কেরিয়ারের প্রথম ছবিতে অভিনয় করেই রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। বিদেশি ছবিতে অভিনয়ের জন্য ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিলেন। কিন্তু সফল অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নপূরণ করার পথে চলা শুরু করেও বলিপাড়া থেকে হঠাৎ ‘নিরুদ্দেশ’ হয়ে গেলেন অরুণা শিল্ডস। অভিনয় ছেড়ে আধ্যাত্মিকতায় ডুবে যান তিনি। বর্তমানে কোথায় রয়েছেন ‘প্রিন্স’ ছবির নায়িকা?
অরুণার পুরো নাম অরুণা লাক্কুর নাগাপ্পা শ্রীনিবাস মূর্তি। তাঁর বাবা ভারতীয় এবং মা ব্রিটেনের বাসিন্দা। বলিপাড়া সূত্রে খবর, প্রাচীন বৈদিক ঋষি মাণ্ডব্যের বংশধর অরুণার বাবা। সেই বংশের সঙ্গে নাকি একটি গোপন সর্প সমাজেরও ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা অরুণার।
ব্রিটেনের সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিন্স থেকে স্নাতক হন অরুণা। গিল্ডহল স্কুল অফ মিউজ়িক অ্যান্ড ড্রামা থেকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণও নেন তিনি। অন্য দিকে, অরুণা একজন দক্ষ জিমন্যাস্ট এবং মার্শাল আর্টসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অভিনয় শেখার পর ব্রিটেনেই নাটকের দলে যুক্ত হন তিনি। সেখান থেকেই বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পান অরুণা।
২০১০ সালে ‘প্রিন্স’ ছবিতে বলি অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের বিপরীতে অভিনয় করেন অরুণা। ছবিতে বাইক স্টান্টের পাশাপাশি সব বিপজ্জনক স্টান্ট তিনি নিজেই করেছিলেন। এই ছবির সুপারহিট গান ‘তেরে লিয়ে’ তাঁর উপস্থিতি দর্শকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। 'প্রিন্স' ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের পর ‘মিস্টার সিং/মিসেস মেহতা’ ছবিতে একটি আবেগঘন চরিত্রে অভিনয় করেন অরুণা।
২০১০ সালে বিদেশি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান অরুণা। ‘আও, দ্য লাস্ট হান্টার’ নামের ফরাসি ভাষার ছবিতে নিজের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য অরুণাকে নাকি প্রাগৈতিহাসিক ভাষাও শিখতে হয়েছিল। সেই ছবিতে অরুণার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। পরে ‘ধাদা’ নামের তেলুগু ভাষার একটি ছবিতে গানের দৃশ্যেও অভিনয় করেন তিনি।
বড়পর্দার অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন অরুণা। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন বাস্তবে পরিণত হতে শুরু করেছিল, তখন সব কিছু ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘কেরিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় আমি ইন্ডাস্ট্রি থেকে অদৃশ্য হয়ে যাই। তখন আমার জীবন বেশ বিভ্রান্তিকর ছিল। একসময় ভাবছিলাম, অভিনয় চালিয়ে যাই। আবার একসময় ভাবছিলাম, থেমে যাই। তবুও সব কিছুর মাঝে আমি যেন মনের আওয়াজ শুনতে চেয়েছিলাম। তাই অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।’’
অভিনয় ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে ‘ট্রান্সেন্ডেন্টাল মেডিটেশন’ নিয়ে চর্চা করেন অরুণা। সাইকোথেরাপি নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শোনা যায়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন অরুণা। ২০১৫ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে আধ্যাত্মিকতা নিয়ে আলোচনাও করতে শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রত্যন্ত এলাকায় অরুণা নিজের ক্লিনিক খুলেছেন। সেখানে বহু সফল ব্যক্তিদের ‘মেন্টর’ হিসাবেও কাজ করেন তিনি। একজন ‘হিপনো-সাইকোথেরাপিস্ট’ হিসাবে সফল হয়েছেন অরুণা। যাঁরা অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ, হঠাৎ পাওয়া খ্যাতির চাপ সামলাতে হিমশিম খান, অরুণা তাঁদের আধ্যাত্মিক বিকাশে সাহায্য করেন।
বংশের সঙ্গে সাপের ইতিহাস জড়িত থাকার কারণে সাপকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শান্ত প্রকৃতির প্রাণী বলে মনে করেন অরুণা। সাপের সংস্পর্শ মানুষকে শান্ত হতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং নিজের ভিতরের শক্তির সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে বলে অরুণার বিশ্বাস। পোষ্য সাপগুলিকে ‘হিলিং পার্টনার’ বা নিরাময়ী সঙ্গী হিসাবে দেখেন তিনি।
মাঝেমধ্যেই সাপকে জড়িয়ে ছবি এবং ভিডিয়ো তুলে সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট করেন অরুণা। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় বলিউড থেকে হারিয়ে যাওয়া অভিনেত্রীর অনুগামীর সংখ্যা ১৮ হাজারের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।
২০২৩ সালে আবার অভিনয়ে ফিরে আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন অরুণা। কিন্তু ২০১২ সালের পর আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের ইতিহাসকে নিজের মধ্যে বহন করে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তেমন পছন্দ করেন না অরুণা। অভিনয় ছেড়ে আধ্যাত্মিকতা, ধ্যান নিয়েই খোশমেজাজে রয়েছেন তিনি। আলোর রোশনাই থেকে দূরে গিয়ে নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন অরুণা।
বলিউডি অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে কোনও নায়িকা নিজেই স্টান্টের দৃশ্যে অভিনয় করছেন, এই ঘটনা প্রায় বিরল ছিল। অরুণা সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছিলেন। বর্তমানে ক্যালিফর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে নির্জনে নতুন পেশা নিয়ে সময় কাটছে তাঁর।