Bengali Literature

বিষ

শহরের অন্য পথে এগোলে বেসরকারি ট্রাস্টের স্কুল। ধোপদুরস্ত। তার অদূরে শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তারই হাতার মধ্যে এক পাশে ছায়ায় বসে আছে বুধাই ও শ্যামলী।

দেবাশিস চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪১
Share:

ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ।

এখানে বড় সাপ বেড়েছে গো,” বিড়বিড় করে বুধাই। হাতে তার একটা কাগজের কাপ। কাপের চায়ে সর পড়ে গিয়েছে।

বুধাইয়ের কোন দিকে যে মন, বুঝতে পারে না শ্যামলী। স্বামীর দড়ি পাকানো চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকে সে। ধরতে চেষ্টা করে, এর পরে কোন মুখে গড়াবে বুধাইয়ের কথা।

“এত সাপ কি ভাল? এত বিষের ওষুধ কোথায়?” বকেই চলেছে বুধাই।

খর রোদ সামনের উঁচু টিলার শরীর বেয়ে সবুজ জমির উপরে নেমে এসেছে অনেক ক্ষণ আগে। রাজ্যের এই প্রান্তিক এলাকায় গরমের খুব দাপট। পাশেই ঝাড়খণ্ড। তাই গ্রীষ্ম এখানে তীব্র ও শুকনো। ছোট শহরটিও ধুলোয় জেরবার বরাবর। মূল রাস্তাটি কতটুকুই বা চওড়া! মুখোমুখি দু’টি গাড়ি এলে যানজট লেগে যায়। গলিঘুঁজি তো কহতব্য নয়। তারই কোনওটিতে ঢুকে পড়ে চোখ তুললে সামনে আচমকা দেখা দেয় খাড়া টিলা। একেবারে ন্যাড়া। তা-ও তাতে সকাল থেকে মেয়েপুরুষদের উঠতে দেখা যায়। পাথরের খাঁজে খাঁজে পা রেখে উঠতে উঠতে তারা একটি পথও তৈরি করে ফেলেছে যেন। তারা পাথর ভেঙে নিয়ে আসে।

শহরের অন্য পথে এগোলে বেসরকারি ট্রাস্টের স্কুল। ধোপদুরস্ত। তার অদূরে শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তারই হাতার মধ্যে এক পাশে ছায়ায় বসে আছে বুধাই ও শ্যামলী।

বুধাইয়ের জীবন যেন তরঙ্গের মতো। এক সময়ে জনমজুর হিসেবেই কাজ শুরু করেছিল সে। তার পরে এক দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বেশ কয়েক বছর পরে ফিরে আসে শহরে। এসেই বলতে থাকে, সে নাকি কোনও ওঝার কাছ থেকে মন্ত্র শিখে এসেছে। সব সাপই এখন তার বশ।

তা এক সময়ে সাপ ধরেও দেখিয়েছে বুধাই। তবে সে সব খুব বিষধর কিছু নয়। এমনিতেই বোড়া সাপ রাজ্যের সর্বত্র। তবে গোখরো বা কেউটের মতো তীব্র বিষধর সাপ এখানে এত দিন চট করে মিলত না। ইদানীং কিঞ্চিৎ বেড়েছে।

বুধাইয়ের কিন্তু সাপুড়ে হিসেবে নামডাক খারাপ নয়। সাপের বিষের কিছু টোটকাও তার জানা। গ্রামের দিকে ডাক পড়লে সাপ তো ধরতই, কাউকে সাপে কাটলে সেই টোটকাও দিয়েছে অনেক সময়ে। কখনও তাতে রোগী বেঁচেছে, কখনও মারা গিয়েছে। গ্রামের মানুষ এই সব বাঁচা-মরা নিয়ে বিশেষ ভাবে না। শোকতাপ থাকে কিছু দিন। বিশেষ করে বাড়ির কাজের মানুষটি মারা গেলে বাকিদের ভাবতে হয়, সংসার এর পরে কী ভাবে চলবে। তবে এখন তো সরকারের আনুকূল্যে রেশনে চাল, চিনি ভালই মেলে। রাজ্যের অন্যেরা যা পায়, এই এলাকার লোক পায় তার দ্বিগুণ। জঙ্গলমহল কিনা! সঙ্গে নানা ভাতা। মিলেজুলে চলে যায়।

বুধাইয়েরও এই ভাবেই চলে। তাই সে আর কাজকর্ম না করে নেশা করে। কিসের নেশা, কেউ ঠিক করে জানে না। গাঁজা-ভাঙ হতে পারে। অনেকে বলে, বুধাই সাপের বিষের নেশা করে! সে কথা ওর সামনে বললে, কখনও হেসে উড়িয়ে দেয়, কখনও মারতে তেড়ে আসে। বলে, “এহ! সাপের বিষের দাম জানিস? হাজারটা বুধাই মুর্মুকে বেচলেও এক কণা বিষের দাম উঠবে না।”

ওঝার ডাক এখন কম পড়ে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপের ওষুধ আছে। গ্রামের মানুষও সে ওষুধই বেশি নেয়। সাপুড়ে হিসেবে বরং তাকে কেউ কেউ ডাকে আজও। লোকে বলে, বুধাই নাকি সাপের গন্ধ পায়।

আজও বুধাই ঝিম মেরে বসেছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চত্বরে, আর নাক টানছিল। অন্যেরা যা-ই ভাবুক, শ্যামলী জানে, বুধাই আসলে সাপের গন্ধ শুঁকছে। সে কি সত্যিই সাপের গন্ধ পায়? শ্যামলী দেখেছে, যত বার গন্ধ শুঁকে সাপের খোঁজ করেছে বুধাই, তত বার কিছু না কিছু পেয়েছে। হয় সাপ, নয়তো খোলস।

সেই করতে গিয়েই তো ক’দিন আগে মারটা খেল।

শ্যামলী পইপই করে বলেছে ওকে, অনেক বার, অন্যের কাছে গিয়ে অযথা জ্ঞান দেওয়া কেন বাপু! বুধাই সে কথা শুনলে তো!

এই শহর থেকে বেরিয়ে, বাগমুন্ডির ধার ঘেঁষে যে রাস্তাটা অযোধ্যা পাহাড়ে উঠেছে, তার গোড়ায় একটা ইকো-টুরিজ়ম রিসর্ট তৈরি হচ্ছে। এলাকার বাকি সবার মতোই বুধাই জানে, এ সব নামেই ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন। কাজে তার ধারেকাছেও নয়।

এখানে হচ্ছেও তাই। শালী জমিকে বাস্তু করা হয়েছে। তার পরে কয়েক বিঘা জমির জংলা এলাকা সাফ করা হয়েছে। জমির ধারে একটা চৌকিদারির ঘর ছিল, ভাঙা পড়েছে।

তার পর থেকেই সেখানে গোখরোর উৎপাত বেড়েছে। সাপ একটা, নাকি একাধিক, কেউ বলতে পারে না। বন দফতরকে খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের আঠারো মাসে বছর। নিজের উৎসাহেই এক দিন জায়গাটা ঘুরে দেখতে গিয়েছিল বুধাই। পাঁচিলঘেরা এলাকায় ঢুকে আনাচকানাচ ঘুরে ঘুরে শুঁকছিল। হঠাৎ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে জোরে জোরে শ্বাস নেয় বুধাই। তার পরে হাঁক পাড়ে, “কে আছ গো এখানে?”

তার দু’-তিন বারের চিৎকারে একটা লোক এগিয়ে আসে। বলে, “তুই কে রে? এখানে ঢুকেছিস কেন?”

লোকটার প্রশ্নের জবাব দেয় না বুধাই। বরং বলে, “এখানে সাপ আছে গো। বড় সাপ। বিষধর। বাচ্চাও থাকতে পারে। সাবধান থেকো গো।”

“সাপ আছে তোকে কে বলল?”

“আমি সাপের গন্ধ পাই!”

খুব জোরে হেসে উঠল লোকটা। তার পরে চেঁচিয়ে সঙ্গীদের ডাকল, “দেখ রে, এ পাগলা কী বলে!”

কয়েক জন বেরিয়ে এল এদিক-ওদিক থেকে। তাদেরই এক জন বলে, “আরে, এ লোকটা তো শহরের বস্তিতে থাকে। ওঝা বলে নিজেকে। সাপ ধরে বলে শুনেছি।”

“সত্যি ধরে নাকি? দেখতে তো পাক্কা নেশাখোরের মতো।”

“তা জানি না বাপু। শুনিছে, তাই বললাম। নেশাও করে মনে লয়।”

ওরা বুধাইকে ঘিরে ধরেছিল ধীরে ধীরে। বুধাই বুঝতে পারেনি। রোদটা মুখে এসে পড়ছে। কপালে ঘাম তার রং আরও কালো করে তুলেছে। বুধাই চোখের উপরে হাত দিয়ে বলতে চেষ্টা করেছিল, “সত্যি বলছি গো, সাপ আছে এখানে...” কিন্তু তার মধ্যেই থাপ্পড়টা এসে পড়ল হঠাৎ, “নেশাভাঙ করে আমাদের এখানে এসে ঢুকেছিস! মতলবটা কী তোর? জায়গাটাকে বদনাম করবি!”

এর পরে যে বেধড়ক মারটা সে খায়, তার কথাটা ভুলতেই চেয়েছিল বুধাই। তার চেয়েও বড়, সেখানে যে সাপ আছে, বিষধর সাপ, সেটা তার মনে গেঁথে গিয়েছিল। বুধাইয়ের খুব ইচ্ছে, একটা চাঁদনি রাতে ওখানে যাবে। সে সময়ে নাকি সাপের বিষ বাড়ে। যদি সত্যিই গোখরো থাকে, তা হলে গর্ত থেকে বার করে আনতে চেষ্টা করবে সে। কিন্তু চাঁদ উঠতে উঠতে বুধাই এত নেশা করে ফেলে যে, গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আর তার যাওয়ার অবস্থা থাকে না।

এর মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হল জায়গাটায়। প্রথমে একটা ছোট সুন্দর ঘর তৈরি হল। সেখানে কেয়ারটেকার থাকতে লাগল। পরে নাকি সেটা মালিক ব্যবহার করবে আউটহাউস হিসাবে। বাকি জমির বড় অংশে বাড়ির ভিত খোঁড়া শুরু হল।

“সাপ এখানে নেই। ওই জমিতে আছে,” হাসপাতাল চত্বরের এক পাশে বসে শ্যামলীর দিকে মুখ ঘুরিয়ে স্পষ্ট করে কথাটা বলল বুধাই।

শ্যামলী বুধাইয়ের জীবনের আর এক তরঙ্গ। নামের মতোই মেয়েটি শ্যামলা, মুখটা ভারী মিষ্টি। সেই মুখ দেখেই বুধাই মজেছিল। তিন কুলে এক মামা ছাড়া কেউ নেই শ্যামলীর। সে লোকটা বিয়েও করেনি। অনেক কষ্টে পাত্র জুটিয়েছিল। পুরুলিয়া শহরে থাকে। দোকান আছে। রমরমা ব্যবসা। তবে বয়স পঁয়তাল্লিশ, দেখতেও ধুমসো। মামা বলেছিল, “শ্বশুরঘরে তুই রানি হবি রে শ্যামলী। এ লোকের চারদিকে কেউ নেই।” কিন্তু শ্যামলীর পোষায়নি। সে বিয়ের আগের রাতে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। পড়তে পারত কোনও বদমাইশের হাতে। কিন্তু বুধাই রাস্তা আটকেছিল, চোখ বড় বড় করে বলেছিল, “কী রে শ্যামা, কাল তোর বিয়ে, আজ কোথায় পালাচ্ছিস?”

তখন রাতে এত নেশা করত না বুধাই। শ্যামলীকে বাড়িতে এনে বসিয়েছিল। বাড়ি বলতে একটা চালাঘর। তার ভিতরে নোংরা চাদর চাপানো চারপায়ায় বসে শ্যামলী খুব কেঁদেছিল। বলেছিল, “এই ভাবে বাঁচা যায়, বলো বুধাইদা!” তখনই ঠিক করেছিল বুধাই। পরের দিন শ্যামলীর মামার কাছে গিয়ে বলেছিল, “আমার চালচুলো নেই ঠিকই, কিন্তু শ্যামলীকে আমিই বিয়ে করব। ওর কথা ভেবেই মজুর খাটা শুরু করব।”

এর আগে সে নিজেকে শিল্পী মনে করত। “সাপ ধরাও একটা আর্ট, বুঝলি। আর বুধাই মুর্মু হল আর্টিস্ট,” পাড়ার লোকদের বলত সব সময়ে। এখন সত্যিই বুধাই কাজে বেরোতে শুরু করল।

এর পরে শ্যামলীর সঙ্গে জীবনযাত্রা শুরু। সে তরঙ্গে ভেসে কিছু দিন কাজ করেছিল বুধাই। কিন্তু নেশার চোটে শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দিল তার। হাঁপ ধরে যেত কাজ করতে গেলে। এখনও হাসপাতাল চত্বরে বসে হাঁপাচ্ছে বুধাই। জোরে জোরে শ্বাস টানছে। আর শ্যামলী ভাবছে, সে সাপের গন্ধ নিচ্ছে।

বুধাই, এখন নেশায় দিনমান পড়ে থাকা বুধাই, জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতেই বলছে, “অবস্থা ভাল না গো। সাপ বড্ড বেড়েছে। এত জঙ্গল কাটলে বাস্তুসাপ যাবে কোথায় গো!”

*****

তবু বাড়িটা উঠতে শুরু করল ইকো-টুরিজ়ম রিসর্টে। বুধাইয়ের অনেক সাবধানবাণীতেও কিছুই হয়নি। এক দিন তার কাছে এল স্থানীয় শাসক নেতা মন্টু মাহাত। প্রথমে মোলায়েম করে বলল, “বুধাই, কেমন আছিস? ওষুধ খাচ্ছিস তো ঠিক মতো?”

বুধাইয়ের তখন খুব হাঁপানির টান। গরম-ঠান্ডায় সর্দিগর্মি হয়েছে। বুক ধরে বসে পড়ে কাশতে কাশতে। হাত তুলে বলল, “ওষুধে তো কাজ হচ্ছে না। তবু খাচ্ছি রোজই।” জোরে জোরে শ্বাস টানতে লাগল তার পরে।

মন্টু কাছে এসে বলল, “তুই নাকি সাপের গন্ধ পাস? এই যে জোরে শ্বাস নিস, তাতে সাপের ঘ্রাণ ধরা পড়ে?”

বুধাই মুখ তুলে মাথা নাড়ল।

মন্টু জিজ্ঞেস করল, “ইকো-টুরিজ়ম রিসর্টেও গন্ধ পেয়েছিলি?”

বুধাইয়ের সাবধান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বোকা মানুষ আর এত বুঝবে কী করে! সে মাথা নেড়ে কাশতে কাশতে বলল, “মন্টুদাদা, ওখানে সাপ আছে গো। গোখরো সাপ। জঙ্গল কেটেছে, সাপ বার হয়ে আসবে গো...।” শেষ করতে পারল না কথাটা। প্রথমে একটা থাপ্পড় এসে পড়ল কানপাট্টাতে। তার পরে জামাটা খামচে ধরে কাছে টেনে নিয়ে হিসহিসে গলায় মন্টু বলল, “এ কথা যেন আর না শুনি। মনে থাকে যেন।”

জামা ছেড়ে ফের সুর পাল্টে ফেলল মন্টু। নরম গলায় বলল, “রিসর্টের উদ্বোধন হবে। সভাধিপতি থাকবেন। মান্যিগন্যিরা থাকবেন। সে সময়ে কি এ সব কথা বলা ঠিক রে?”

সে দিনটায় প্রবল কলরব রিসর্ট ঘিরে। আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে চারপাশ। পিছনে অযোধ্যা পাহাড়। সবুজ তার রং। সে পাহাড় সন্ধ্যার অন্ধকারে কালো হয়ে আছে ঠিকই, আর তাতেই যেন আলোকোজ্জ্বল রিসর্টের জেল্লা আরও বেড়েছে। অনেক দূর থেকে দেখা যাচ্ছে রোশনাই। আকাশে তারা ছড়িয়ে আছে। নক্ষত্রবীথিও যেন যোগ দিয়েছে এই উৎসবে।

গাড়িগুলো সব শহরের পাশ দিয়ে গেল যখন, অন্যদের মতো বুধাইও দেখেছে। শোনা গেল, মালিকের বৌ, ছেলেমেয়েও এসেছে। একটা সাত-আট বছরের বাচ্চা গাড়ির মাথা খুলে দাঁড়িয়ে ছিল। আর চেঁচিয়ে মাকে ইংরেজিতে কী সব বলছিল।

বুধাই দেখছে আর ভাবছে, তার তো এমন একটা বাচ্চা থাকতে পারত! তার আর শ্যামলীর ভালবাসার চিহ্ন। কিন্তু কাশতে কাশতেই এই অবেলায় দম ফুরিয়ে যায়। সংসার যে কেন যেচে নিল সে!

বুধাই নেশা করে সন্ধ্যা থেকেই। উদ্বোধনের দিনে যেন বেশি করেছে। পুন্নিমে কি আজ? চাঁদের আলো পাহাড় আর তার তলায় ছড়িয়ে পড়েছে। বুধাই দেখছে আর ভাবছে, এই সব রাতে সাপের বড় বাড়বাড়ন্ত হয়। সাবধানে থাকা উচিত।

তার কাছে কি বিষের টোটকা আছে কিছু? বুধাই জানে, বিষের টোটকা বিষ। বিষে বিষক্ষয়। বিষহরী সেই শিক্ষেই দিয়েছেন। আঁতিপাতি করে খোঁজে বুধাই। শ্যামলীর চোখে পড়ে যায়। সে কঠিন স্বরে বলে, “খবরদার, ওই সব কিছু আজ ঘাঁটাঘাঁটি করবে না। নেশা করেছ, এ বারে চুপটি করে শুয়ে পড়। আজ বাইরে বেরোবে না।”

শ্যামলীর কথা এখন লক্ষ্মী ছেলের মতো শোনে বুধাই। কিন্তু সাপের ডাক যে নিশির ডাকের থেকেও সাঙ্ঘাতিক। অনেক রাতে, শ্যামলী যখন ঘুমে, বুধাই উঠে পড়ে। নেশাগ্রস্ত বুধাই একটা কৌটো নেয় চাদরের তলায় ঢেকে। তার পর বেরিয়ে পড়ে ঘর থেকে।

*****

প্রথমে পিঠে এসে পড়ল বাঁশের ডাঙস। ব্যথায় কুঁকড়ে গেল বুধাই। মনে হল, শরীরটা ভেঙে যাবে।

চারদিকে চিৎকার: “বিষ এনেছে লোকটা। বিষ।”

বুধাই বলতে চায়, ‘আমি তো ওষুধের কৌটো এনেছি। বিষের ওষুধ। বিষহরীর তো বিষে বিষক্ষয়।’

তার গলা দিয়ে স্বর বেরোয় না। পরের পর প্রবল মারে শরীরটা ভেঙে যেতে থাকে। মুখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসে। আশপাশের লোকজন গিয়ে শ্যামলীকে ডেকে তোলে। সে পাগলের মতো ছুটে আসে রিসর্টের দরজায়। দারোয়ানের হাত ছাড়িয়ে জোর করে ভিতরে ঢোকার চেষ্টায় চিৎকার করতে থাকে, “ওকে মেরো না। ও যে সাপের রোজা। ও ওষুধ নিয়ে এসেছে তোমাদের বাঁচাতে।”

কেউ ওদের কথায় কান দেয় না। মারের পর মার পড়তে থাকে বুধাইয়ের শরীরে। এক সময়ে সে নিস্তেজ হয়ে আসে। মারকুটের দল দূরে সরে হাঁপায়।

ঠিক তখনই চিৎকার শোনা যায় মালিকের ঘর থেকে, শিশুটির: “মাম্মি, হেল্প। প্লিজ় হেল্প। একটা স্নেক মাম্মি। আমার পায়ে বাইট করেছে...”

স্তব্ধ বুধাইয়ের ঠোঁটে হালকা রেখা দেখা যায়। সে কি হাসছে? ক্রমে সে রেখা স্থির হয়ে যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন