পূর্বানুবৃত্তি: বিবাহিত জীবনের কষ্ট আর অপূর্ণতা নিয়ে মন্টুর কাছে আফসোস করে নন্দা। মন্টুকে আর মাছ ধরতে যেতে বারণ করে, তাকে জন্মদিনের পায়েসও খাওয়ায়। অন্য দিকে বিভু সমাদ্দারের একটা অ্যাটাচি ব্যাগ যথাস্থানে পৌঁছে দিতে রওনা হয়েছে ভুজঙ্গ। যাওয়ার পথে একটা সাদা এসইউভি-তে এক অসাধারণ সুন্দরীকে দেখে শরীর আনচান করে ওঠে তার। এই শরীরঘটিত কারণেই একবার গণপিটুনির শিকার হতে যাচ্ছিল ভুজঙ্গ। সে সময় বিভুই বাঁচায় তাকে। তার পর থেকে নিজের কাজে লাগিয়েছে ভুজঙ্গকে। সাদা-কালো নানা কারবারে প্রচুর টাকা করেছে বিভু। তারাকান্ত মজুমদারের জুতোর দোকান ‘পদপল্লব’-এ সেল্সম্যানের চাকরিটাও বিভুরই করে দেওয়া। ভুজঙ্গর নাড়িনক্ষত্র সব জানে ও। ভুজঙ্গ জানে ওর হাত এড়ানো কঠিন।
বিভুর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নাদিয়ে ভুজঙ্গ জানতে চাইল, “তোকে কে বলল?”
“রূপেশ বলেছে। তার অনেক লস করিয়ে দিয়েছিলি তুই। ওকে কোনও দিন মুখ দেখাতে যাস না। বাদ দে... মনে কর আমি এটা জানি না। জানলেও আমার থেকে কেউ জানবে না। আসলে কী জানিস তো, আমার একটা খুব পাওয়ারফুল নেটওয়ার্ক আছে। আমার সিগন্যালে সব ধরা পড়ে। পুরো এরিয়া জুড়ে সার্ভার বসিয়ে রেখেছি। ওরাই খবর চালাচালি করে। কী করব, গরিব মানুষ, ব্যবসা করে খেতে গেলে সব খবর রাখতে হয়।”
“তোর তেল বিক্রির বিজ়নেস, নেটওয়ার্ক তোর কিসের দরকার?”
“হুঁ, লাইনে আয়, বুঝবি। নেটওয়ার্ক দিয়ে অনেক কিছু হয়। ছাড়... আমার একটা কাজ তোকে করে দিতে হবে। মিনিমাগনায় নয়, ভাল ক্যাশ পাবি। তারার দোকানে যা মাইনে পাস, আমার কাজ করে দিলে প্রত্যেক বার তার ডবল টাকা পাবি। কিন্তু কাজটা একটু চেপেচুপে করতে হবে।”
কে জানে কেমন করে, ভুজঙ্গ হঠাৎ বুঝে গেল বিভুর দু’নম্বরি ব্যবসা আছে। সম্ভবত বর্ডারে মাল টানার। বিভু হাজার লোভ দেখালেও সে কাজ ভুজঙ্গ আর করবে না।
“বল, কী কাজ।”
“তেমন কিছু নয়। তোর দোকানে জুতো কিনতে আমার লোক যাবে। দোকানে সিলিঙের উপরে স্পেশাল মাপের যে জুতোগুলো থাকে, তার ভিতরে সাত নম্বর বাক্সের গায়ে ‘বি এস’ লেখা থাকবে যেটার গায়ে, সেটা তাকে বিক্রি করবি। মালিককে বলবি ক্যাশ মেমো কেটে দিতে। যেমন সব কাস্টমারকে দেওয়া হয়।”
“যদি জুতো পরে ট্রায়াল দিতে চায় ?”
“চাইবে না। শুধু বলবে সাত নম্বর বাব্ল বয়। নামটা মনে রাখবি।”
“আমাদের স্টকে যদি না থাকে? ওই ব্র্যান্ডের কোনও মাল আমাদের স্টকেই নেই।”
“তোকে ভাবতে হবে না। তারাকান্ত সব জানে।”
“ইয়ে, ‘বি এস’ মানে কি বিভু সমাদ্দার?”
“বেশি চালাকি করিস না। যা বললাম, তা-ই করবি। ভয়ের কিছু নেই। আমি আছি। আমার কাজ করে দিবি, পয়সা নিবি। ব্যস।”
দিন পনেরো বাদেই এক জন কাস্টমার এসে সাত নম্বর বাব্ল বয় চাইল। তারাকান্ত এক বার আড়চোখে লোকটার দিকে তাকাল। ভুজঙ্গর বুক ধড়াস করে উঠল। দেখলেই বোঝা যায়, একদম নতুন বিয়ে হয়েছে। বৌটার ঝলমলে সস্তা সিল্কের শাড়ি। ঠোঁটে টকটকে লাল লিপস্টিক, কপালে হলুদ একটা ভেলভেটের টিপ। মাথায় সামান্য ঘোমটা টেনে রেখেছে। আবার চোখে সস্তার সানগ্লাস। দোকানের ভিতরেও কালো চশমা পরে রয়েছে। লোকটার পরনে পাজামা আর বুকের কাছে কাজ করা পাঞ্জাবি। বৌটা ঘুরে ঘুরে শো-কেসে সাজানো মেয়েদের চপ্পল দেখছিল। পয়সা আছে, কিন্তু একেবারেই গাঁ-গঞ্জের লোক।
লোকটা চেয়ারে বসে এক বার তারাকান্ত, এক বার ভুজঙ্গকে দেখল।
“বলুন, কী দেখাব। আপনার, না বৌদির?”
“আমারই। সাত নম্বর বাব্ল বয়। আছে না?”
ভুজঙ্গর বুক ধড়াস করে উঠল। বিভুর লোক এসেছে সাত নম্বর বাব্ল বয় জুতোর বাক্স নিতে। লোকটা নির্বিকার মুখে বসে আছে। সতর্ক হল ভুজঙ্গ। তাকেও ‘কিছু জানি না’ ভাব করে জুতো বিক্রি করতে হবে। হাত কাঁপছিল তার, স্বাভাবিক হতে পারছিল না।
“আছে। বসুন, এনে দিচ্ছি।”
মই লাগিয়ে সিলিঙের উপরে উঠছে ভুজঙ্গ। শেষ ধাপে পা রেখে এক বার মাথা ঘুরিয়ে লোকটার দিকে তাকাল। লোকটাও তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তাড়াতাড়ি সিলিঙে ঢুকে পড়ল ভুজঙ্গ। আগেই উপরে আলো জ্বালিয়ে দিয়েছিল। জুতোর বাক্সগুলো পর পর সাজানো রয়েছে। একটু খুঁজতেই ‘বি এস’ লেখা বাক্স পেয়ে গেল। কে জানে এটা কখন, কী ভাবে এখানে এল! প্রবল ইচ্ছে হল, বাক্স খুলে ভিতরে কী আছে দেখে নেয়। এখানে কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে সামলে নিল। নামিয়ে এনে সুতো দিয়ে বাক্স বেঁধে কাউন্টারে রেখে দিল। এ বার মালিক তারাকান্ত ক্যাশ মেমো কেটে টাকা নেবে। তার কাজ শেষ।
বিভু সমাদ্দারের সার্কিটে ঢুকে পড়ল ভুজঙ্গ। মাসে এক বার-দু’বার বাব্ল বয়ের কাস্টমার আসে। ভুজঙ্গর মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় জুতোর বাক্স খুলে দেখবে ভিতরে কী আছে। পারেনি— যে দিন এই মাল আসে, সে দিনই কাস্টমার এসে যায়। ওরা যেন খবর পায় তারাকান্ত মজুমদারের ‘পদপল্লব’ দোকানে নতুন মাল এসে গেছে।
বাইক স্টার্ট দিয়ে হাইওয়েতে পড়ল ভুজঙ্গ। হেলমেট পরে নিয়েছে। মেঘ আরও ঘন হয়ে এসেছে। ঠান্ডা ভিজে বাতাস টের পাচ্ছিল ভুজঙ্গ। দরগার মোড় এসে গেছে প্রায়। এ বার হাইওয়ে ছেড়ে ডান দিকে ঘুরতে হবে। পথটা অপেক্ষাকৃত সরু, পিচ-বাঁধানো। দু’পাশে অনেক পুরনো বড় বড় গাছ। বেশির ভাগ শিরীষ, শিমুল আর ছাতিম গাছ। সারা বছর ছায়ায় ঢাকা থাকে পথটা। কোথাও কোথাও দু’পাশ থেকে ডালগুলো এমন ভাবে ঝুঁকে পড়েছে, দূর থেকে মনে হয় পথটা অনন্ত একটা তোরণের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে। এ পথে এর আগেও বেশ ক’বার গেছে। খুব ভাল লাগে এই জায়গাটুকু পেরোতে। তাড়াতাড়ি নয়, জায়গাটুকু ধীরেসুস্থে পেরোয় সে। কেমন যেন শীত-শীত করে।
দূর থেকেই ভুজঙ্গ দেখল, সামনের পথের কালো পিচ যেন একটু বেশি ঘন। ভুজঙ্গ বুঝল, এ দিকটায় একটু আগেই বৃষ্টি হয়ে গেছে। তাই কালো রং আরও কালো দেখাচ্ছে। ভিজে গেলে সব রং-ই ঘন দেখায়। এখন এ দিকে জোর বৃষ্টি নামলে বাইক থামিয়ে তাকে কোনও গাছের নীচে আশ্রয় নিতে হবে। বিভু বলে দেওয়া সত্ত্বেও রেনকোট নিতে ভুলে গেছে সে। জোর বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে একটা মাথা বাঁচানোর মতো জায়গা দরকার। বাইকের স্পিড বাড়াল ভুজঙ্গ।
হর্ন শুনে লুকিং-গ্লাসে তাকিয়ে দেখল, সেই সাদা গাড়িটা ঠিক তার পিছনে আসছে। বাইরের লোক। বকুলডাঙায় এদের কোনও দিন দেখেনি ভুজঙ্গ। ট্যুরিস্ট হতে পারে, লিঙ্গেশ্বরের মন্দির দেখতে যাচ্ছে। সে-ও তো ও-দিকেই যাবে।
বেশ স্পিডেই তাকে পেরিয়ে গাড়িটা চলে গেল। ভুজঙ্গর এক বার ইচ্ছে হল সেও অ্যাক্সিলারেটর দাবিয়ে ওদের পেরিয়ে যায়। ফাঁকা রাস্তায় ভয়ের কিছু নেই। না, দরকার নেই। সে রেসে নামেনি। ভিজে রাস্তায় চাকা স্কিড করলে বিপদ হতে পারে। তাকে বাঁচানোর জন্য তুলে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছনোর কোনও মানুষ পথে নেই। যেমন যাচ্ছিল, সেই স্পিডেই চলতে লাগল।
মন্দিরে পৌঁছনোর একটু আগেই বাঁ দিকে একটা দোকান। হরগৌরী মিষ্টান্ন ভান্ডার। দোকানের সামনে তাকে পেরিয়ে আসা সাদা গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। তাকে বিভু এই দোকানের কথাই বলে দিয়েছে। এক জনের হাতে অ্যাটাচিটা তুলে দিতে হবে। ভুজঙ্গকে ভাবতে হবে না। সেই লোকই তাকে খুঁজে নেবে।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অনেক ক্ষণ থেকেই পড়ছে। গর্ভিণী কালো মোষের মতো কালো মেঘ আরও ঝুলে এসেছে পৃথিবীর দিকে। যে কোনও সময় ঝমঝমিয়ে নেমে পড়বে। কাজ সেরে তার আগে বেরিয়ে পড়তে পারলে ভাল হত। আশ্চর্য! রেনকোটের কথা এক বারও মনেই পড়ল না।
এ দিক-ও দিক দেখল ভুজঙ্গ। কেউ কোথাও নেই। গাড়ির লোক দু’জনই বা গেল কোথায়। কত ক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে কে জানে। এক কাপ চায়ের জন্য বাইক দাঁড় করিয়ে বক্স খুলে অ্যাটাচি হাতে নিল ভুজঙ্গ। দোকানের ভিতরে দু’-এক জন রয়েছে। সন্দেশ কিনছে। ঠাকুরের ভোগ নিয়ে মন্দিরে যাবে নিশ্চয়ই।
ভিতরে ঢুকেই দেখল, একদম কোণের টেবিলে সেই লোকটা আর মহিলা বসে আছে।
“আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি। আসুন, আমি তিনটে চা বলে দিয়েছি আগেই।”
“মানে, আপনারা...”
“আসুন, বলছি।”
মেয়েটার মুখোমুখি চেয়ারে বসতে অস্বস্তি হচ্ছিল বিস্মিত ভুজঙ্গর। এমনিতেই বোঝা যায় মেয়েটা প্রচণ্ড ফর্সা, অসম্ভব সুন্দর, তার উপর চড়া মেক-আপ— মফস্সল শহরের এই নির্জন চায়ের দোকানে তাকে হঠাৎ পরি-টরি ভেবে ভুল হওয়া অসম্ভব নয়। এই অলৌকিক সুন্দরের এত কাছে বসবে ভুজঙ্গ? মুখোমুখি? মেয়েটির শরীরের সুগন্ধ পাচ্ছিল ভুজঙ্গ। বুক তো দূরের কথা, মুখের দিকেই তাকাতে পারছিল না সে।
টেবিলে দোকানের ছেলেটা তিন কাপ চা রেখে গেল। কাপ-প্লেটের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড রাগ হয়ে গেল ভুজঙ্গর। কী বিচ্ছিরি কাপ-প্লেট! নোংরা জলেই হয়তো ধোয়া! এদের দোকানে কি ভাল কাপ নেই। যেমন থার্ড ক্লাস লোকজন এখানে আসে, তাদের মতোই কাপ-প্লেট। চায়ে চুমুক না দিয়েও ভুজঙ্গ জানে, অখাদ্য একটা চা বানিয়েছে। যথেচ্ছ চিনি এবং দুধ, চা-পাতা কত বার ফোটানো হয়েছে তার ঠিক নেই।
ভুজঙ্গ আড়চোখে খেয়াল রাখছিল সামনের মহিলার চায়ে চুমুক দিয়ে কী প্রতিক্রিয়া হয় তা দেখার জন্য। ভদ্রলোক অবশ্য নির্বিকার মুখেই চা খাচ্ছেন। ভুজঙ্গও চুমুক দিল। না, যতটা সে ভেবেছিল, ততটা খারাপ নয়। এ রকম দোকানের পক্ষে যথেষ্ট ভাল চা। মহিলা এখনও চায়ের কাপে মুখ দেননি।
দু’জন অপরিচিত লোকের সামনে এ ভাবে নিঃশব্দে বসে থাকা যায় না। অস্বস্তি হচ্ছিল ভুজঙ্গর। কিছু একটা কথা কেউ বলুক। সে কী বলবে! এদের সে চেনেই না, দেখেনি কোনও দিন। যাকে একটু দূর থেকে, একটু আড়াল থেকে দেখে সুখ হয়, সে যদি এমন ভাবে সামনে আসে যে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে, তবে বড় মুশকিল হয়। তার সামনে বসা মেয়েটার দিকে সরাসরি মুখ তুলে তাকাতে পারছিল না ভুজঙ্গ। অথচ দেখার জন্য অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ টের পাচ্ছিল সে।
“চায়ের জন্য ধন্যবাদ। মন্দির দেখতে এসেছেন? শুনেছি অনেক পুরনো মন্দির।”
অবশেষে একটা জুতসই কথা বলতে পারল ভুজঙ্গ। মেয়েটা এখনও চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়ায়নি। মনে হয় ঘেন্না পাচ্ছে। এ রকম দোকানে চা খাওয়ার মানুষ এরা নয়। খেয়ালে ঢুকে পড়েছে।
“না, অন্য কাজে এসেছি। সেটা হলেই ফিরে যাব। আর দেরি করে লাভ নেই। দিন, ব্যাগটা দিন।”
“ব্যাগ... আপনাকে?”
চমকে উঠল ভুজঙ্গ। সে ভাবতে পারেনি, এদের কাছেই ব্যাগ দেওয়ার কথা বিভু বলে দিয়েছিল। বলেছিল, ওরাই তাকে খুঁজে নেবে। তা-ই নিয়েছে।
“হ্যাঁ, আমি বাবল্ বয়।”
“আর আপনি একান্ন বাইশ।”
মেয়েটি ‘আপনি একান্ন বাইশ’ বলার পর ওরা দু’জনই হাসল। ভুজঙ্গ বুঝল না, তার বাইকের নম্বরে হাসির কী আছে। বাব্ল বয়ের হাতে অ্যাটাচি তুলে দিল ভুজঙ্গ। বাইরে তখন প্রবল তোড়ে বৃষ্টি নেমেছে। দোকানে তারা তিন জন ছাড়া বাইরের কাস্টমার কেউ নেই। টিনের চালে ঝমঝম শব্দ। একটা বিগ শপারে অ্যাটাচি ভরে নিল লোকটা।
বৃষ্টি সামান্য কমতেই ওরা দু’জন তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ল। সামনেই ওদের গাড়ি রয়েছে। সামান্য ভিজবে হয়তো। বৃষ্টি ধরলে সে বেরোবে। তার কাজ সারা হয়ে গেছে। এখন ধীরেসুস্থে গেলেও চলবে। রেনকোট নেই, শুধু শুধু ভেজার কী দরকার। না হয় এক বার লিঙ্গেশ্বরের মন্দিরে ঘুরে যাবে। অনেক আগে এক বার এসেছিল। শিবরাত্রির মেলা ছিল সে বার। জমজমাট মেলা। অনেক দূর থেকেও লোকজন আসে। ভক্তের দল, কৌতূহলী মানুষ, ফালতু লোক, চোর-বাটপাড়। সাত দিন ধরে গমগম করে জায়গাটা। মাঝে মাঝে বাবা লিঙ্গেশ্বরের নামে জয়ধ্বনি ওঠে। নাগরদোলা, ঝুটো পাথরের মালা, ম্যাজিক শো, গ্রামগঞ্জের মানুষজনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। দুপুর একটু গড়ালেই পিলপিল করে লোকজন আসতে শুরু করে। লিঙ্গেশ্বরের মেলার কথা সবাই জানে।
একটু অপেক্ষা করে ভুজঙ্গও বেরিয়ে পড়ল। এখনও বৃষ্টি পুরো ধরেনি। গুঁড়ি গুঁড়ি মিহি কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়ছে। ম্লান আলো ছড়িয়ে আছে পথঘাট, ঘরবাড়ির উপর। এ রকম ওয়েদারে ভুজঙ্গর শরীরটা আনচান করে ওঠে। মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস পড়ে। জীবনে কত কিছু দেখা হল না, টেস্ট করা হল না। পৃথিবী জুড়ে কত রকম সুখের আয়োজন করে রেখেছেন ভগবান। তার কপালটাই খারাপ। কত মানুষ স্বপ্নে মাদুলি পায়, লটারিতে কোটি টাকা পায়, স্বাস্থ্যবতী সুন্দরী বৌ পায়, গুপ্তধন পায়। আর তাকে পাবলিকের পায়ে জুতো পরাতে হচ্ছে।
দু’-তিন বার কিক করার পর তার বাইক স্টার্ট নিল। ক’বার রেস করে ধোঁয়া উড়িয়ে গিয়ারে ফেলল, তার পর রওনা হল। মনে হচ্ছে বৃষ্টি এ বার ধরে যাবে। মন্দিরে আর যাবে না। তাড়াতাড়ি ফিরেই যাবে। ডান দিকে না গিয়ে বাঁ দিকে ঘুরল ভুজঙ্গ। যে পথে এসেছিল, সে দিকেই রওনা হল।
ক্রমশ
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে