ছবি: সৌমেন দাস।
পূর্বানুবৃত্তি: ‘সপ্তপদী’-র নাট্যরূপের কথা উঠতে সকলের অনুরোধে রিনা ব্রাউনের চরিত্র অভিনয় করে দেখালেন জ্যোৎস্নাদেবী। কৃষ্ণেন্দুর ভূমিকায় পানসদা। শারীরিক অস্বস্তি অগ্রাহ্য করেও দিনের পর দিন অক্লান্ত রিহার্সাল দিয়ে গেলেন জ্যোৎস্নাদেবী। রবি ঠাকুরের গান গেয়ে দরজায় দরজায় ঘুরে ঘুরে সব টিকিট বিক্রি করা হল। সকলকে রান্না করে খাওয়ালেন জ্যোৎস্নাদেবী। ‘ম্যাকবেথ’ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল স্থানীয় সব গণ্যমান্য মানুষজন ও সমাজসেবীদের।
রফিকও চলে এসেছে। মাঝখানে হাসপাতালে ছিল, তখন দেবাশিসরা তার দেখাশোনা করেছে। অনেক দিন পর যাত্রা দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে। বাইরে পৌরসভার সাহায্য নিয়ে বিরাট তাঁবু খাটাতে হয়েছে। হাজার দুয়েক চেয়ার এবং চারটে এলইডি স্ক্রিন লাগানো হয়েছে। মঞ্চের অভিনয় পর্দায় দেখানো হবে। যাঁরা টিকিট পেয়েছেন, নিজের আসনে এসে বসে আছেন। যাঁরা বাইরে স্ক্রিনে দেখছেন, তাঁদের চা-বিস্কুটের ব্যবস্থা করেছে পৌরসভা। রাজনীতির বিভেদও যেন মুছিয়ে দিয়েছে যাত্রা। চেয়ারম্যানকে গেস্ট কার্ড দেওয়া হয়েছিল অনেকগুলো, তিনি বিজিত দলগুলির নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে নব মিনার্ভায় পুরুলিয়ার সবুজ সমারোহে প্রাণ পাচ্ছে বাংলার যাত্রা।
একের পর এক দৃশ্য উত্তীর্ণ হচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহ করতালিতে মুখর। বিষ্ণুপুর কালচারাল আকাদেমি থেকে জয়িতা আর অনিন্দ্য এসেছে। তারা ম্যাডামের পাশে বসেছে। জয়িতা এক সময় বলল, “ম্যাডাম, আপনার শরীর ঠিক আছে তো?”
বুকে একটা অচেনা ব্যথা অনুভব করছেন। দীপ গ্রিনরুমে রয়েছে। সে তো কোনও দিন সাজঘর দেখেনি। রাত বাড়ছে, তাঁর সারা শরীরে এখন কেয়া ফুলের গন্ধ। দীপ থাকলে টের পেত, দীপ তো নেই।
জয়িতা আবার বলল, “ম্যাডাম, শরীর খারাপ লাগছে না তো?”
কোনও ক্রমে হেসে বললেন, “ঠিক আছি। কেমন হচ্ছে?”
অনিন্দ্য, জয়িতা দু’জনে বলল, “খুব ভাল।”
ম্লান হেসে বললেন, “ওরা খুব খেটেছে।”
“আপনি থাকলে আমরাও পারব, ম্যাডাম।”
আর উত্তর দিতে পারছেন না, চার দিকে ঘোর অন্ধকার। চাঁদের আলো আর নেই। কেয়ার সুবাস পাচ্ছেন। রাতের কেয়া, কত মায়া নিয়ে ফুটছে। সর্পদম্পতি হিসহিস শব্দ তুলে বুঝি অন্ধকার বিবরে ঢুকে গেল। তিনিও যেন কোন বিবরে প্রবেশ করলেন। মানুষের করতালির শব্দ শুনছেন।
তনুশ্রীর ক্ষীণ গলা, স্টেজ থেকে বোধহয়। কখনও বিবর, কখনও স্টেজ। কখনও সব প্রেতচ্ছায়া। হারমোনিয়ামে গানের সুর, ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কী সঙ্গীত ভেসে আসে।
আবার তনুশ্রী, আবার লেডি ম্যাকবেথের গলা, “এখনও শোণিতের গন্ধ রয়েছে হাতে, সমস্ত আরব সুগন্ধিতেও আমার হস্ত দুর্গন্ধহীন হবে না। ও, যাও, যাও... কে তোমরা?”
“হাত ধুয়ে ফেলো, রাত্রিবাস পরিধান করো।”
“কে বললে, অর্বাচীন!”
“মলিন হোয়ো না, ব্যাঙ্কো কবর থেকে উঠে আসতে পারবে না।”
হাততালিতে ফেটে পড়ছে প্রেক্ষাগৃহ।
“কে আপনি!” ঘুমঘোরে বললেন জ্যোৎস্নাদেবী।
“আমি তিনকড়ি দাসী। গিরিশবাবুর তিনকড়ি। গিরিশবাবুর সেবিকা।”
“শুধু সেবিকা কেন হবেন! আপনি অভিনেত্রী।”
স্বপ্নের মধ্যে হাসলেন তিনি। সব মিথ্যে।
“ম্যাকবেথ, শক্ত হও।” আবার লেডি ম্যাকবেথের গলা, “তুমিই সব পণ্ড করলে। ভীরু! কোথায় পাপ! রাজসিংহাসন লভিয়াছি। তুমি রাজা, আমি রানি। বাকি সব মিথ্যে।”
“হত্যা, হত্যা। রাজ্য জুড়ে যাবতীয় ভ্রান্তি। হত্যা ব্যতীত আছে কী জগতে!”
“মহাশয় আর অধিক কী নিবেদন করিব!” উদারচরিত ভূতপূর্ব রাজা ম্যাকবেথের হস্তে আত্মসমর্পণ করলেন। তার পর তাঁর নিধন হল। ব্যাঙ্কোও খুন হলেন।
চেয়ারে ঢলে পড়েছেন জ্যোৎস্নাদেবী। দীপ ছুটে এলো, “ঠাম্মু! ঠাম্মু!”
অঝোরে বৃষ্টি নেমেছে বাইরে। ডাক্তার এলেন। শ্বাস আছে এখনও। বুকে চাপ দিচ্ছেন।
বীণাপাণি অপেরার সকলে ঘিরে রয়েছেন। সবাই স্তব্ধ, নির্বাক। তিনি যেন রূপকথার দেবীর মতো এসেছিলেন।
অ্যাম্বুল্যান্স এল। দীপঙ্কর সারা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জননীকে পেয়েছিলেন। তিনি কান্নার আবেগ সামলে রেখে বললেন, “ডাক্তারবাবু, মা বাঁচবেন তো!”
মা ডাকটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য চোখ মেললেন তিনি। মুখে হাসির রেখা।
হাসপাতালের আইসিউ। ইনজেকশন পুশ করলেন ডাক্তার। চোখ মেলে তাকালেন জ্যোৎস্নাদেবী। না, সকাল হয়েছে। রাতের রানি আর নেই। কেয়া ফুলের আবেশটা রয়েছে।
“আমি কোথায়!”
তরুণ ডাক্তার মুখটা সামনে এনে বললেন, “আপনি এখন ভাল আছেন।”
মা ডাকটায় এত পুলক, এত আবেগ! চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে এল। মুছিয়ে দিলেন দীপঙ্কর।
৩৪
এ বার কার্তিকের দশে ছিল লক্ষ্মীপুজো। রোববার, কেমন যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য স্বপ্নের দেশে চলে গেছিলেন। আকাশ আজ কালো। গত রাতের মেঘগুলি ছিল শরতের মতো। বাংলা ক্যালেন্ডার তো এখন দেখা হয় না, তাই জানা ছিল না এ বার দুর্গাপুজো ছিল কার্তিক মাসে। আর লক্ষ্মীপুজো হতে হতে কার্তিকের দশ হয়ে গেল। বৃষ্টি নামল। বেশ অঝোরে। এই সময়ের বৃষ্টি হয়তো তেমন মন্দ নয়, কিন্তু আশ্বিনে যদি ঝড় হয়, ফসলের ক্ষতি হয়। বৃষ্টি যেমন দ্রুত এসেছিল, চলেও গেল।
নার্সকে বললেন, “একটু বেরোব?”
“কোথায় যাবেন?”
“এই সামনে!”
“আমিও যাচ্ছি, চলুন।”
“হাসপাতাল বেশ ফাঁকা লাগছে আজ।”
“অনেকের ছুটি হয়ে গেছে।”
“আমার কবে হবে?”
“ডাক্তারবাবু বলবেন।”
একটু এগিয়ে দেখা গেল আকন্দের ঝোপ। এর পর ওঁরা এলেন মহুয়া আর কদমের কাছে। তার পর জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “এ বার ফিরে যাব।”
বিকেলে ওঁকে ছেড়ে দেওয়া হল।
ডাক্তারবাবু বেশ তরুণ। বললেন, “জীবন বা মৃত্যু আপনার হাতে। পরিশ্রম কম করুন। কয়েক দিন রেস্ট নিন। এখন আর যাত্রা নয়।”
পরের দিন সাধনের গাড়িতে রওনা দিলেন ওঁরা। এখানে সাধন ভাড়া খেটেছে। ফলে পুষিয়ে যাচ্ছে।
গাড়িতে ওঠার সময় সকলে এসেছে। এ এক অশ্রুসজল মুহূর্ত। প্রণাম করছে সকলে একে একে। তিনিও আশীর্বাদ করছেন।
তনুশ্রী বলল, “আবার কবে আসবেন?”
“তোমরা যেয়ো। আমার ফাঁকা বাড়ি তোমাদের পেয়ে খিলখিলিয়ে হেসে উঠবে...” তার পর বললেন, “তোমাদের অনেককে এ বার নেওয়া গেল না, পরের বার কেউ বাদ যাবে না।”
পানস চৌধুরী বললেন, “আমার একটা শেষ ইচ্ছে আছে।... আপনি মঞ্চে একক অভিনয় করবেন পরের বার।”
সকলেই বলে উঠল, “আমরাও তা-ই চাইছি।”
তিনি মৃদু হেসে বললেন, “যদি আবার আসি, তা-ই হবে।”
গাড়ি এগিয়ে গেলে দ্বারকেশ্বর পড়ল। আবার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। দীপঙ্কর বললেন, “মা, চন্দননগর চলো, তোমাকে একা ছাড়া যাবে না।”
সাধনের এই ক’দিনে দীপঙ্কর ও দীপ দু’জনের সঙ্গে সম্পর্ক আর ভালবাসা গাঢ় হয়ে গেছে।
সাধন বলল, “ছেলের কাছে থাকুন ম্যাডাম।”
“আর আমার বাড়ি, মিনার্ভার কী হবে?”
“আমি দেখে রাখব।”
“তোমাকে একটা চাবি দিয়ে রাখব।”
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “ফাল্গুন কবে আসবে?”
“আর তিন মাস। মাঝখানে কার্তিক, অগ্রহায়ণ, মাঘ। কেন মা?”
“আমার দীপের জন্মদিন না!”
দীপ খুশি হল। মায়ের কথা জন্মদিন এলে আরও বেশি করে পড়বে। তবে এ বার ঠাম্মু আছে।
অনেক দিন পর অফিসে গেলেন দীপঙ্কর। বাঁকুড়ার অফিসে তেমন কোনও টান অনুভব করেন না। যাবতীয় আত্মীয়তা রয়ে গেছে মল্লভূমিতে। সে এক অদ্ভুত দেশ। নদী, অরণ্য, বাঁধ, ঘরে ঘরে বিষ্ণুপুরি ঘরানার রেওয়াজ, জনমেজয়ের কাছে যাত্রাপালার পাঠ নেওয়া, নিজের অভিনয় করা আর মায়ের সঙ্গে এক অসাধারণ সখ্য, যার প্রবাহ শুরু হল পুরুলিয়ার ল্যাটেরাইট ভূমিতে। জ্যোৎস্নাদেবী মাত্র কয়েক দিনে পুরুলিয়া জয় করে নিয়েছেন। দীপ পেয়েছে ঠাম্মাকে, মাকে হারানোর বেদনা সে ভুলবে না। তবে তার বদলে পেল এমন এক জন নারীকে, যিনি দীপকে সত্যিকারের পথ দেখাবেন।
অফিস থেকে একটু আগে বেরোলেন দীপঙ্কর। চন্দননগরে নেমে বাজার করলেন। মাশরুম কিনলেন। তার পর ঝিলের ধার দিয়ে আসতে থাকলেন। হঠাৎ বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল।
কেয়া বন, কোথায় গেল কেয়া বন!
সামনের একটা দোকানে জিজ্ঞেস করলেন, “ভাই, কেয়া বনের ঝোপটা কোথায় গেল?”
সে প্রথম বুঝতে না পেরে, পরে বলল, “ও আগাছা! পৌরসভা পরিষ্কার করল। দুটো সাপের আড্ডা হয়েছিল। এক জনকে কেটেওছিল সাপে। সে বেচারা বেঘোরে মারা গেছিল।”
দীপঙ্কর ঝিলের দিকে তাকালেন, আশ্চর্য হয়ে দেখলেন, একটা কলার ভেলায় চেপে সর্পদম্পতি ভেসে চলেছে অজানা কোন দেশে। সর্পিণী এক বার ফণা তুলে যেন দেখল দীপঙ্করকে। খুব মনখারাপ হয়ে গেল দীপঙ্করের। আবছায়া অন্ধকারে আসতে আসতে দেখলেন, এক জন নারী তাঁকে ডাকছে। দীপঙ্কর ঠাহর করার চেষ্টা করলেন, এক সময় মনে হল পল্লবী না! পল্লবীই তো!
তিনি ডাকলেন, “পল্লবী।”
এ বার ছায়ামূর্তি স্পষ্ট হল। কাছে এসে বলল, “আমি পল্লবী নই, আমি অতসী।”
দীপঙ্কর লজ্জা পেয়ে বলে উঠলেন, “দুঃখিত।”
এই প্রথম পল্লবীর জন্য কষ্ট হল দীপঙ্করের। ভালবাসা খুঁজতে গিয়ে পল্লবী শুধু প্রতারিত হয়েছে। লাগামছাড়া লোভ তাকে ধ্বংসের পথে টেনে নামিয়েছিল। একা একা মহাশূন্যে ভাসতে ভাসতে পল্লবী নিশ্চয় আর্ত চিৎকার করেছিল, কিন্তু নদীর জল, রাতের নৈঃশব্দ্য, কেউ তাকে আশ্রয় দেয়নি। দীপঙ্করও কখনও তাকে ভালবাসেননি। সেই ভালবাসা যদি পেত, পল্লবী কি বদলে যেত! ও রকম ভাবে বলা মুশকিল।
বাড়ির কাছে আসতে কেয়ার গন্ধ পেলেন দীপঙ্কর। উঠোনে দাঁড়িয়েছিল মা আর দীপ। পাশে একটা কেয়া গাছের চারা। ফুল আসতে বহু দেরি। কিন্তু গন্ধটা রয়েছে।
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “বেশি দিন লাগবে না, রাতের রানি প্রকাশিত হবে। তাই না দীপ!”
দীপ বলল, “হ্যাঁ বাবা। আমরা নিয়ে এসেছি। কেয়া গাছের চারা।”
“ওরাও কি ফিরে আসবে, মা?”
“সেই সর্পদম্পতির কথা বলছ তো! ওরাও ঠিক আসবে। রাতের রানির টানে ওদের যে আসতেই হবে। তুমি ভয় পেয়ো না, তোমার নবজন্ম হয়েছে। আরও অভিনয় করতে হবে তোমার। যাত্রা, থিয়েটার নতুন অভিনেতাকে দেখবে।”
সর্পদম্পতি আসছে, হিসহিস শব্দ হচ্ছে। একটু পরেই রাত হবে। দীপ জানে, ঠাম্মার গায়ে কেয়া ফুলের গন্ধ। সেই সুবাস, মাত করবে চন্দননগরের গোন্দলপাড়াকে, তার পর হাওয়ায় ছড়াবে। ভ্রমর এসে ফিরে যাবে, কারণ কেয়ার বুকে মধু নেই, বা সেই মধুর খোঁজ এখনও পায়নি কোনও মধুকর।
সর্পদম্পতির হিসহিস শব্দ স্পষ্ট হল।
দীপঙ্কর বললেন, “মা, ওরা ফিরছে।”
“বলেছিলাম তো ওরা ফিরবে তোমার কাছে।”
বুকটা চিনচিন করছে জ্যোৎস্নাদেবীর। বসুন্ধরা যেন বাসুকী মাতা হয়ে তাঁকে ডাকছেন। যেতে হবে এ বার বহু দূরে, অচেনা অনন্তলোকে।
দীপ ডাকল, “ঠাম্মা, ঠাম্মা।”
কোনও সাড়া দিতে পারছেন না জ্যোৎস্নাদেবী।
দীপঙ্কর ডাকলেন, “মা! মা!”
তিনি নিঃস্পন্দ হয়ে রইলেন, আর কোনও সাড়া দিতে পারলেন না।
দীপের বুক ক্রমশ ভরে উঠছে কেয়া ফুলের গন্ধে। কান্না পাচ্ছে ওর।
আবার এক নিঃস্বতার অনুভব আসছে, কিন্তু দীপঙ্কর আর হারবেন না। মৃত্যু যদি কোনও বিরতি হয় তবু মানব-মানবী থাকে, তাদের অবিনশ্বর কায়া পৃথিবীর ভালবাসায় কখনও পুরনো হতে পারে না। ক্ল্যারিয়োনেটের শব্দ বাজছে, অগুনতি মানুষ, কালো কালো মাথা অপেক্ষা করছে। ব্যক্তিশোক ভুলে অভিনেতা স্টেজে যাবে। সে তখন চরিত্র মাত্র।
শেষ
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে