Jagan Gurjar

এলাকার ত্রাস, হুমকি দেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ওড়ানোর, মাথার দাম ছিল ১১ লক্ষ! জেলেই খুন চম্বলের সেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’

গুর্জর ছিলেন চম্বলের অন্যতম ত্রাস। একসময় চম্বল নদী তীরবর্তী একাধিক গ্রামে গুর্জরের ব্যাপক আতঙ্ক ছিল। ধোলপুর ডাং এলাকার গিরিখাত বা ‘রাভাইন’ অঞ্চল জুড়ে তার ব্যাপক প্রভাব ছিল। তিনি সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৮:০০
Share:
০১ ১৫

একসময় তাঁর ভয়ে গ্রামে গ্রামে বিয়ে বন্ধ থাকত। কোনও রকম অনুষ্ঠান আয়োজন করতে ভয় পেতেন চম্বল এলাকা সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা। রাজস্থানের অজমের জেলে মৃত্যু হল কুখ্যাত ডাকাত জগন গুর্জরের!

০২ ১৫

রাজস্থানের অজমেরের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে কুখ্যাত ডাকাত জগনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কুখ্যাত ডাকাতের সঙ্গে একই সেলে থাকা এক সহবন্দি তাঁকে প্রথমে মারধর করে পরে খুন করেন। ইতিমধ্যেই খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।

Advertisement
০৩ ১৫

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির রবিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে ঘটেছে। অভিযোগ, একই সেলে থাকা বিষ্ণু নামের এক কয়েদি তোয়ালে দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন গুর্জরকে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য একটি ফরেন্সিক দল কারাগারে পৌঁছোয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়।

০৪ ১৫

অজমেরের পুলিশ সুপার (এসপি) হর্ষবর্ধন অগ্রবাল সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারাগারের ভিতরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। এর জেরেই খুন হন জগন গুর্জর। অভিযুক্ত বিষ্ণু তাঁর সঙ্গে একই সেলে থাকতেন।’’

০৫ ১৫

কারাগারের অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ‘‘সকাল ১১টায় গুর্জর এবং বিষ্ণুকে তাঁদের সেলে আটকে রাখা হয়েছিল। বিকেল ৩টে নাগাদ এক প্রহরী সেখানে গিয়ে গুর্জরের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তাঁর শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন ছিল না।’’

০৬ ১৫

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিষ্ণু গত তিন বছর ধরে ওই উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আর গুর্জরকে চলতি বছরেরই মার্চে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

০৭ ১৫

এসপি হর্ষবর্ধন আবার জানিয়েছেন যে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিষ্ণু স্বীকার করেছেন, তিনি তোয়ালে দিয়ে গুর্জরের শ্বাসরোধ করেছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

০৮ ১৫

গুর্জর ছিলেন চম্বল অঞ্চলের অন্যতম ত্রাস। একসময় চম্বল নদী তীরবর্তী একাধিক গ্রামে গুর্জরের ব্যাপক আতঙ্ক ছিল। ধোলপুর ডাং এলাকার গিরিখাত বা ‘রাভাইন’ অঞ্চল জুড়ে তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং তিনি সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ছিলেন। শোনা যায়, তাঁর ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিয়ে বা অন্য কোনও শুভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে ভয় পেতেন।

০৯ ১৫

রাজস্থানের ধোলপুর জেলার বাসিন্দা গুর্জর। পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৯৪ সালে অপরাধজগতে পা রাখা গুর্জরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হলেও ২০০১ সালে তাঁকে প্রথম বার গ্রেফতার করা হয়। এর পর তাঁকে বেশ কয়েক বার গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং প্রায় প্রতি বারই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

১০ ১৫

দস্যু এবং ডাকাতদের গড় হিসাবে পরিচিত রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশের চম্বল উপত্যকায় সক্রিয় ছিলেন গুর্জর। পুলিশের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত এই ডাকাতের তিন স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জন তাঁর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গীও ছিলেন। কয়েক বছর আগে মধ্যপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন তিনি।

১১ ১৫

রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে গুর্জরের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, তোলাবাজি, অপহরণ এবং অস্ত্র আইনের লঙ্ঘন-সহ বিভিন্ন থানায় ১০০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে রাজস্থানের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের বাসভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

১২ ১৫

সেই সময় গুর্জরকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ। এর ফলে তিনি চম্বল অঞ্চলের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ডাকাতে পরিণত হন। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলটের সামনে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পরে ছাড়াও পেয়ে যান।

১৩ ১৫

এর পর দীর্ঘ দিন পলাতক ছিলেন গুর্জর। ২০১৮ সালের ১৯ অগস্ট বায়নায় ভরতপুর রেঞ্জের তৎকালীন ইনস্পেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) মালিনী অগ্রবালের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। তবে আবার জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

১৪ ১৫

২০১৯ সালের জুনে দুই মহিলাকে মারধর এবং তাঁদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে গুর্জরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে গ্রেফতারের অভিযানে প্রায় ৫০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।

১৫ ১৫

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুর্জরকে আবার গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলায় অভিযোগ ছিল যে তিনি তৎকালীন কংগ্রেস বিধায়ক গিররাজ সিংহ মালিঙ্গাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement