দু’দফার নির্বাচন শেষ। ভোট পড়েছে রেকর্ড সংখ্যক। এখন অপেক্ষা ফলাফলের। চতুর্থ বারের জন্য কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করবে তৃণমূল? না কি বিজেপি সব হিসাব উল্টে দেবে? ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই চলছে সেই নিয়ে আলোচনা। বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও কাটাছেঁড়া চলছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সমীক্ষায় বিজেপি এগিয়ে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে। কোনও কোনও সমীক্ষায় আবার তৃণমূল এগিয়ে।
তবে সর্বত্রই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বিজেপি এবং তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। অন্য দিকে বাংলায় রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়ার কারণে শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী বিজেপি— উভয়েই রাজ্যে সরকার গঠন করবে বলে দাবি করছে।
ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বুথফেরত বা প্রাক্-নির্বাচনী জনমত সমীক্ষা মেলে না। তবে মিলে যাওয়ার কিছু উদাহরণও রয়েছে। বুথফেরত সমীক্ষার মতো আর একটি জায়গার ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে মানুষের মনে। সেটি সাট্টা বাজার।
সাট্টা বাজার ভারতের আইনের চোখে বেআইনি। তবে নিয়মের তোয়াক্কা না করে রমরমিয়ে চলে এই সব সাট্টা বাজারের কারবার। প্রশাসনের নাকের ডগায় বুকিরা বুক ফুলিয়ে চালিয়ে যান বাজি ধরার খেলা।
আলোচনায় সাট্টা বাজারগুলি এলে প্রথমেই যে নামটি আসে তা হল রাজস্থানের ফলোদী বাজার। সাট্টা কারবারিদের মতে, ফলোদী বাজারের ভবিষ্যদ্বাণী অধিকাংশ সময়ই মিলে যায়। সাফল্যের হার ৮০-৮৫ শতাংশ। তাই ভোট মিটতে অনেকের নজর ছিল ফলোদীর সাট্টা বাজারের দিকে।
রাজস্থানের জোধপুরের কাছে একটি ছোট শহর ফলোদী। বাইরে থেকে আর পাঁচটা শহরের মতো হলেও এই শহরের মধ্যেই রয়েছে বিখ্যাত সাট্টা বাজার। ভারতীয় আইনের চোখে সাট্টা বা বাজি ধরা বেআইনি। তাই ফলোদী বাজারের কারবার চলে অন্তরালে। চাইলেই এই বাজারে ঢোকা যায় না।
ফলোদীর সাট্টা বাজার হল এক খোলা রহস্য, যা সব সময়ই শহরটিকে আলোকবৃত্তে নিয়ে আসে। কিন্তু বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, সেখানে প্রতি দিন কোটি কোটি টাকার কারবার চলে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কী বলছে ভারতের অন্যতম সাট্টা বাজার ফলোদী? বুথফেরত সমীক্ষার সঙ্গে কি মিলে যাচ্ছে ফলাফল? না কি অন্য কোনও আভাস দিচ্ছে?
ফলোদী বেটিং মার্কেট অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে এবং প্রথম দফার নির্বাচনের পর বাংলায় তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হচ্ছিল। প্রথম পর্বের পর সাট্টা বাজারের অনুমান ছিল, রাজ্যে ১৫৮-১৬১টি আসন পেয়ে স্বচ্ছন্দে এগিয়ে থাকবে তৃণমূল। আবার সরকার গড়বে ক্ষমতাসীন দল। বিজেপি পাবে ১২৭-১৩০টি আসন।
তবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর সাট্টা বাজারের হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন এসেছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের পর অনুমান করা হচ্ছে, ভারতীয় জনতা পার্টি ১৫০ থেকে ১৫২টি আসন পাবে। তৃণমূল পাবে ১৩৭-১৪০টি আসন। অর্থাৎ, সুবিধাজনক জায়গায় থাকবে বিজেপি। তবে ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির।
অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটের পর বিজেপিকে ১৫০টি আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে ফলোদীর সাট্টা বাজারে। তবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সংখ্যা ওঠানামা করতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসনের দর ২০-২৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৫০ পয়সা হয়েছে, যা আগের চেয়ে দুর্বল অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ফলোদীর সাট্টা বাজারে যে প্রার্থীর দর বেশি, তাঁকে দুর্বল বলে মনে করা হয়।
গত বিধানসভা নির্বাচনে, তৃণমূল প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২১৫টি আসন জিতেছিল। অন্য দিকে ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসনে। কংগ্রেস-বাম জোট প্রায় ১০ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র একটি আসন জিতেছিল।
দেশের বাকি নির্বাচনী রাজ্যগুলি নিয়ে কী বলছে ফলোদীর সাট্টা বাজার? পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরকারবিরোধী মনোভাবের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১৪১-১৪৪টি আসন পেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পিছিয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেরলে প্রাথমিক ইঙ্গিত ক্ষমতার সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকেই যাচ্ছে। কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ৭৫-৭৭টি আসন জিতবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা শাসক দল লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টকে (এলডিএফ) ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে। এলডিএফ ৬২-৬৪টি আসন পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফলোদী সাট্টা বাজারের পূর্বাভাস, অসমে আবার ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে এনডিএ। মনে করা হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৯৭-৯৯টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকবে। কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোট পাবে মাত্র ২৩-২৫টি আসন।
তবে, সাট্টা বাজারের এই অনুমানগুলি অনানুষ্ঠানিক এবং বৈজ্ঞানিক নমুনার পরিবর্তে অনুমানমূলক প্রবণতার উপর ভিত্তি করে করা হয়। সাট্টা বাজার নির্বাচনী মেজাজের একটি মোটামুটি ধারণা দিলেও এর পূর্বাভাসগুলি অনুমান নির্ভর।