিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন। তা ভাল চোখে দেখেননি তাঁর পরিবারের সদস্যেরা।
রুচি জানিয়েছিলেন, সমাজের তির্যক মন্তব্য গায়ে না মেখে মেয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলেন তাঁর বাবা। তিনিই নাকি রাজস্থান থেকে মুম্বই যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন রুচিকে।
রুচি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘আমার মা প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিল। আসলে, আমিই পরিবারের প্রথম মহিলা যে অভিনয় করার জন্য বাড়ির বাইরে পা রেখেছিল। আমি আশপাশের লোকজনের ভুল ধারণা ভাঙতে চাই। সমাজের কাছে নারী হিসাবে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে চাই আমি।’’
রাজস্থান থেকে মুম্বই চলে যান রুচি। কিন্তু বিনোদনজগতে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। রুচি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, মুম্বইয়ে তিনি নানা জায়গায় অডিশন দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সকলেই তাঁকে সিনেমার দ্বিতীয় অভিনেত্রী অথবা অন্য কোনও ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিতেন।
রুচি বলেছিলেন যে, ‘‘আমার বাবা যে হেতু সেনায় ছিলেন, সে হেতু মানুষকে ভাল ভাবে চিনতে শিখিয়েছিলেন। আমি বুঝতে পারি কে মিথ্যা কথা বলছে আর কে সত্য। মানুষ চিনতে ভুল হয় না আমার।’’
রুচি তাঁর মায়ের প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘বাবা তো প্রথম দিন থেকেই আমার পাশে রয়েছে। কিন্তু মা খুব ভয় পাচ্ছিল। মুম্বই গিয়ে বলিউডে কাজ করব শুনেই চমকে গিয়েছিল মা। এখন অবশ্য আমায় নিয়ে খুব গর্ববোধ করে।’’
এখনও পর্যন্ত বড় পর্দায় অভিনয় দেখা যায়নি রুচির। কিন্তু অভিনয়ের জগতে ধীরে ধীরে পরিচিতি গড়তে শুরু করে দিয়েছেন তিনি।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই গানের দু’টি ভিডিয়োয় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে রুচিকে। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে একটি ভিডিয়োয় অভিনয়ের দু’বছর পর ২০২৪ সালে আবার একটি মিউজ়িক ভিডিয়োয় অভিনয় করেন রুচি।
২০২৩ সালে হরিয়ানার এক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন রুচি। বিভিন্ন জায়গায় মডেলিংও করেছেন তিনি।
বলিউডের চেয়েও দক্ষিণের চলচ্চিত্রজগতে বেশি কাজ করতে চান রুচি। ভবিষ্যতে দক্ষিণী ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সোনালি লেহঙ্গা পরে লাল গালিচায় হেঁটেছেন রুচি। সেই লেহঙ্গা তৈরি করেছেন পোশাকশিল্পী রূপা শর্মা। লেহঙ্গা জুড়ে গোটা পাট্টি এবং এমব্রয়ডারির নকশা। লেহঙ্গার সঙ্গে রয়েছে জ়ারদৌজ়ির কাজ করা মানানসই বাঁধনি ওড়না।
তবে রুচির জমকালো লেহঙ্গাকে ছাপিয়ে গিয়েছে তাঁর নেকলেস। তিনি যে নেকলেস পরে ছিলেন সেখানে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখ।
রুচি জানান যে, কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগদান করা তাঁর জীবনের সুবর্ণ অধ্যায়। তাঁর মতে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সারা বিশ্বে অনন্য স্থান অধিকার করেছে ভারত। কান-এর লাল গালিচায় এই নেকলেস পরে মোদীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন তিনি।
রুচির ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চর্চায় রাজস্থানের তরুণী। কেউ রুচির দেশপ্রেম এবং পোশাকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আবার কেউ রুচির ‘রুচি’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সমাজমাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলছেন রুচি। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় রুচির অনুগামীর সংখ্যা আট লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।