Bengali Literature

শতরান

সত্যানন্দের নিজের ভাইবোনেরা মিলে সম্পত্তির লোভে তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়ে আশ্রয়হীন করে দিয়েছিল।

সুজিত বসাক

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৫২
Share:

ছবি: রৌদ্র মিত্র।

রাত দশটার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা, কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে ভর্তি, ভোররাতের দিকে সব শেষ। এই মুহূর্তে লোকটা লাশ হয়ে পড়ে রয়েছে শ্মশানে, একটু পরে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। মানুষ যেন একটা প্রোডাক্ট ছাড়া আর কিছু নয়! এক দিন তৈরি হয়, কিছুকাল ব্যবহৃত হয়, তার পর এক্সপায়ারি ডেট এলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এই যে সত্যানন্দ নামের মানুষটি পৃথিবীতে এসেছিলেন, কিছু দিন থাকলেন, মাত্র চুয়ান্ন বছর বয়সে বিদায়ও নিলেন— এ-সব কি কোথাও লিপিবদ্ধ থাকবে? অথচ এমন এক জন মানুষের স্মরণীয় হয়ে থাকা উচিত ছিল। কারণ এই মানুষটি একেবারেই বিরল প্রজাতির মানুষ।

সত্যানন্দের নিজের ভাইবোনেরা মিলে সম্পত্তির লোভে তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়ে আশ্রয়হীন করে দিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি তাদের সঙ্গে ঝগড়া তো দূরের কথা, কখনও কোনও কটুবাক্য পর্যন্ত বলেননি। স্বেচ্ছায় সব কিছু ছেড়েছুড়ে দিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ভাড়াবাড়িতে। উপরন্তু বড় বোনের ছেলে যখন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং বাড়ির লোকজন হন্যে হয়ে বিশেষ একটি গ্রুপের রক্তের জন্য ছোটাছুটি করছে, শোনামাত্র সেখানে হাজির হয়েছিলেন সত্যানন্দ। কারণ তাঁর রক্তও ওই বিশেষ গ্রুপের। ভাগ্নের প্রাণ বাঁচানোর জন্য পুরনো কোনও তিক্ততা মনে আসতে দেননি তিনি। রক্ত দিয়ে ফেরার পথে বড় বোন কিছু টাকা হাতে গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করে সস্নেহে বলেছিলেন, “ও-সব দিচ্ছিস কেন, আমি কি তোর পর?”

সত্যানন্দ অত্যন্ত সাদামাটা, নিরীহ প্রকৃতির, মুখচোরা, ঘাড় নিচু করে চলা, কিন্তু দৃঢ় মানসিকতার এক জন মানুষ ছিলেন। জীবনে বহু অভাব-অভিযোগ কষ্ট সহ্য করে বড় হয়েছেন। বাবার সঙ্গে অনেক বিষয়ে মতানৈক্য হলেও কখনও বাবা-মাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি। বাবার অসৎ পথে রোজগারের ঝোঁক তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, ছেলে হয়ে বাপকে বোঝানোরও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে একটাই কাজ করেছেন, সেই অর্থের ভোগসুখে কখনও আগ্রহ দেখাননি। সেই জন্যই বোধহয় বাবার মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি ভাইবোনেরা যখন নিজেরাই ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিল, তিনি স্বেচ্ছায় দিয়ে দিয়েছিলেন, আপত্তি করেননি।

বিয়ে হয়েছিল সত্যানন্দের। কিন্তু স্ত্রী শোভনা তাঁকে বুঝতেই পারেননি। এক বছর যেতে না যেতেই ছেড়ে চলে গেলেন তাঁকে। তলে তলে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর। মজার ব্যাপার হল, সত্যানন্দ সেটা জেনেও ফেলেছিলেন। কিন্তু কোনও দিন প্রতিবাদ করেননি। তবে ব্যাপারটা একটু বাড়াবাড়ির দিকে যাচ্ছে দেখে এক দিন শোভনাকে একান্তে ডেকে বলেছিলেন, “আমি জানি তুমি আমাকে ভালবাসো না। প্রদীপ নামের একটি ছেলেকে ভালবাসো। ভালবাসা জিনিসটা ভিতর থেকে আসে, জোর করে হয় না। আর অন্তরের ভালবাসাকে আমি সম্মান করি। তুমি যদি ওকে চাও, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। ভালবাসাহীন সম্পর্ক আমি সমর্থন করি না, বয়ে বেড়াতেও চাই না।”

শোভনা কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলেন সত্যানন্দের মুখের দিকে। লোকটা কি পাগল!

সত্যানন্দ শান্ত গলায় বলেছিলেন, “অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমি পাগলও নই। সত্যিটাকে স্বীকার করে নিতে জানি। বিয়ে মানে জোর করে অধিকার স্থাপন করা নয়। মনের উপর দখলদারি চলে না। তুমি চাইলে তোমার মনের মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধতে পারো।”

ওঁদের সন্তানাদি ছিল না। মোহগ্রস্ত শোভনা চলে গিয়েছিলেন। প্রেমের টান বড় টান, সেই টান উপেক্ষা করে ফিরে আসা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। শোভনাও পারেননি। পাড়ায়, চেনা-পরিচিত মহলে অনেক কথা হয়েছিল। সত্যানন্দ নীরবে সহ্য করেছিলেন সে-সব কুকথা। সহ্য করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছোট থেকেই ছিল তাঁর মধ্যে। এটাই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল, কিন্তু উনি নিজে মনে করতেন, ওটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, যে সহ্য করতে জানে, এক দিন সব কিছু তার কাছে ফিরে আসে।

সবাই ধরেই নিয়েছিল, এই মানুষটার শেষ জীবন মোটেই ভাল কাটবে না। বাড়ি নেই, টাকাপয়সা নেই, বৌ নেই, সন্তান নেই, আত্মীয়স্বজন থেকেও না থাকার মতো— কে দেখবে তাঁকে? কিন্তু সব হিসাব তো মেলে না। এক অবাক করা কাণ্ড ঘটে গিয়েছিল ওঁর জীবনে। কোথা থেকে হঠাৎ করে এক ভবঘুরে ছেলে হাজির! তাকে শেখাতে হবে ছবি বাঁধাইয়ের কাজ। প্রথমে রাজি হননি সত্যানন্দ। কিন্তু পৃথিবীতে ছেলেটার কেউ নেই, জানার পর আর আপত্তি করেননি। মায়ামাখা মুখ, সহজ-সরল চাউনি, শান্ত নম্র স্বভাব। নিজের কাছেই আশ্রয় দিয়ে, কাজ শিখিয়েছেন। ধীরে ধীরে ও-ই হয়ে উঠেছিল সত্যানন্দের যষ্টি। মৃত্যুর দোর পর্যন্ত সঙ্গ দিয়েছে তাঁকে। ওর নাম রঞ্জন, ডাক নাম রঞ্জু।

*****

এই মুহূর্তে রঞ্জু আমার সামনেই বসে রয়েছে। আমি নিখিলেশ সান্যাল। পেশায় ব্যবসায়ী। বেশ কয়েক রকমের ব্যবসা আছে আমার। তার মধ্যে একটি ছবি বাঁধাইয়ের দোকানও আছে। আমি মালিক হলেও সেটি সামলাতেন সত্যানন্দবাবু। তাঁর হাতের কাজ ছিল খুবই পরিপাটি। শিল্পবোধও ছিল প্রখর। ছবির চরিত্র অনুযায়ী ফ্রেমের ভিতরকার কার্ডবোর্ডের রং, ফ্রেমের ডিজ়াইন খুব ভাল বুঝতেন। কাস্টমাররা চোখ বন্ধ করে সব ছেড়ে দিতেন সত্যানন্দবাবুর উপর। রঞ্জু তাঁর সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করত। সত্যানন্দবাবুর জীবনবৃত্তান্ত পুরোটাই আমার জানা। বর্তমানের স্বার্থবাদী দুনিয়ায় তিনি এক জন বেমানান মানুষ ছিলেন। কিন্তু আমি অনুভব করতাম, এমন নির্মোহ কিছু মানুষ আছে বলেই সমাজের পচা গন্ধটা নাকে আসে না। ভিতরের পচন সম্পর্কে আমরা সবাই কম-বেশি অবহিত। সত্যান্দবাবুর অসুস্থ হওয়ার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ছুটে গিয়েছিলাম। যথাসম্ভব চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মৃত্যুর তো একটা কারণ লাগে, সেটা পেয়ে গেলে আর কোনও চেষ্টা কাজে আসে না।

সত্যানন্দবাবুকে ডাক্তার দেখানো, হাসপাতালে ভর্তি করানো, সব দায়িত্ব আমাকেই নিতে হয়েছিল। রঞ্জু তাঁর খুব সেবাযত্ন করলেও এ-সব ওর পক্ষে সম্ভব ছিল না। যদিও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারিনি, তবুও এটুকু করতে পেরে কিছুটা আত্মতুষ্টি পেয়েছি। মানুষটা চলে গেলেন ঠিকই, কিন্তু কষ্ট লাঘব হয়েছে এই ভেবে যে, একেবারেই না ভুগে সজ্ঞানেই চলে গেলেন। এমন একটা মানুষের এমন মৃত্যুই তো কাম্য।

গতকাল সন্ধের পর ফোন করে বলেছিলেন, “শরীরটা একটু খারাপ, আজ আর যাব না, দু’দিনের হিসাব একবারে বুঝিয়ে দিয়ে আসব।”

অসম্ভব সিনসিয়ার মানুষটি আমাকে প্রতিদিন দোকানের হিসাব পাই-টু-পাই বুঝিয়ে দিয়ে যেতেন ঘরে ফেরার আগে। তবে শরীর খারাপ থাকলে মাঝে মাঝে এমন গ্যাপ দিতেন। তার জন্য দুঃখপ্রকাশও করতেন। ওঁর সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে কখনও কোনও দিন আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগেনি। অনেকে বলত, “এ ভাবে ওঁর উপর দোকানের সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ভুল করছিস।” আমি কারও কথায় কান দিইনি। মানুষ চিনতে আমার অতটা ভুল হয় না।

ওঁর শরীর যে অতটা খারাপ, কেউই ভাবিনি। রাতে হঠাৎ রঞ্জুর ফোন। সত্যান্দবাবুর বুকে ব্যথা হচ্ছে, এক্ষুনি যেতে হবে। বুঝলাম, কেস সিরিয়াস। যাওয়ার পথে আমাদের ফ্যামিলি ফিজ়িশিয়ান ডক্টর কল্যাণ মিত্রকে তুলে নিয়ে গেলাম। কাছাকাছিই থাকেন। উনি দেখেই বললেন, “কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, এক্ষুনি হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।”

অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে উনিই সব ব্যবস্থা করে দিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোররাতে সত্যানন্দবাবু পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। মৃত সত্যানন্দের মুখের দিকে তাকিয়ে আমার এক অদ্ভুত অনুভূতি হল। ওঁর মতো সৎ লোকেরা অসম্ভব খারাপ ও বিধ্বংসী পিচে টিকে থাকা চোয়াল-শক্ত ব্যাটসম্যান। এঁদের মর্যাদাই আলাদা। এঁরা সত্যিকারের খেলোয়াড়। এঁদের হারাবে সাধ্য কার? জীবনের খেলাতেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ড্যাং ড্যাং করে চলে গেলেন। অন্য দিকে কিছু উটকো খেলোয়াড় লম্বা-চওড়া ডায়ালগ ঝেড়ে বোঝানোর চেষ্টা করে বেড়ায়, তারা কত বড় খেলোয়াড়! এঁদের কাছে তারা কোথাও লাগে!

মুখাগ্নি করেছে রঞ্জু। ছেলেটা খুব কেঁদেছে, খুব কষ্ট পেয়েছে। ওকে দেখে আমার মনে হয়েছে, রক্তের সম্পর্কই শেষ কথা নয়। রঞ্জুর উদ্যোগে সত্যানন্দবাবুর পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়ে গেল।

সামান্য টাকাপয়সা দিয়ে নিমিত্ত থাকতে পেরে আমারও ভাল লাগল। মনে মনে হাসি পেল একটা কথা ভেবে। কারা যেন আশঙ্কা করেছিল, এই লোকটার শেষ জীবন খুব দুঃখকষ্টে কাটবে! হায় রে মানুষের হিসাব! আসল হিসাবরক্ষক উপরে থাকেন, সকলের অলক্ষে, তাঁর হিসাবই শেষ হিসাব।

সব কিছু মিটে যাওয়ার পর এক দিন রঞ্জুকে ডেকে বললাম, “উনি তো চলে গেলেন, তুই একা দোকান চালাতে পারবি? তুই ভাল কাজ শিখেছিস, সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু দোকান চালাতে একটু অন্য জ্ঞানও লাগে। এখন তুই যদি ভরসা দিস, তবেই ওই দোকান রাখব। নইলে অন্য কিছু ভাবব। আনকোরা নতুন কাউকে এনে আমি দোকানে বসাতে চাই না। সত্যানন্দবাবুর উদ্যোগেই এক দিন ওই দোকান খুলেছিলাম। আমাকে প্রচুর মুনাফাও করিয়ে দিয়েছেন। তুই ওঁর হাতে তৈরি, তাই তোকে ভরসা করতে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তোর ইচ্ছেটাও তো জানতে হবে… তাই না?”

রঞ্জু বলল, “আমি রাজি। এমন সুযোগ আমি হুট করে অন্য কোথাও তো পাব না। কাকু বলতেন, আপনার মতো মানুষ হয় না। এটাও বলেছিলেন, আপনি না ছাড়ালে আমি যেন ছেড়ে না যাই।”

স্বস্তি পেলাম আমি। বললাম, “বেশ। আমি ঠিক করেছি, এ বার থেকে ঠিক মাইনে নয়, আমার দোকান থেকে লাভের একটা অংশ তোকে দেব। যাতে বিয়ে-থা করলে তোর সংসার চালাতে অসুবিধে না হয়। কী রে, খুশি তো?”

রঞ্জুর চোখ চিকচিক করে উঠল।

আমি হেসে বললাম, “অত আবেগতাড়িত হওয়ার দরকার নেই। তোর পরিশ্রমের একটা পয়সাই তোকে দেব। আমি যে খুব দয়া করছি, তাও কিন্তু নয়। শোন, এর জন্য উকিল দিয়ে কিছু কাগজপত্র তৈরি করাতে হবে। আপাতত এই কাগজে তোর নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম এই সব নিজস্ব তথ্যগুলো লিখে দে, পরে পরিচয়পত্রের ফোটোকপি করিয়ে দিয়ে দিস।”

আমি একটা সাদা কাগজের প্যাড ও কলম এগিয়ে দিলাম রঞ্জুর দিকে। রঞ্জু লিখতে লিখতে বলল, “পড়াশোনায় খুব একটা খারাপ ছিলাম না। কিন্তু কপাল মন্দ। বাস অ্যাক্সিডেন্টে বাবা-মা এক সঙ্গে মারা গেল। সম্পত্তির লোভে দুই জেঠু এক সময় পর হয়ে গেল। ইস্কুলে যাওয়া বন্ধ করে কাজে লাগিয়ে দিল।”

কৌতূহল হল, জিজ্ঞেস করলাম, “এখানে এলি কী ভাবে?”

“মায়ের জন্য। বেঁচে থাকতে কেন জানি না মা এক দিন আমাকে বলেছিল, যদি কখনও খুব বিপদে পড়িস, তা হলে শ্রীরামপুরে এক কাকু আছে, সেখানে চলে যাস। সবাই ফেরালেও সে ফেরাবে না। সে অন্য রকম মানুষ। মা ঠিকানাপত্র লিখে রেখেছিলেন। জেঠুদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এক দিন পালিয়ে এলাম এখানে।”

রঞ্জু লেখা শেষ করে কাগজটা আমার দিকে এগিয়ে দিল। আমি হাতে নিয়ে চোখ বোলাতে গিয়ে একটু চমকে উঠলাম। খুব চেনা-চেনা লাগছে একটা নাম। আমার স্মৃতিশক্তি যথেষ্ট প্রখর, একটু পরেই মনে পড়ে গেল। রঞ্জু বাবার নাম লিখেছে প্রদীপকুমার দাশ, মায়ের নাম শোভনা দাশ।

এক নিমেষে চোখের সামনে থেকে একটা পর্দা সরে গেল যেন। অন্তরাত্মার টান মানুষকে পৌঁছে দেয় ঠিক জায়গায়। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিশক্তি খুবই ক্ষীণ, কতটুকু দূরত্ব পর্যন্তই বা সে দেখতে পায়! আমিও দেখতে পাইনি। সত্যানন্দবাবু জেনেশুনেই রঞ্জুকে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিছুই ছিল না লোকটার, তবুও একটা বৃত্ত তৈরি করে চলে গেলেন। আমিও সৌভাগ্যবান, বাউন্স-ভরা পিচে মানবিকতার অনবদ্য শতরান দেখতে পেলাম।

ছবি: রৌদ্র মিত্র

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন