Bengali Literature

শিকড়

উন্নতি বেরিয়ে রাতুলকে খুঁজে বার করে কাছে যেতে রাতুল লাইন দেখাল, “দেখেছিস হাল? রাত বারোটা বেজে যাবে শেষ করতে। মানুষগুলোরও ভোগান্তি!”

অভিজিৎ তরফদার

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৬
Share:

ছবি: রৌদ্র মিত্র।

খাচ্ছিল রাতুল। উন্নতি গিয়ে দাঁড়াতে পাশে সরে জায়গা করে দিল।

উন্নতি বসতে বসতে জিজ্ঞেস করল, “কত দূর এগোল তোদের?”

“প্রচুর বাকি, তোদের?”

“ওই রকমই হবে।”

“যে রেটে আসছে, শেষ হতে রাত দশটা বেজে যাবে।”

“দশটা!” খাওয়া থামিয়ে দিল উন্নতি, “কী হবে তা হলে? আমার লাস্ট ট্রেনই তো দশটায়! ফিরব কেমন করে?”

“ফেরার দরকার কী! এখানেই লম্বা হয়ে শুয়ে পড়। কাল তা হলে তাড়াতাড়ি শুরু করতে পারবি।”

“সেটাই হয়তো ওরা চাইছে। সংসার ফেলে এখানেই পড়ে থাকি।”

“কাল ছেলেটার অঙ্ক পরীক্ষা। বলেছিল একটু দেখিয়ে দিতে, সেটা আর হয়ে উঠবে না।”

হাত ধুতে গেল রাতুল। ফিরে আবার উন্নতির কাছে এল, “এখানে ভীষণ ঠান্ডা। রোদে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি। খাওয়া শেষ করে বাইরে আয়। একটা মজার ঘটনা বলব।”

উন্নতি বেরিয়ে রাতুলকে খুঁজে বার করে কাছে যেতে রাতুল লাইন দেখাল, “দেখেছিস হাল? রাত বারোটা বেজে যাবে শেষ করতে। মানুষগুলোরও ভোগান্তি!”

বাইরে রোদ আছে, কিন্তু ঠান্ডা হাওয়াও বইছে হু-হু করে। চাদরটা ভাল করে জড়িয়ে নিল উন্নতি।

“বল, তোর মজার ঘটনা।”

সিগারেট ধরিয়েছিল রাতুল। ভিতরে নো স্মোকিং। ধোঁয়া ছেড়ে বলল, “মায়ের বয়স ৬৭, ছেলের ৬০, শুনেছিস কখনও?”

“এতে অবাক হওয়ার কী আছে! বাবার প্রথম পক্ষের সন্তান, তার বয়স ৬০। এর চেয়ে অনেক ইন্টারেস্টিং জিনিস আমার রেকর্ডে আছে।”

“কী রকম?” জানতে চায় রাতুল।

“আট বছর বয়সে বাবা হয়েছে এক জন। তাও যমজ সন্তানের।”

“হাই ফার্টিলিটি রেট। অপেক্ষা কর, দেখবি পাঁচ-ছ’বছরে সন্তানের জন্ম দিচ্ছে বাবা-মায়েরা।”

“আচ্ছা...” উন্নতি জিজ্ঞেস করল, “যাদের দেখিয়ে দেওয়ার কথা, ফর্ম ফিল-আপ করার সময় তারা কি ঘুমোচ্ছিল? দোষ তো তাদেরও!”

ফিরছিল ওরা। হাঁটতে হাঁটতে রাতুল গলা নামাল, “একটা দারুণ কেস এসেছিল আজ। লোকটার নাম হলধর মান্না, সে যা করেছে...”

“কী করেছে?”

“তাড়াতাড়িতে হবে না রে, পরে মনে করিয়ে দিস, বলব...”

ওরা পৌঁছে গিয়েছিল। ভিতরে ঢুকে পড়ল দু’জনে।

*****

বেঞ্চিতে বসে পা দোলাচ্ছিল অজয়। পাশে এসে বসল সুজিত। পিছনে চায়ের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ।

সেদিকে আঙুল দেখাল, “কী রে! এখনও দোকান খোলেনি? মদনের হলটা কী?”

“আজ খুলবে না,” বলল অজয়।

“কেন? কিছু হয়েছে? শরীর খারাপ?” জানতে চায় সুজিত।

“বালাই ষাট! শরীর খারাপ হতে যাবে কেন! ওদিকে ব্যবসা বেশি, তাই ওখানে গিয়ে দোকান লাগিয়েছে।”

সুজিত এক বার পিছন দিকে তাকিয়ে আবার অজয়ের দিকে ফিরল। চোখে জিজ্ঞাসা। অজয় প্রাঞ্জল করল, “সারা দিনে ক’ভাঁড়ই বা চা বিকোয় মদনের? ক’টাই বা বিস্কুট? ওদিকে থইথই করছে মানুষ। না হোক দু’শো ভাঁড় চা বিক্রি হচ্ছে মদনার। বিস্কুটের প্যাকেট খুলতে না খুলতে হাওয়া।”

“এখন কী হবে তা হলে? এই রকমই চলবে? চায়ের পাট বন্ধ?”

“বন্ধ কেন হবে! চা পেতে হলে ওখানে যেতে হবে। দোকান এদিকে আপাতত খুলবে না।”

সুজিত মুখ বেজার করে বসে রইল। পায়ের নখ দিয়ে মাটি খুঁড়ল, তার পর লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “এই সুযোগে যে যা পারল, করে নিল। ওই যে মনোহরের ফোটো তোলার দোকান, সে তো দেদার পাসপোর্ট ছবি তুলে প্রিন্ট করে লাল হয়ে যাচ্ছে। তার উপর আবার জেরক্স আর প্রিন্টার মেশিন বসিয়েছে গেল হপ্তায়। সব ডকুমেন্ট কপি করতে লাইন দিচ্ছে ওর দোকানে। শুনছি রেটও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

অজয় সুজিতকে বলল, “কপাল রে ভাই! যার যখন সুযোগ আসে। তবে এক জনের যা ঘটনা, শুনলে হাসতে হাসতে মরে যাবি।”

“বল বল, শুনি...” গুছিয়েবসল সুজিত।

“হলধরকে চিনিস তো? হলধর মান্না? বাপের নাম জলধর মান্না। হলধর ভ্যানরিকশা চালায়।”

“চিনব না! ওই তো জেলেপাড়া পেরিয়ে রাস্তাটা যেখানে ডান দিকে বেঁকেছে, সেই মোড়ের মাথায় বাড়ি। উঠোনে একটা নিমগাছ আছে, ঠিক কি না?”

“একদম,” বলে অজয়, “তা জলধরকে তো ছোট থেকে দেখে আসছি, খাটিয়ায় শুয়ে থাকে। নড়তে চড়তে পারত না। নামানো খাওয়ানো, সব হলধরের মা-ই ভরসা। বাবা কাজেকর্মে বেরোত না বলে, হলধরের মা-ই পাঁচ বাড়ি কাজ করে সংসার টেনে গেছে। শেষদিকে অবশ্য হাসপাতালে আয়ার কাজ পেয়েছিল।”

ধৈর্য হারায় সুজিত, বলে, “অত ফিরিস্তি দিতে হবে না রে! হলধর কী করেছে তা-ই বল।”

“ফর্মে বাপের নামের জায়গায় জলধর মান্না না লিখে, লিখেছে সুরপতি আদক।”

“সুরপতিকাকা? ওদের পাশের বাড়িতেই থাকত না সুরপতিকাকা? একা থাকত। গত বৈশাখে ছেলে এসে নিয়ে গেল।”

“হ্যাঁ। সে-ই। হলধর তো ক্লাস এইট অবধি পড়েছিল। লেখাপড়া একদম জানে না তাও তো নয়। সে পর্যন্ত বাপের নামটা ঠিক করে লিখে উঠতে পারল না! ভাবা যায়!”

সুজিত উঠল, “এটাই হচ্ছে মোদ্দা কথা। শুনানি-টুনানি যা-ই হোক, পাবলিকের বাপের নাম ভুলিয়ে ছেড়েছে কমিশন। ঠিক কি না?”

*****

শীতের দুপুরেও মাথার মাঝখানটা দাউদাউ করে জ্বলছিল হলধরের। ওরা ভেবেছে কী! সে মুখ্যুসুখ্যু মানুষ বলে যা-নয়-তাই বলবে!

ছায়ায় বসে একটু জিরোল। পুকুরঘাটে গিয়ে আঁজলা করে জল তুলে মাথায় থাবড়াল। গামছায় বেঁধে মুড়ি এনেছিল। তাই চিবোল খানিক। তার পর বাড়ির দিকে রওনা হল।

বাঁচোয়া যে আজ ঘরে পুন্নিমা নেই। থাকলে ঝড়টা ওর উপর দিয়েই যেত। সে বাপের বাড়ি গেছে। সেখানে তে-রাত্তির কীর্তনের আসর। ফিরতে সেই পরশু।

শীতের দুপুর। কেউ কেউ রোদ পোহাতে বেরিয়েছে ঘর ছেড়ে। তাকে দেখে অনেকেই হাসল। হাত নাড়ল হলধর। তার মনে হল খবরটা নিশ্চয়ই সবার কাছে পৌঁছে গেছে। হাসির কারণও সেটাই। কালো মুখখানা হাসির জবাবে দেখিয়ে হনহন করে বাড়িমুখো হল হলধর।

কাছাকাছি পৌঁছে এক বারটি দাঁড়াল সে। ঝিম-ধরা গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছে সুরপতি কাকার বাড়ি। সাড়াশব্দ নেই। গেল বৈশাখে ছেলে এসে নিয়ে যাওয়া ইস্তক বাড়ি খালি পড়ে আছে। হলধরের মনে হল ভালই হয়েছে। মা যত দিন সুস্থ ছিল, খোঁজ খবর নিত। পুঁইডাঁটা-চচ্চড়ি রেঁধে পাঠিয়ে দিত।

শিকল খুলে ভিতরে ঢুকল হলধর। একটা গিরগিটি উঠোনে ঘুরছিল। তাকে দেখে দৌড়ে নিমগাছে উঠে পড়ল। দিনটা নষ্ট হল। কাজে না গেলে রোজগার নেই। সে আর এক বার খিস্তি করল লোকগুলোকে।

ডাক পড়েছিল বিস্তর লোকের। কী কী কাগজপত্র নিতে হবে, বুঝিয়ে দিয়েছিল সদ্‌গোপদের পাঁচকড়ি। নিয়ে হাজির হয়েছিল হলধরও। অন্যদের কাগজ দেখে সই করে জমা নিচ্ছিল বাবুরা। তার বেলাতেই যত সব অনাসৃষ্টি!

শীতের বিকেল। ঝুপ করে অন্ধকার নেমে এল উঠোনে। মুড়ি কখন হজম হয়ে গেছে। ঢাকা খুলে দেখল, রুটি-তরকারি রেখে গেছে পুন্নি। গোটা চারেক পেটে পুরে শান্তি হল। খাটিয়াটা ঘর থেকে বার করে আনল উঠোনে। রোদ সরে যেতে ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। চাদরটা গায়ে জড়িয়ে নিল।

জ্ঞান হওয়া থেকে বাবাকে এই খাটিয়ায় শোয়া অবস্থায় দেখে আসছে হলধর। মাঝেমধ্যে গলা দিয়ে আওয়াজ বার করত। যার মানে মা ছাড়া কেউ বুঝত না। খিদের ডাক হলে খাবার এনে দিত, তেষ্টার ডাকে জল। জামাকাপড় নোংরা করে ফেললে মা-ই পরিষ্কার করে দিত। বাবা চলে যেতে হল হলধর অন্তত দুঃখ পায়নি।

লোকের বাড়ি কাজ করে হাসপাতালে আয়াগিরি করে মা একটা আশাতেই বুক বেঁধে ছিল, হলধর লেখাপড়া শিখবে, চাকরি করে মায়ের দুঃখ ঘোচাবে। ক্লাস এইট অবধি ঘষটে হলধর বুঝে গেল, লেখাপড়া তার জন্য নয়। ধার করে ভ্যানরিকশাটা কিনে ওই কাজেই নেমে পড়ল শেষে।

খাটিয়ায় বাবা প্রথমে শুত, পরে মা। কিন্তু হলধর খাটিয়ায় শুলে শুধু মায়ের গায়েরই গন্ধ পায়। শুনতে পায় মায়ের গলার আওয়াজ, সেই ঝড়বৃষ্টির রাতটার মতো।

কিছু দিন থেকে মা যেন শুকিয়ে যাচ্ছিল। হাঁপায়, খেতে বসলে ওয়াক তোলে। সুরপতিকাকাই বলল, “ভাল ঠেকছে না রে, এক বার শহরের ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে আয়।”

বড় হাসপাতালে পরীক্ষানিরীক্ষা সব চুকে গেলে ডাক্তারবাবুর ঘরে ডাক পড়ল। মুখ গম্ভীর করে ডাক্তারবাবু বললেন, “রোগটা ভাল নয়। শরীরে ছড়িয়ে গেছে। চিকিৎসা করে লাভ হবে না। তার চেয়ে বাড়ি নিয়ে যাও।”

মা বাইরে অপেক্ষা করছিল। যেতে হেসে বলল, “কী বলল ডাক্তার? ক্যানসার তো? ও আমি আগেই জানি। চল চল, আর চিকিচ্ছে করিয়ে কাজ নেই।”

সন্ধেবেলা হলধর গিয়েছিল সুরপতিকাকার কাছে। সব শুনে কাকা কাপড়ের খুঁটে চোখ মুছেছিল।

হলধরের চোখ গেল কাকার বাড়িটার দিকে। ঘেঁষাঘেঁষি বাড়ি। এ-বাড়ির উঠোনে দাঁড়ালে ও-বাড়ির ভিতর অবধি দেখা যায়। কাকার বাড়ির দেওয়ালে অশ্বত্থ গাছ গজিয়েছে। মা দেখলে হাতে দা-টা ধরিয়ে দিয়ে বলত, “যা, কেটে দিয়ে আয়।” বাড়িতে দা নেই তাও নয়, কিন্তু হলধর জানে, অশ্বত্থ চারা অবধি দা আর কখনওই পৌঁছবে না।

মা-র তত দিনে জায়গা হয়েছে বাবার ফেলে যাওয়া খাটিয়ায়। একটু একটু করে শরীরটা মিশে যেতে থাকল খাটিয়ার সঙ্গে। বাবার শেষ সময় মা যে কাজগুলো করত, মায়ের বেলা তার দায় এসে পড়ল পুন্নির উপর। বলতে নেই, পুন্নি তখনখুব করেছে।

যেদিন ছেলে এল সুরপতিকাকাকে নিয়ে যেতে, কাকা ওইখানে এসে দাঁড়িয়েছিল। কথা ছিল না কাকার মুখে। ছেলে গুজরাতে থাকে, সোনার কাজ করে, বাবাকে কাছে নিয়ে গিয়ে রাখবে, এতে কার কী বলার আছে। মা সবই জানত, তাও চোখে আঁচল চাপা দিয়েছিল। কাকা কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাথা নিচু করে চলে গিয়েছিল।

তার পর এল সেই রাত। আর সেই থেকে সব কিছু কেমন ওলট-পালট হয়ে গেল। সেদিন বিকেল থেকে অঝোরে বৃষ্টি। পুন্নি গিয়েছিল বাপের বাড়ি, ঝড়বৃষ্টিতে ফিরতে পারেনি। রাস্তাঘাট ফাঁকা। প্যাসেঞ্জার নেই। হলধরো ভ্যানরিকশা গলিতে ঢুকিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছিল। মাথায় চিন্তা ছিল, মাকে ভাল দেখে বেরোয়নি, পুন্নিও নেই, বাড়িতে মা একা একা কী করছে কে জানে!

সেদিন হলধরই মাকে খাইয়ে দিয়েছিল। দু’গ্রাস খেয়েই হাত ঠেলে সরিয়ে দিয়েছিল মা। হাঁপ উঠেছিল। তাড়াতাড়ি খাওয়া সেরে মা-র পাশে এসে বসেছিল হলধর।

বাইরে অঝোরে বৃষ্টি। বাজ পড়ছিল ঘন ঘন। বিদ্যুতের আলোয় ছিঁড়ে যাচ্ছিল আকাশ। লম্ফটা নিবিয়ে মায়ের পাশে এসে বসতে মা কাছে ডেকেছিল। মাকে জড়িয়ে ধরে হলধর মায়ের মুখের কাছে কাননিয়ে গিয়েছিল। জানতে চেয়েছিল, “কিছু বলবে?”

মা উপর নীচে ঘাড় নেড়েছিল। তার পর কয়েকটা কথা বলেছিল। অবাক হয়ে মা-র মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল হলধর। বিদ্যুতের আলোয় অন্ধকার ভেদ করে ফুটে উঠছিল মায়ের মুখ। হলধর দেখেছিল, সমস্ত কষ্টের দাগ যেন মায়ের মুখ থেকে মুছে গেছে। মনে হয়েছিল, এই কথাগুলো বলবার জন্যই যেন এত দিন মা বেঁচেছিল। তার পর মা ঘুমিয়ে পড়েছিল।

হাওয়া এল। নিমগাছের পাতা খসার শব্দ হল। আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে গেল কোনও তারা। খাটিয়ায় মুখ গুঁজল হলধর। এই খাটিয়ায় এক সময় বাবা শুত, তার পর মা। তবু খাটিয়ার শরীরে এখনও মায়ের গায়েরই গন্ধ।

ষষ্ঠীতলায় সবার সঙ্গে বসে ফর্ম ভরেছিল হলধর। নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম। বাবার নাম লিখতে গিয়ে হাত থেমে গিয়েছিল। মনে পড়েছিল সেই ঝড়বৃষ্টির রাত, মা, মায়ের শেষ কথাগুলো। ফর্মখানা ভরে হলধর জমা করেছিল। তার পর ডাক এল শুনানির।

শুনানি-ঘরে তার ফর্মখানা হাতে নিয়ে নাচিয়ে নাচিয়ে রাজ্যের লোককে শুনিয়ে অফিসার বলেছিলেন, “এ কী লিখেছেন? নিজের নাম হলধর মান্না। আর বাবার নাম সুরপতি আদক! কাটুন কাটুন! ঠিক করে লিখুন, বাবা স্বর্গত জলধর মান্না, লিখেছেন? হ্যাঁ, এ বার ঠিক হয়েছে। ওইখানে জমা করে রসিদ নিয়ে যান।”

খাটিয়াটা জড়িয়ে ধরল হলধর। যেন খাটিয়া নয়, মা-র কানে কানে ফিসফিস করল, “চেষ্টা করেছিলাম মা। পারলাম না। ওরা মানল না।”

(এই গল্পের সমস্ত চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক। বাস্তবের সঙ্গে কোনও মিল থাকলে তা একান্তইআকস্মিক এবং অনিচ্ছাকৃত।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন