Cost of War In Iran

‘মহাকাব্যিক ক্রোধের’ খেসারত, ইরানে যুদ্ধ চালাতে আমেরিকার খসতে পারে ১,৮৮,৭০,০০,০০,০০,০০০ টাকা!

ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধের খরচ, ঝুঁকি, কৌশল থেকে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। বিপুল ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি, জলের মতো খরচ হচ্ছে জনগণের করের টাকা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৯
Share:
০১ ১৯

ছয় দিন কেটে গিয়েছে। থামার লক্ষণ তো নেই-ই, উল্টে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে জড়ো হওয়া যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। হামলা, পাল্টা হামলায় পুড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চুরমার হচ্ছে সামরিক ঘাঁটি, নাগরিক কাঠামো। বিপুল ক্ষয়ক্ষতি, অসংখ্য প্রাণহানি, জলের মতো খরচ হচ্ছে জনগণের করের টাকা।

০২ ১৯

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার কত সম্পত্তিহানি হয়েছে, কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, তার যে খতিয়ান প্রকাশ করা হয়েছে তা চমকে ওঠার মতো। মার্কিন এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরান-যুদ্ধে প্রতি দিন কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার।

Advertisement
০৩ ১৯

এই যুদ্ধের বিরতির আপাতত কোনও সম্ভাবনাই নেই। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করে নিয়েছেন, আগামী এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে এই যুদ্ধ। আমেরিকার একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে, ইরানে হামলার প্রথম দিনেই আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

০৪ ১৯

ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে যৌথ ভাবে আক্রমণে ঝড় তুলছে ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভ। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’— (মহাকাব্যিক ক্রোধ) চালাতে গিয়ে ওয়াশিংটনের কোষাগার থেকে খরচ হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। ইজ়রায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে রাজধানী তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে।

০৫ ১৯

হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার মিত্রদেশগুলিকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে তারা। নষ্ট হচ্ছে আমেরিকার সম্পদও। একটি যুদ্ধে জড়ালে শুধুমাত্র রণকৌশলই যথেষ্ট নয়, তার জন্য প্রয়োজন প্রভূত অর্থের। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে এই বিশাল পরিমাণ যুদ্ধব্যয় কতটা খাপ খায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ আমেরিকানেরাই।

০৬ ১৯

এক মাস যুদ্ধ চললে সেনাবাহিনী ও সমরাস্ত্রের জন্য মার্কিন ভাঁড়ারে চাপ বাড়বে বই কমবে না। খরচের পরিমাণ বহু গুণ বাড়বে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধের খরচ, ঝুঁকি এবং কৌশল সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। যুদ্ধের পরিকল্পনা, খরচ এব‌ং আমেরিকার নাগরিকদের উপর এই যুদ্ধের প্রভাব কতখানি পড়তে পারে তা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

০৭ ১৯

‘সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’র তথ্য অনুসারে, ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’গুলি (বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও অন্যতম বৃহৎ আব্রাহাম লিঙ্কন) পরিচালনা করতে প্রতি দিন প্রায় ৬৫ লক্ষ ডলার বা ৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়। কারণ এই ধরনের রণতরীগুলি একা ভ্রমণ করে না। সঙ্গে থাকে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ, দূরপাল্লার ইন্টারসেপ্টর ইত্যাদি।

০৮ ১৯

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতেই পারস্য ও ওমান উপসাগরে দু’টি বিমানবাহী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জেরাল্ড আর ফোর্ডও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশ্বের সবচেয়ে দামি যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। ১,৩০০ কোটি ডলার (প্রায় ১ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত এই যুদ্ধজাহাজকে পরিচালনা করার খরচও কম নয়।

০৯ ১৯

এই রণতরীটি দেশ ছেড়ে জলে ভাসলে তার পরিচালনার জন্য প্রতি দিন খরচ হয় প্রায় ৬৫ লাখ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা)। সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের অন্য কর্তাদের হত্যা করতে ওই সব রণতরী ব্যবহার করেছে আমেরিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ যদি ট্রাম্পের কথামতো দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে আমেরিকার অন্তত ২১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার খরচ হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা।

১০ ১৯

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালাতে প্রাক্‌-প্রস্তুতি হিসাবে নামানো হয় বিমান, জাহাজ। সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগেই খরচ হয় ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। বিমানের পুনঃস্থাপন, নৌ-জাহাজ মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সম্পদ একত্রিত করতেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করেছে পেন্টাগন।

১১ ১৯

পেন ওয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক বিশ্লেষক কেন্ট স্মেটার্সের মতে, ট্রাম্প যেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেইমতো যদি ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত ২১ হাজার কোটি ডলার (১৮.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা) ব্যয় করতে হবে।

১২ ১৯

বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছে, এই মুহূর্তে ইরানে যুদ্ধ চালাতে দৈনিক ৫ কোটি ৯৪ লক্ষ ডলার খরচ হচ্ছে আমেরিকার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫৩৭.৩৭ কোটি টাকা। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের যুদ্ধের খরচের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দু’টি পরিসংখ্যান যোগ করলে খরচ দাঁড়ায় ২.৮২ লক্ষ কোটি থেকে ৩.০৪ লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে।

১৩ ১৯

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজ়রায়েলে আক্রমণ করে প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে পণবন্দি করে হামাস। সেই সময় থেকেই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ২১৭০ কোটি টাকার সামরিক সহায়তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইয়েমেন, ইরান ও বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ায় ইজ়রায়েল পরিচালিত একাধিক সামরিক অভিযানের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছে আমেরিকা। এতে ৯৬৫ কোটি থেকে ১২০৭ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে ট্রাম্প সরকারের।

১৪ ১৯

‘একাই ৮টি যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন’ বলে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মরিয়া দাবিদার ট্রাম্পের কথায়, তিনি ইরান যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার থেকেও বেশি দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমেরিকার আছে। সময় যতই লাগুক না কেন, এই যুদ্ধ তিনি চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

১৫ ১৯

নিজের দেশেও স্বস্তিতে নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রাথমিক ভাবে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। তাঁর এই ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দানা বাঁধে বিতর্ক। যদিও পরে ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনুমোদন দেয় মার্কিন সেনেট।

১৬ ১৯

মার্কিন প্রশাসনের এ-ও দাবি, ইজ়রায়েল হামলা চালালে পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার সেনাঘাঁটিগুলিকে নিশানা করতে পারে ইরান। এই আশঙ্কা থেকেই আমেরিকা আগাম হামলা চালিয়েছিল।

১৭ ১৯

যদিও সেই হামলার পর আমেরিকার নৌঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরান। রেডার ব্যবস্থা, যোগাযোগের মাধ্যম ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। উপগ্রহচিত্রে ধ্বংসাবশেষ ধরা পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনহামলাও চালানো হয় বলে অভিযোগ।

১৮ ১৯

ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অংশ নিয়ে ফিরে আসার সময় সোমবার ভোরে পেন্টাগনের ‘স্ট্রাইক ইগল’ স্কোয়াড্রনের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ড্রোন দিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলিকে ভূপতিত করা হয়েছে বলে দাবি করে ইরান। যদিও পরে জানা যায় ভুল করে যুদ্ধবিমানগুলিকে ধ্বংস করে কুয়েত।

১৯ ১৯

ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ‘ট্রুথ’ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘‘(আলোচনায় বসার কথা) আমি বলেছিলাম। কিন্তু এখন খুব দেরি হয়ে গিয়েছে।’’ সেই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে তেহরানও জোর দিয়ে বলেছে যে, আগ্রাসন বন্ধ না হলে তারা পিছু হটবে না।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement