ছবি: কুনাল বর্মণ।
পূর্বানুবৃত্তি: যাদের কাছে বিভুর পাঠানো অ্যাটাচি কেস ডেলিভারি করেছিল ভুজঙ্গ, তাদের সাদা গাড়ি মুখোমুখি ধাক্কা মেরেছিল একটা শিরীষ গাছের গুঁড়িতে। কাছে এসে ভুজঙ্গ দেখেছিল, অকুস্থলে মৃত্যু হয়েছে দু’জনেরই। সে সন্তর্পণে মহিলার বিগশপার থেকে অ্যাটাচিটা বের করে নিয়েছিল। তার পর বাইক ছুটিয়ে দিয়েছিল ফেরার পথে। অন্য দিকে, সদ্য পলাশগুড়ি আসার সময়ের কথা মনে পড়ছিল মন্টুর। সে সময় শিবুকাকার বাড়ির পিছনে আমগাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল ভজন ঘোষ। ঘটনাটা মন্টুকে নাড়া দিয়েছিল খুব। সাত দিন পর এক রাতে সে চুপিচুপি সেখানে ফিরে গিয়েছিল আত্মা দেখবে বলে। শুক্লপক্ষের অষ্টমীর সেই সন্ধ্যায় যখন সে পৌঁছেছে সেই আমগাছের গোড়ায়, খুব কাছে তীব্রস্বরে ডেকে উঠেছিল একটি ময়ূর। আচমকা সেই কর্কশ শব্দ আমূল চমকে দিয়েছিল তাকে। প্রচণ্ড ভয়ে সে দৌড়ে ফিরে এসেছিল বাড়িতে।
সত্যিই এক বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিল মনোতোষ। তখন তার ক্লাস ইলেভেন। বৈরাগীটোলার সাধু মণ্ডলের বেওয়ারিশ মড়া নিয়ে ক্লাবের বড়দের সঙ্গে সেও শ্মশানে গিয়েছিল। সেই তার প্রথম শ্মশানে যাওয়া। দেখেছিল, কেমন করে চেলাকাঠ দিয়ে চিতা সাজায়। ডেডবডি রেখে তার উপর আবার কাঠ চাপায়। দাউদাউ আগুনের ভিতরে শরীরটা পুড়ে যেতে শুরু করে। ফটফট শব্দ হয়। মাঝে মাঝে আগুনটা বেড়ে যায়। আবার কমে আসে। ক্লাবের তিমিরদা একটা বাঁশের লগি দিয়ে মাঝে মাঝে খুঁচিয়ে দিচ্ছিল। কালো আংরা হয়ে যাওয়া শরীর থেকে পোড়া হাড়-মাংস ঝরে পড়ছিল ঝুরঝুর করে।
ক্লাবের ছেলেরাই নাভি জলে পুঁতে, জল-ভরা কলস ফাটিয়ে ফেরার পথ ধরেছিল। সবাই স্নান করে বাড়ি ফিরবে। এখানে নয়, রামবাবুদের রাইস মিলের পিছনের ঘাটে সবাই স্নান করে। জায়গাটা পরিষ্কার, ওখানেই স্নান সেরে নেবে সবাই।
তীর্থও ছিল এই শবযাত্রীর দলে। ক্লাস সেভেনের তীর্থ মালাকার। নাম-কা-ওয়াস্তে তার ক্লাস সেভেন। সারা দিন হাটে-মাঠে ঘুরে বেড়ায়। লোকজন তাকে দিয়ে ফালতু বেগার খাটিয়ে নেয়। সন্ধেবেলায় রোজ ক্লাবে গিয়ে বসে থাকে। ব্রিজ খেলতেও সে পারে না, তাকে কেউ ক্যারমের পার্টনার হিসেবেও নেয় না। তার কাজ হল দৌড়ে দোকানে চা বলে আসা, বিড়ি-সিগারেট এনে দেওয়া। তিমিরদার হাত-পা, পিঠ মাসাজ করে দিত কখনও। আর অপেক্ষা করত, কবে পুজো আসবে। তখন তার কাজ বেড়ে যায়।
নদীর জলের গেরুয়া রং ফিকে হয়ে তখন সবুজ হয়ে এসেছে। সবাই জানে, ঘাটের কাছেই এখন অন্তত এক মানুষ জল। আর ধারালো স্রোত। সাঁতরে ও-পারে যেতে দম ফুরিয়ে আসে সবার। তারজালি আর বড় বড় বোল্ডার দিয়ে পাড় বাঁধানো। সেখান থেকে জলে ঝাঁপ দিয়ে ডুবসাঁতারে অনেকটা দূরে গিয়ে ওঠে সবাই।
ক্লাবের বড়রা কয়েক জন একটু দূরে গোল হয়ে বসে গল্প করছে। কী নিয়ে যেন সবাই খুব হাসছে। তিমিরদার পিঠের কাছে বসে তীর্থ তার পিঠে মাসাজ করে দিচ্ছিল। তিমিরদা তার খরখরে দাড়িওয়ালা গাল তীর্থর ফর্সা গালে ঘষে দিয়েছে। সেটা নিয়েই বোধহয় সবাই হাসছে। একটু আগে গিয়ে দোকানে চা বলে এসেছে। মন্টু, পরেশ, বাবু কোমরে গামছা বেঁধে জলে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য রেডি হয়েছে।
সে দিনের সব কথা স্পষ্ট মনে আছে মনোতোষের। প্রথমে বাবু ডাইভ দিল। প্রণামের ভঙ্গিতে হাত দুটো জোড়া করে মাথার উপর তুলল। তার পর একটু দৌড়ে এসে বল্লমের মতো সাঁত করে সবুজ জলের গভীরে চলে গেল। বাবু খুব ভাল সাঁতার জানে। গত বারের বন্যার সময় নদীর পারের বস্তি থেকে অনেক মানুষকে তুলে এনে স্কুলের ক্যাম্পে রেখে এসেছিল।
“তার পর, তীর্থর কথা বল।”
শিবুকাকার কাছে সেদিনের ঘটনার কথা বলছিল মন্টু। আজ সে একদম মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। যখন এক ফোঁটা বাতাসের জন্য শেষবারের মতো তার বুকের ভিতরে ফুসফুস ফেটে পড়ছে, জলের নীচের সবুজ রহস্যময় জগৎ ক্রমে অন্ধকার হয়ে আসছে, তখন তার মাথা আর কাজ করছিল না। বোধহয় শরীর নিজেই বেঁচে ওঠার তাগিদে একটা শেষ ঝটকা মেরেছিল। জলের উপরে তার মাথা ভেসে উঠেছিল।
“আমরা তো জলে ঝাঁপাব বলে কোমরে গামছা বেঁধে রেডি। একটু আগেই দেখেছি তীর্থপাগলা তিমিরদার পিঠ ডলে দিচ্ছে। প্রথমে বাবু ডাইভ দিল। আমরাও উঠে দাঁড়িয়েছি। হঠাৎ আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি অবিকল বাবুর মতো কায়দায় তীর্থ জলে লাফ মেরেছে।”
“সর্বনাশ, আশ্বিনের ভরা নদী, তীর্থ মনে হয় সাঁতারও জানত না। তার পর?”
“যে ভাবে কায়দা করে জলে লাফিয়ে পড়ল, আমরা তো ভেবেছি নিশ্চয়ই ভাল সাঁতার জানে! নইলে কেউ ওভাবে জলে নামে! আর তুমি তো জানো এই সময়ে কী স্রোত থাকে নদীতে! জলের ঘোলা ভাব কেটে গেলেও একেবারে টইটম্বুর হয়ে থাকে। ভাল সাঁতার না জানলে মুশকিল।”
“আমরা তো খবর পেয়েছি পাড়ার দু’জন নদীতে ডুবে গেছে, মন্টু আর তীর্থ। পুরো বকুলডাঙায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে। শুনেই সবাই দৌড়েছে রাইস মিলের পিছনের ঘাটে। আমি গিয়ে দেখলাম, তুই পাড়ে বসে তখনও হাঁপাচ্ছিস। সবাই বলল তুই যে বাঁচবি, কেউ ভাবেনি। ওভাবে জলে-ডোবা মানুষের সামনে যেতে নেই। দোষ তোরই। তখন মানুষ সামনে একটা কুটো পেলেও আঁকড়ে ধরে। সামনে মানুষ পেলে তার গলা জড়িয়ে উপরে উঠতে চায়। নিজের জীবনের চেয়ে আর কিছু দামি নয় তখন।”
“পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখি তীর্থ এক বার ডুবছে, এক বার ভেসে উঠছে। বুঝতেই পারিনি তীর্থ ডুবে যাচ্ছে। জলের উপরে যখন মাথাটা ভেসে উঠছে, তখন হাত বাড়িয়ে কিছু একটা ধরার চেষ্টা করছে। ওর চোখ দেখে আমি বুঝতে পেরেছি খাবি খাচ্ছে। কিছু না ভেবেই ঝাঁপ দিয়ে একদম ওর হাতের নাগালের মধ্যে গিয়ে পড়েছি। ব্যস, এমন ভাবে আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমাকে নীচে ঠেলে উপরে ওঠার চেষ্টা করেছে যে, বাপ রে, কী জোরে আমাকে আঁকড়ে ধরেছিল! কিছুতেই ওকে ছাড়াতে পারছি না। এ দিকে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে। যখন মনে হচ্ছে এখনই মরে যাব, তখন কেমন করে যেন শেষ একটা ঝটকা মারতে পেরেছি। আমাকে ছেড়ে দিয়ে তীর্থ ভেসে গেল। আমি মরতে মরতে বাকি জলটুকু সাঁতরে পারে উঠেছি। আচ্ছা শিবুকা, মাছের মতো মানুষের কানকো থাকলে কত ভাল হত বল।”
“হ্যাঁ, সবাই বলছিল এক বার তুই ভেসে উঠছিস, আবার তীর্থ। তীর্থকে ধরার জন্য আরও কয়েক জন নেমেছিল। খুঁজেই পায়নি ওকে। এ দিকে পাড়ায় রটে গেছে, শ্মশান থেকে ফিরে স্নান করতে গিয়ে মন্টু আর তীর্থ ভরা নদীতে তলিয়ে গেছে। শুনেছিস তো ব্যারাজের লকগেটে তীর্থর বডি পাওয়া গেছে। পোস্টমর্টেম হবে। অপঘাতে মৃত্যু তো।”
সেদিন মরণের শেষ দরজা থেকে ফিরে এসেছিল মনোতোষ। পরে সে ভেবে দেখেছে, সেই শেষ মুহূর্তের অভিজ্ঞতাকেই বোধহয় ‘নিয়ার ডেথ এক্সপিরিয়েন্স’ বলে। অনেকেই এই অভিজ্ঞতার কথা বলেছে। একটা টানেল দেখা যায় নাকি। পরপারে পৌঁছনোর সুড়ঙ্গ। অদ্ভুত একটা আলোর আভা দেখা যায়। বেশির ভাগই নীল আলোর কথা শোনা যায়। শরীর হালকা মনে হয়। অনেক পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরে আসে। মনোতোষের এ-সব কিছু হয়নি। সে শুধু প্রাণপণে একটু বাতাস চেয়েছিল। মৃত্যুর কঠিন আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিল। ওই অবস্থায় মাথায় কোনও যুক্তি কাজ করে না। শুধু বুঝতে পারছিল, সে এখনই মরে যাবে। মাথায় কি কোনও সঙ্কেত এসেছিল? ‘সব শক্তি দিয়ে একটা ধাক্কা দে মন্টু, নইলে তোর মরণ।’
তীর্থর মরণ-আলিঙ্গন ছাড়িয়ে মনোতোষ ভেসে উঠল বাতাসের পৃথিবীতে। তীর্থপাগলা ভেসে গেল জলের দুনিয়ায়। মানুষের যদি মাছের মতো কানকো থাকত, জল থেকে অক্সিজেন ছেঁকে নেওয়ার যন্ত্র! সেই চূড়ান্ত মুহূর্তের কথা এখন আর স্পষ্ট মনে পড়ে না মনোতোষের। শুধু অচেনা নীল আলোর রহস্যময় একটা জগৎ। জলের নীচে চোখ খুললে কেমন ভয় করে ওঠে। কোথাও পরিচয়ের কোনও চিহ্ন নেই। মাটির উপরে মানুষ চেনাজানা চিহ্নের সাপেক্ষে হেঁটে-চলে বেড়ায়। স্কুল বিল্ডিং, থানা, হলুদ দোতলা বাড়ি, হাকিমপাড়া বালিকা বিদ্যালয়, হেলা বটগাছ, রায়দিঘি। জলের নীচে কোনও চিহ্ন থাকে না। মানুষ সহজেই হারিয়ে যায়। শেষতক লকগেটে আটকে থাকে।
তার পর থেকেই জলে মনোতোষের আতঙ্ক। মৃত্যু এসে এক বার তার দুয়ারে কড়া নেড়ে গেছে।
৪
বিভু সমাদ্দারের সঙ্গে পার্টির ছেলেদের ঝামেলা হয়েছে। ময়দানের সমাবেশের জন্য দুটো ট্রাক আর পঞ্চাশ হাজার ক্যাশ দাবি করেছিল পার্টি। পঁচিশ-তিরিশ জন ছেলে নিয়ে বিভূতি লস্কর এসেছিল তার কাছে। বিভু জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখল, জনা পঁচিশেক তাজা ছেলে বাইরের গেটে আড্ডা দিচ্ছে। বিভূতি আর একটি গাঁট্টাগোঁট্টা ছেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এল। সঙ্গের ছেলেটাকে দেখে ভুরু কুঁচকে গেল বিভুর। তারক শীল। সূর্য সেন ক্লাবের সামনে সব সময় একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে থাকে। এত সাহস, এক বার তার মাল আটকেছিল।
সব চেকপোস্ট পেরিয়ে আসার পর ওদের ক্লাবের সামনেই গাড়ি আটকেছে। ওদের জানার কথা নয়, গাড়িতে বিভুর মাল রয়েছে। ড্রাইভার, খালাসি জানে না কার মাল। বিভুর হয়ে এ-সব কাজ সামলায় বাহাদুরটোলার সিরাজুল। ড্রাইভার সিরাজুলকেই ফোন করেছে। সিরাজুলকে যে টাকার কথা বলেছে তারক, বিভুকে জিজ্ঞেস না করে অত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই সিরাজুলের। সে অনেক কম টাকা দিয়ে আপস-রফার চেষ্টা শুরু করেছিল। তারক হাঁকিয়ে দিয়েছে। সে যা চেয়েছে, তার চেয়ে এক টাকাও কম হবে না।
সিরাজুল জানে, বিভুর নাম বললে ওরা এখনই গাড়ি ছেড়ে দেবে। কিন্তু সে-কথা বলা যাবে না। বিভু চিরকাল মেঘের আড়ালে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে। বিভুর চার পাশে, তাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অনেকগুলো বৃত্ত রয়েছে। খুব দূরের বলয়ের লোক জানেই না কেন্দ্রগত শক্তির নাম।
তারক বলেছিল, “সিরাজুল, ব্যবসা করে খাচ্ছিস, খা। এর আগে কোনও দিন তোর গাড়ি ধরিনি। ট্রাক-বোঝাই কাঠের লগ, জালি ওষুধ, ও-পারের মাল— তোকে ছাড় দিয়েছি। কেন দিয়েছি, সেটা নিশ্চয়ই জানিস। তোর বাহাদুরটোলা আর কুলখালিতে যদি গত ইলেকশনে আমরা লিড না পেতাম, তোর দু’নম্বরি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত।”
সিরাজুল বলেছিল, “দেব না তো বলিনি। বাজার খারাপ। সব প্রোগ্রামেই তো ডোনেশন দিচ্ছি। মাঝে মাঝেই ক্লাবের পিকনিক স্পনসর করছি, দু’সেট জার্সি দিলাম। পনেরোই অগস্টের স্পোর্টসে সমস্ত প্রাইজ় স্পনসর করলাম। তার পরেও আমার গাড়ি তোরাই আটকে দিবি?”
“ও-সব তোর বাঁ হাতের ময়লা। তোর কামাই-ধান্ধার খবর কি রাখি না ভাবিস?”
“দেব না তো বলিনি। অতটা এখনই দেওয়া মুশকিল। বুঝেশুনে বল, পারলে নিশ্চয়ই দেব।”
“ঠিক আছে, দশ ছেড়ে দিচ্ছি। বাকিটা না দিলে গাড়ি ছাড়া হবে না। খুব ভাল করে জানিস গাড়ির ছানবিন করলে তুই বিপদে পড়ে যাবি। তখন কিন্তু কেউ তোকে বাঁচাতে পারবে না।”
“ঠিক আছে, একটু সময় দে। সঙ্গে অত ক্যাশ নেই এখন। গাড়িটা ছেড়ে দে। আমি ব্যবস্থা করছি।”
একটু বাদে বিভুকে ফোন করেছিল সিরাজুল। অত টাকা নিজের ডিসিশনে দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। তা ছাড়া, ব্যাপারটা বিভুকে জানানো দরকার।
“দাদা, সাত নম্বর গাড়ি, হাবুলের, ক্লাবের ছেলেরা আটকে রেখেছে। সব পেরিয়ে শেষে বাড়ির কাছেই ঝামেলা হয়ে গেল। হেবি অ্যামাউন্ট চাইছে। আমি অবশ্য অনেক কমে রফা করেছি। কী করব ?”
“কোন ক্লাব? ছেলেগুলোকে চিনিস? আমার নাম বলেছিস নাকি?”
“পার্টি অফিসের পাশে সূর্য সেন ক্লাব। তারককে চেনো তো, ওরই বেশি মস্তানি। ভাবলাম, যদি জবরদস্তি গাড়ি সার্চ করে... তোমার নাম বলার প্রশ্নই নেই।”
“ঠিক আছে। সন্ধেবেলা পাম্পে এসে টাকানিয়ে যাস।”
“দাদা, কিছু একটা করো, ওদের বড় বাড় বেড়েছে। এর পর হয়তো আবার কোনও গাড়ি আটকাবে। এক বার মধু পেয়ে গেলে মৌমাছির মতো ঘুরে ঘুরে আসবে।”
তারককে চিনতে পারল বিভু। সব সময় বিভূতি লস্করের সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে। পাহাড়ের মতো চেহারা। ঢুলুঢুলু চাউনি। দেখলেই মনে হয় ড্রাগ-অ্যাডিক্ট। বিভূতির বডিগার্ড। প্রচুর প্রপার্টি করে ফেলেছে। ওকে এড়িয়ে নতুন বাড়ি, জমি বিক্রি, জমি কেনার সাধ্য কারও নেই। তারক সব জায়গায় আছে। নতুন বাইপাস বাজারের ভিতর দিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে। সমস্ত বাজার-ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি করে ন্যাশনাল হাইওয়ের কাজ আটকে দিয়েছে।
“ঠিক আছে, আমি দেখছি। এখনকার মতো তুই টাকাটা দিয়ে দে,” সিরাজুলকে বলেছিল বিভু।
ক্রমশ
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে