Panihati Municipality

আমন্ত্রণপত্রে নেই প্রতীক-ছবি, পানিহাটিতে দলীয় দ্বন্দ্বে নাকাল তৃণমূল

বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পানিহাটিতে শাসকদলের এ হেন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে দলের অন্দরে চোরাবালির স্রোত ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কাঁটার খোঁচা পানিহাটিতে। তবে, এ বার গোপনে নয়, বরং প্রকাশ্যেই সরব হয়েছেন শাসকদলের পুরপ্রতিনিধিদের অনেকে। দলের শাখা সংগঠনের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রকে ঘিরে তাঁরা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন সমাজমাধ্যমেও। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেন না খোদ তৃণমূলের পুরপ্রধান থেকে একাধিক নেতাও।

বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পানিহাটিতে শাসকদলের এ হেন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে দলের অন্দরে চোরাবালির স্রোত ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর বিরোধীরা বলছেন, ‘‘একনায়কতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এখন তৃণমূলের নিজেদের ঘরেই লড়াই লেগেছে।’’ গত বছরের শেষেও স্থানীয় বিধায়কের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত পানিহাটি উৎসব কমিটির পদে থেকেও উদ্বোধনে যাননি পুরপ্রধান। গরহাজির থেকেছেন একাধিক পুরপ্রতিনিধিও।

পূর্ব ও পশ্চিম পানিহাটি মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে শনি এবং রবিবার স্থানীয় সভাগৃহে বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে লক্ষ্মীর ভান্ডার ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলারা কী ভাবে উপকৃত হয়েছেন, তা তুলে ধরা হবে এবং আগামীর কর্মসূচি স্থির করা হবে বলে একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে স্থানীয় নেতাদের কাছে। জানা যাচ্ছে, চিরকুটের মতো সাদা কাগজে লেখা সেই চিঠির ফোটোকপি করে সকলের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাতে কোনও দলীয় প্রতীক বা দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ছবি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পুরপ্রধান, চেয়ারম্যান পারিষদ, পুরপ্রতিনিধি থেকে নেতারাও। তাঁদের অনেকেই সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন। প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি তথা পূর্ব পানিহাটির সহ-সভাপতি সুব্রত রায় সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, ‘এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি অপ্রাসঙ্গিক’।

এ দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তবে, সেখানে উপস্থিত না থাকার কথা স্বীকার করেছেন পুরপ্রধান সোমনাথ দে, পুরপ্রতিনিধি তথা দলীয় মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী, চেয়ারম্যান পারিষদ তাপস দে-সহ আরও অনেকেই। এই তিন নেতারই দাবি, দলের পরম্পরা মেনে সমস্ত কর্মসূচি বা অনুষ্ঠানের চিঠিতে দলীয় প্রতীক এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকে। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে তা হয়নি। তাঁদের কথায়, ‘‘আমন্ত্রণপত্রে প্রতীক ও ছবি না থাকায় কারও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বলেই মনে হচ্ছে। সেখানে যাওয়া, না যাওয়াটাও আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’’

আমন্ত্রণের চিঠিতে প্রতীক বা ছবি না থাকার বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে দাবি করে নির্মল বলেন, ‘‘চিঠির ছবি তো নেতারা সমাজমাধ্যমে দেননি। তাই মনে হচ্ছে, ভোটের আগে ওঁদের নাম করে কেউ এ সব ভুয়ো পোস্ট করছে।’’ কিন্তু সত্যিই কি তা-ই? নাকি ছাইচাপা আগুন ক্রমশ প্রকট হচ্ছে পানিহাটিতে?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন