ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।
মুষলধারায় বৃষ্টি পড়ছে। সাতসকালে আকাশ জুড়েমেঘের রাজত্ব। দস্তারঙের মেঘ আষ্টেপৃষ্ঠে জাপ্টে ধরেছে নীল রঙের আকাশকে। বাড়ির সামনের দশ ফুট চওড়া ঢালাই রাস্তায় ছপছপে জল। উল্টো দিকের নিরালা ছাত্রীনিবাসের সামনে পাঁচুর চায়ের দোকানের ঝাঁপ নামানো। রাস্তায় লোকজন প্রায় নেই। দূরের প্যান্ডেল থেকে ভেসে আসছে কিশোরকুমারের গমগমে কণ্ঠস্বর, “আজ এই দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রাখো…”
গানের ফাঁকে ফাঁকে শোনা যাচ্ছে পাশের বাড়ির বাবুরামের পড়া মুখস্থ করার আওয়াজ, “পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনও স্থানের ঠিক বিপরীত স্থানকে ওই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে। অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট স্থান হতে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে যদি কোনও সরলরেখা টানা হয়, তা পৃথিবীর অপর যে প্রান্তে ভেদ করবে তাকে প্রথম স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে...”
সামনে বাবুরামের মাধ্যমিক। ও ক্লাসের ফার্স্টবয়। পুজোর সকালেও ওর পড়ার বিরাম নেই।
হঠাৎ ডোরবেলের শব্দ হতে ছুটির আলস্যে ছানা কেটে গেল। দরজার সামনে ছাতা-মাথায় কেউ দাঁড়িয়ে! দরজা খুলতেই সে বলল, “আমি রাজা। পত্রিকাটা নিয়ে নাও, দাদা। বাইরে পড়ে থাকলে ভিজে যাবে।”
সাধারণত পেপারওয়ালার থেকে আমি শারদীয়া নিই না। পাড়াতেই বিমলদার পেল্লাই বইয়ের দোকান। প্রতি সপ্তাহে কলেজ স্ট্রিটে যায়। ওকেই বলে দিলে এনে দেয়। এ বারে তিনটি পত্রিকা আনতে বলেছিলাম। দু’টি এনেছিল, একটি পায়নি। তাই রাজাকে বলেছিলাম।
“এই বৃষ্টিবাদলে কেন এলি? আমাকে পরে দিলেও চলত।”
“কলকাতা থেকে পত্রিকাটা আনতে দেরি হয়ে গেল। ভাবলাম, যাই দিয়ে আসি। ঘরে ফেলে রেখে কী আর করব,” একগাল দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল ভেদ করে মলিন হাসে রাজা।
নাম রাজা। কিন্তু অবস্থা সাধারণ প্রজার থেকেও খারাপ। ছেলে ভাল। দক্ষিণবাজারে বাড়ি। বাংলায় এমএ পড়েছে। পড়াশোনায় মন্দ ছিল না। তবে চাকরি-বাকরি জোটাতে পারেনি। এক দিন বলছিল, “আমরা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগই পাইনি। হয়তো তোমাদের মতো সুযোগ্য নই। কিন্তু আমাদের অযোগ্যতাও প্রমাণিত হয়নি।”
কথাগুলির মধ্যে প্রচ্ছন্ন শ্লেষ ছিল। কিন্তু কথাটা ফেলে দেওয়াও যায় না। গত বেশ কিছু বছর হাই স্কুল ও প্রাইমারি স্কুলে নিয়োগ বন্ধ। অন্যান্য চাকরির অবস্থাও তথৈবচ। শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা কোথায় যাবে? আকাশ থেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতো, অসংখ্য যোগ্য বেকার ছেলেমেয়ের চোখ থেকে জলের ফোঁটা ঝরেছে। সে দিকে কারও নজর নেই। বৃষ্টির জল চোখে পড়ে, চোখের জল আড়ালেই থেকে যায়।
সকাল সাড়ে দশটাতেও রোদের দেখা নেই। আজ সূর্যদেবের সব তেজ শুষে নিয়েছেন বরুণদেব। আসলে এমনও দিন আসে, যখন মহাবলী মধ্যম পাণ্ডব জয়দ্রথের মতো অপদার্থকে অতিক্রম করতে পারেন না! আজ বোধহয় সেই রকমই এক দিন। চার পাশ আবছা-স্যাঁতসেঁতে। বৃষ্টি সমানে পড়ছে। গতকাল মাঝরাত থেকে শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতর বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। বিকেলের পর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।
এই আবহাওয়ায় কে আর বেরোতে চায়? তবুও বেরোতে হয়। হাঁটু পর্যন্ত ট্রাউজ়ার্স গুটিয়ে, মাথায় ছাতা, হাতে থলি— গন্তব্য আনাজপাতির বাজার।
মাকে বলেছিলাম; চালে-ডালে ঘেঁটে দিতে, খেয়ে নেব। কিন্তু মাতাশ্রী চোখ কপালে তুলে আমাকে জানাল, “তোর বয়স বেড়েছে, বুদ্ধি বাড়েনি! পুজোয় বাড়িতে মেয়ে-জামাই এসেছে, তাদের খিচুড়ি খাওয়াব? বুদ্ধির বলিহারি…”
বাজারে গিয়ে দেখি অধিকাংশ আনাজওয়ালাই বসেনি। ক্লাসরুমের মতো লম্বা শেডের নীচে গুটিকয়েক চাষি শুকনো মুখে বসে আছে। আনাজপাতি অল্প। ফলে দাম বেশি।
বাজারের সরু গলি ছেড়ে বড় রাস্তায় উঠতেই, বিল্টুর সঙ্গে দেখা। মাথায় হেলমেট, পরনে রেনকোট, পিছনে ঢাউস ব্যাগ। যেমন অনলাইন ডেলিভারি বয়দের থাকে।
আমাকে দেখেই বাইক থামিয়ে বলল, “স্যর, আপনার পার্সেলটা এখানেই নেবেন? নাকি বাড়ি যাব?”
অনলাইনে একটা ছোট্ট সাইডব্যাগ অর্ডার করেছিলাম। আমি একটু ব্যাকডেটেড। অনলাইনে কেনাকাটায় ঠিক ভরসা করতে পারি না। তবে পুজোর অফারে বেশ সস্তায় পেয়েছিলাম ব্যাগটা। কিছুটা কিন্তু-কিন্তু করেই অর্ডার করেছিলাম...
বললাম, “না-না, এই বৃষ্টিতে তোকে আর বাড়ি যেতে হবে না। এখানেই দিয়ে দে।”
প্লাস্টিকে মোড়া প্যাকেট আমার হাতে দিয়ে বিল্টু বলল, “চলি স্যর।”
“এই ওয়েদারেও তোকে বেরোতে হল?”
“কী করব স্যর! পুজোর সময় চাপ থাকে। এই ক’দিন আমাদের প্রায় ডবল ডেলিভারি করতে হয়।”
বাইক ঘুরিয়ে চলে গেল বিল্টু। ওর সেকেন্ড-হ্যান্ড বাইকের চাকা থেকে ছিটকে পড়ছে রাস্তার নোংরা জল। ওই চাকা যত জোরে ঘুরবে, ওর রোজগার তত বাড়বে। একটা পার্সেল ডেলিভারি করলে মাত্র চোদ্দো টাকা পায় ছেলেটা!
বিএড পড়ার সময় এক মাস প্র্যাকটিস-টিচিং করতে হয়েছিল শ্যামপুর কামিনী উচ্চ বিদ্যামন্দিরে। সেখানে মাত্র ওই ক’টা দিন পড়িয়েছিলাম ওদের। তখন আমি নিজেই ছাত্র। তবুও সেই এক মাস পড়ানো আজও মনে রেখেছে সহজসরল মোটামাথার বিল্টু খাঁ। রাস্তায় যেখানেই দেখা হোক, যত কাজই থাক— আমাকে দেখলেই ওর বাইক থেমে যায়! গত দশ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এই পৃথিবীর। শুধু বিল্টুর ‘স্যর’ ডাকে আসেনি কোনও পরিবর্তন। বোধহয় সবার মন আবহাওয়ার মতো খামখেয়ালি নয়। কিছু মানুষের আধার জলবায়ুর মতো ধীর, স্থির, নম্র। এখন মাঝেমধ্যে মনে হয়, এই চালাকচতুর পৃথিবীতে, দু’-একটা বোকাসোকা বিল্টু অতি প্রয়োজনীয়।
দামি কোম্পানির ছাতায় মাথা বেঁচেছে। শরীর বাঁচেনি। আধভেজা হয়ে বাড়ি ফিরে ব্যাগপত্র নামিয়ে রাখছি, এমন সময় পিছন থেকে কানে এল ক্রিং-ক্রিং শব্দ। বুঝলাম, জহর এসেছে। দুধ নিয়ে। ছাঁকনি দিয়ে দুধ ছাঁকতে-ছাঁকতে জহর বলল, “দাদা, কবে থেকে ছুটি পড়ল?”
“এই তো ক’দিন আগে পড়েছে,” দুধের বাটি হাতে নিয়ে বললাম, “তুমি তো পুরো ভিজে গেছ!”
“কী করব দাদা, আমাকে বেরোতেই হবে। অনেক বাড়ির বাচ্চা-বাচ্চা ছেলেমেয়ের ভরসা আমার দুধ। আমাদের ছুটি নেই।”
“একটা রেনকোট পরতে পারতে। তা হলে…”
“ও-সব পরে সাইকেল চালানো যায় না। খুব গরম লাগে।”
“আর কত ক্ষণ ঘুরতে হবে?”
“এখনও সাতটা বাড়ি বাকি। তা ধরো, ঘণ্টাখানেক,” একটু থেমে জহর বলল, “তার পর বাড়ি ফিরে আবার রান্নাবান্নার ঝামেলা আছে…”
জহরের বাবা নেই। অসুস্থ মা শয্যাশায়ী। সংসারের সব কাজ জহরের ঘাড়ে। বললাম, “এ বার একটা বিয়ে করো জহর। এ ভাবে আর কত দিন টানবে?”
“মেয়ে পাচ্ছি না দাদা। অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু... এখন সবাই চাকরিওয়ালা ছেলে চায়। আমার মতো গরিব গয়লাকে কে মেয়ে দেবে?” জহরের দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, “আমাদের জাতের না হলেও চলবে। আমার টাকাপয়সারও দরকার নেই। শুধু একটা সুস্থসবল মেয়ে হলেই হবে। কিন্তু পাচ্ছি কই?”
জহরের মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। ওকে আশ্বস্ত করে বললাম, “চিন্তা কোরো না। দেখাশোনা করতে-করতে ঠিক হয়ে যাবে। তোমার মতো শিক্ষিত কর্মঠ ছেলের বিয়ে হবে না— তাই কখনও হয়?”
“এক জায়গায় কথাবার্তা অনেকটা এগিয়েছিল। কিন্তু ওরা আমার মাকে দেখে রাজি হল না। মেয়ের বাপ বলল, ‘বিয়ের পর আমার মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতে হবে।’ তুমিই বলো দাদা, বৌয়ের জন্য মাকে ছেড়ে দেব?”
নিজের সুখ-স্বার্থের কথা ভেবে, মানুষ অনেক সময় নিজের অবস্থানের কথাই ভুলে যায়। বাবা ভুলে যায়, তার মেয়েও এক দিন মা হবে। সেই মায়েরও এক দিন রোগজ্বালা হবে, তখন?
সাইকেলটা ঘুরিয়ে নিয়ে সিটের উপর চেপে বসল গোলগাল সবল-নধর জহর। যাওয়ার আগে লাজুক মুখে বলল, “তোমার হাতে কোনও মেয়ে থাকলে জানিয়ো দাদা।”
এখন হাওয়া-অফিসের অনেক উন্নতি হয়েছে। ওদের কথামতো সত্যি-সত্যিই বিকেল চারটের পর বৃষ্টি থেমে গেল! আর বাড়িতে বসে থাকা সম্ভব নয়। সন্ধের মুখে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম, বৃষ্টিভেজা শহরতলির জলে ভেজা রাস্তায়। তখনই চোখে পড়ল, ছেলেটা নাচছে!
‘দো ঘুঁট মুঝে ভি পিলা দে শরাবি, দেখ ফির হোতা হ্যায় কেয়া…’ গানের তালে কোমর দুলিয়ে, হাত-পা নাড়িয়ে মনের আনন্দে বারো-চোদ্দো বছরের ছেলেটা নেচে চলেছে। পুজোমণ্ডপের সামনে।
ছাল-ছাড়ানো পিচরাস্তা কাদা-প্যাচপেচে। দোকানপাটের ঝাঁপ নামানো। নবমীর সন্ধ্যায় যারা সাজগোজ করে ঠাকুর দেখবে ভেবেছিল, তারা আর সাহস পায়নি। মণ্ডপগুলি ফাঁকা-ফাঁকা। এমনই এক জলে-ভেজা ফাঁকা মণ্ডপের সামনে— লিকলিকে শরীর, খালি গায়ে পুরনো রংচটা একটা বারমুডা পরে হাসিমুখে নাচছে ছেলেটা! তেলবিহীন রুক্ষ চুল আর পাঁজর-সহ বুকের খাঁচা দেখেই বোঝা যায়, দারিদ্রের সঙ্গে হাতাহাতি করে বেঁচে আছে। হয়তো মা-বাপ নেই। দু’বেলা দু’মুঠোর জন্য কোনও চায়ের দোকানে এঁটো গ্লাস ধোয়। পেট ভর্তি খাবার, পরার মতো জামাকাপড় পায় না। তবুও এত খুশি! কোথা থেকে আসে? কই নতুন জামাকাপড়ে ঢাকা লোকজনের চোখেমুখে তো এই আনন্দ নেই!
মাঝেমধ্যে গুটিকয়েক দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢুকছে, বেরোচ্ছে, সেলফি তুলছে— ছেলেটির সে দিকে হুঁশ নেই! সে নিজের আনন্দেই আত্মহারা। মণ্ডপ থেকে দেবী মা স্মিত মুখে, বড়-বড় চোখে তাকিয়ে আছেন।
কী দেখছ মা? তোমার পুজোয় লক্ষ-লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। কত লোক দু’হাতে ওড়াচ্ছে, দু’হাতে কামাচ্ছে। অথচ এই গরিব ছেলেটার জন্য একটা নতুন জামা জোটাতে পারলে না? না কি গরিবদের উপর তোমার নজর নেই?
বিষণ্ণমনে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে বাইকে স্টার্ট দিলাম। কিন্তু এগোতে গিয়েই বাধা, “কদ্দূর যাবে বাবা?” পঁয়ষট্টি-সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ প্রশ্নটি ছুড়ে দিলেন আমার মুখের উপর।
“এই সামনেই। পাঁচখুরি।”
“আমাকে রাধাবল্লভপুরে নামিয়ে দিবে? তুমার রাস্তাতেই পড়বেক।”
পরনে খাটো ধুতি। হাফ-হাতা পাঞ্জাবি। সাদা চুল। মুখে কয়েক দিনের খোঁচা-খোঁচা দাড়ি। চোখে আর্তি। দেখে মায়া হল।
পিছনে চেপেই বুড়ো বলল, “ভেবেছিলুম বেলাবেলি দেবী-দরশন করেই ফিরা যাবেক। কিন্তু হলনি। সেই দেরি হয়েই গেল! দেখতে দেখতে আঁধার নামল। আজকাল আবার চোখেও ভাল দেখি না। ছানি পড়ছে। তাই…”
এ-সব কথার কোনও উত্তর হয় না। কেবল শুনতে হয়। দূরের রাস্তায় আলো ফেলে জলকাদা এড়িয়ে, এগিয়ে যেতে হয় সাবধানে। হাতের ক্লাচ আর মনের ক্লাচে সামঞ্জস্য রেখে। বুড়ো কিন্তু থেমে নেই, “কী নাম বাবা তুমার?”
নাম বললাম।
“বাড়ি কুথায়? কী করো, চাকরি?”
ইচ্ছা না থাকলেও উত্তর দিলাম, একে-একে।
“তুমি মাস্টার! হাই ইস্কুল না পেরাইমারি?”
“হাই স্কুল।”
“বাঃ, খুব ভাল। বিয়া করেছ?”
গ্রামের মানুষরা এ রকমই। মুখে কোনও ফিল্টার নেই। মনে যা আসে, মুখে তা-ই বলে। প্রথাগত শিক্ষার জটিলতা এখনও এদের মধ্যে প্রবেশ করেনি। নিজেরা সহজ-সরল ভাবে বাঁচে, কথা বলে, ঘুরে বেড়ায়। ভাবে, পৃথিবীর আর সবাই তাদেরই মতো। শহুরে শিক্ষিত রুচিশীল মানুষরা প্রথম পরিচয়ে যে প্রশ্ন করার কথা স্বপ্নেও ভাবে না, এরা নির্দ্বিধায় সে সব প্রশ্ন করে বসে। এবং আশা করে উত্তরের। উত্তর দিতেও হয়।
“না। এখনও হয়নি।”
“আমার দূরসম্পর্কের এক নাতনি আছে। বিয়া করবে?”
জীবনে অনেক কঠিন, জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। কখনও উত্তর দিয়েছি, কখনও পারিনি। কিন্তু এ প্রশ্নের কী উত্তর দেব? আর এগোনো উচিত নয়। থামলাম।
“এ কী, গাড়ি থামালে যে!” বুড়োর গলায় অবাক স্বর।
“রাধাবল্লভপুর এসে গেছে।”
বুড়ো চার পাশে তাকিয়ে একগাল হেসে বলল, “তা-ই বলো। কথা কইতে-কইতে কখন চলে এয়েছি, বুইতেই পারিনি।”
কিন্তু আমি ছাড়া পেলাম না। আমার হাতের উপর হাত রেখে বুড়ো বলল, “বড় দুঃখী মেয়ে। দেখতে ভাল। বিএ পড়েছে। আর পড়তে পারেনি। গরিব। বাপ নাই। গেল-বছর সাপ-কাটিতে মরেছে। তুমার সঙ্গে ভাল মানাবেক। করবে বিয়া?”
কী উত্তর দিই? মুখ তুলে তাকাতেই বুড়োর চোখে চোখ পড়ল। অবাক হয়ে দেখলাম, বুড়োর চোখের তারায় আমি নেই! আমার প্রতিবিম্বের বদলে সেই ছেলেটা! দু’-হাত তুলে, কোমর দুলিয়ে নাচছে! অথচ মুখটা অবিকল দাড়িগোঁফে ঢাকা রাজার মতো! চোখ বিষণ্ণ! কিছু যেন বলতে চায়। হঠাৎই রাজার মুখ পাল্টে হয়ে গেল বিল্টুর মুখ! হেলমেট থেকে গড়িয়ে পড়ছে জল। নাকি চোখ থেকে? ক্ষণিকের মধ্যেই বিল্টু মুছে গিয়ে সামনে এল জহর। ঠান্ডা গলায় জহর বলল— ‘তোমার হাতে কোনও মেয়ে থাকলে জানিয়ো দাদা...’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে