ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ।
এ গল্পটা আমাদের পাড়ার গণেশকে নিয়ে। কমার্সে পাস-গ্র্যাজুয়েট, ডালহৌসিতে প্রাইভেট কোম্পানির চাকুরে গণেশচন্দ্র মাজি। নিপাট ভদ্র ও সাতে-পাঁচে না থাকা এক জন সংসারী মানুষ। অল্পে-খুশি গণেশের চাহিদা কম বলে, তার জীবনে আনন্দের অভাব নেই মোটে। শুধু একটাই সমস্যা, গণেশ ঘুমোতে ভালবাসে। ভালবাসে মানে, পাগলের মতো ভালবাসে।
ঠাকুমা আদর করে বলতেন, “নাতি আমার কুম্ভকর্ণ।” মায়ের ভাষায়, “ছেলেটা আমার ঘুমের রাজা।” বাবার কথায়, “জমিদার যেন!” জয়জেঠা বলেছিলেন, “লাটসাহেব!” বন্ধুরা গালাগাল দিত, “মড়া কোথাকার!” আর এখন গণেশের গিন্নি শ্রাবণী বলে, “পাক্কা শয়তান একটা! কাজ করার ভয়ে মটকা মেরে পড়ে থাকে।”
আসলে গণেশ জন্ম থেকেই ঘুমোতে ভালবাসে। গণেশের ঘুম ডিপ ফ্রিজে রাখা বরফের মতো। ঢাক বাজল কি বোমা ফাটল, কিংবা পাশের বাড়িতে আগুন লাগল, অথবা পাড়ায় গন্ডগোল বাধল, কিছুতেই গণেশের কিস্সু আসে যায় না।
গণেশের ঘুমের, মানে শোয়ার নানা রকম স্টাইল। চিত হয়ে কিংবা ডান পাশ বা বাঁ পাশ ফিরে তো আছেই। তা ছাড়া পায়ের ওপর পা তুলে জমিদার-স্টাইল, কখনও আবার সুইমার-স্টাইল, মাঝে মাঝে পাশবালিশের উপর ঘোড়ার পিঠে ওঠার মতো করে জকি-স্টাইল, বাদ নেই ফ্রগ-স্টাইলও। মাঝে মধ্যে বিবেকানন্দের স্টাইলে দু’হাত বুকের কাছে ভাঁজ করে, তো আবার কখনও ডান হাত কোনাকুনি উঁচু করে তুলে নেতাজির ‘দিল্লি চলো’র মতো করেও ঘুমোয় গণেশ।
মাঝে মধ্যে মেজাজ হারিয়ে শ্রাবণী চেঁচিয়ে মেয়ে রিম্পাকে বলে ওঠে, “দেখ তো, তোর বাপটা বেঁচে আছে না কি...” বলতে গিয়েও সামলে নেয়। কিন্তু দাঁতগুলোকে সামলাতে পারে না। রাগে কিড়মিড় করে ওঠে।
গণেশ সামান্য সুযোগ পেলেই একটু ঘুমিয়ে নেবে। একদম ইনস্ট্যান্ট! সে-সব রংবেরঙের ঘটনা। বাসে-ট্রামে ঘুমিয়ে পড়ে রাজাবাজার স্টপে না নেমে অনেকেই বাগবাজার টার্মিনাসে চলে যায়। তা বলে ব্যান্ডেলে বৌভাতের নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে কেউ যদি বর্ধমানে নেমে বিয়েবাড়ির ঠিকানা খোঁজে, তা হলে বাড়াবাড়িতে নিঃসন্দেহে দশে দশ পাবে।
গণেশের বৌ শ্রাবণী মাঝে মাঝে হাঁ করে স্বামীর দিকে চেয়ে থাকে। সংসারের কোনও বিষয়েই গণেশের হেলদোল নেই। কোনও বিষয়েই ওজর-আপত্তিও করে না সচরাচর। জীবনে তাপ-উত্তাপের বড়ই অভাব। শ্রাবণীর হাতে মাসমাইনেটা তুলে দিয়েই গণেশ খালাস। শুধু মাসের শুরুতে মাসকাবারি আর প্রতি রবিবার বাজারটা লিস্টি মিলিয়ে করে দিয়েই খালাস। মেয়ের স্কুল-টিউশন-ড্যান্স স্কুল-ড্রয়িং ক্লাস, এলআইসি-র প্রিমিয়াম জমা, ব্যাঙ্কের কাজ সবই শ্রাবণীর দায়িত্ব।
মাঝে মাঝে অস্থির লাগে শ্রাবণীর। অসহায় লাগে নিজেকে। তবে সবচেয়ে লজ্জায় পড়ে ওর নিজের বান্ধবী-মহলে। কারণ গণেশের ঘুমের কথা চেনা-জানা মহলে কারও কাছেই চাপা নেই। বান্ধবীদের মন্তব্য ও প্রশ্নে গায়ে জ্বালা ধরে শ্রাবণীর—
“তোর কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙল?”
“ইসস! আমারটা যদি এমন ঘুমকাতুরে হত, তা হলে আমি অন্তত একটু শান্তিতে ঘুমোতে পারতাম।”
“তুই খুব বেঁচে গেছিস শ্রাবণী, দিনের মধ্যে সতেরো বার চা-চা করে মাথা খারাপ করে না তোর বরটা।”
“তোর কী কষ্ট রে শ্রাবণী, গণেশদা শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ে?”
“আর নতুন কী কাণ্ড ঘটাল তোর ঘুমন্ত কর্তা?”
শ্রাবণী মিটমিট করে হাসে আর চুপচাপ শুনে যায় এই সব ঠাট্টা-টিপ্পনী, বাঁকা-ট্যারা প্রশ্ন। তাই বলে হাল ছেড়ে তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না ও।
তাই অনেক ভেবেচিন্তে শ্রাবণী ঠিক করল, ডাক্তারের কাছে যাবে। ওর স্থির বিশ্বাস, এটাও এক ধরনের রোগ। শ্রাবণীর এক মাসতুতো ভাই লালু পিজিতে চাকরি করে। সে এক চেনা ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে গেল দিদিকে, জামাইবাবুকে না জানিয়ে।
“কী হয়েছে বলুন,” ডাক্তার বলেন শ্রাবণীকে।
“আমার কিছু হয়নি,” শ্রাবণী জবাব দেয়।
“সে কী! তা হলে পেশেন্টকে নিয়ে আসেননি কেন?”
“উনি বাড়িতে ঘুমোচ্ছেন।”
“অদ্ভুত ঘটনা! পেশেন্টকে ছাড়া আপনারা কেন এসেছেন?”
এ বার শ্রাবণী আর লালু পুরো ব্যাপারটা খুলে বলল।
ডাক্তার সব শুনে বললেন, “এটা হচ্ছে ঘুম-রোগ, ডাক্তারি ভাষায় বলে ‘হাইপারসোমনিয়া’। আপনারা যা বললেন, আমার মনে হচ্ছে ওঁর এটা প্রাথমিক স্টেজ। তেমন চিন্তার কিছু নেই। আপনি বরং ওঁকে নানা কাজে ইনভল্ভ করতে চেষ্টা করুন। ব্যস্ত রাখুন পেশেন্টকে। কর্তার যে বিষয়ে ইন্টারেস্ট, সেই বিষয়গুলো খুঁজে বার করুন, তার পর সেই ভাবে ওঁকে...”
“ওর তো ওই একটা ব্যাপারেই ইন্টারেস্ট…” ডাক্তারবাবুর কথার মাঝেই শ্রাবণী না বলে পারে না, “ফোন বা পেপার নিয়ে বসলেও পাঁচ মিনিটের বেশি সোজা থাকতে পারে না। আজকাল তো শুনি বেডটাইমে মোবাইল দেখলে নাকি ঘুমের ক্ষতি হয়! কোথায় ডাক্তারবাবু! দু’-তিন মিনিটের মধ্যে হাত থেকে মোবাইল খসে পড়ে যায়।”
“না না আছে, কিছু একটা নিশ্চয়ই আছে, যে বিষয়টা নিয়ে কথা বললে ওঁর ঘুম পাবে না। এমন কোনও কাজ যেটা উনি ইন্টারেস্ট নিয়ে করবেন, জেগে থাকবেন, মানে বেশ উৎসাহ পাবেন। জানেন তেমন কিছু?” জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ডক্টর সেনের।
আকাশ-পাতাল ভাবে শ্রাবণী। তেমন কিছু তো মনে পড়ে না।
আবার প্রশ্ন ডক্টরের, “কত বছরের ম্যারেড লাইফ আপনাদের?”
“তা... বছর এগারো।”
“ওঁর ছোটবেলার গল্প… আগেকার দিনের কোনও কিছু মিস করেন কি উনি এখন? জানেন কিছু?”
দু’দিকে মাথা নাড়ে শ্রাবণী।
“কত কম জানেন!” ডাক্তারের ছোট্ট মন্তব্য।
মুখ নিচু করে নেলপালিশ খুঁটতে থাকে শ্রাবণী।
“মানুষটার সঙ্গে যথাসম্ভব মিশুন, ওঁকে জানার চেষ্টা করুন। ম্যারেড লাইফে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরকে কম জানার জন্য বা পার্টনারের অনেক কিছু না জানার জন্য নানা প্রবলেম হয়। এমনই সব ঘটছে আজকাল, আসলে আমরা নিজেদের নিয়ে এত ব্যস্ত সব সময়… যাকগে, যেমন বললাম, চেষ্টা করে দেখুন। এক সপ্তাহ পরে রিপোর্ট দেবেন।”
ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আলোকোজ্জ্বল দক্ষিণ কলকাতার চওড়া ফুটপাতে এসে দাঁড়াল শ্রাবণী আর লালু। সন্ধে হয়েছে। সবে শীত পড়ছে। চার দিকে দোকানপাট গমগম করছে কাস্টমারের ভিড়ে। অফিস-ফেরতা মানুষের দৌড়োদৌড়ি। কালো ঝকঝকে পিচের রাস্তায় জোরালো আলো জ্বেলে ছুটে চলেছে নানা মডেলের গাড়ি-বাস। আর সেই মুহূর্তে শ্রাবণীর মাথার এক দিক থেকে আর এক দিকে ছুটে চলেছে তিনটে শব্দ, “কত কম জানেন!”
”কী রে দিদিভাই, বাড়ি যাবি তো? এ রকম থম মেরে দাঁড়িয়ে পড়লি যে… কী হল!” লালু তাড়া দেয়।
“না কিছু না, চল,” ছোট্ট জবাব শ্রাবণীর। আবার জিজ্ঞেস করে, “কী বুঝলি লালু?”
“ওই তো, জামাইবাবুকে ব্যস্ত রাখতে হবে। দেখ কী ভাবে পারিস।”
দিদির মুড অফ বুঝে বেদুইনের চিকেন রোল খাওয়ার কথাটা আর তুলল না লালু। ও আর বুঝবে কী করে, শ্রাবণীর মনের মধ্যে কী ভীষণ আলোড়ন তুলেছে ডক্টর সেনের করা ওই ছোট্ট মন্তব্যটা!
*****
পরের দিন থেকে শুরু হয়ে গেল শ্রাবণীর নতুন জীবন। ও বেশ বুঝে গেছে, এ ওর একার লড়াই। খুব বুঝেশুনে এগোতে হবে। একটুও বুঝতে দেওয়া চলবে না কর্তাকে।
পরের দিনটা রবিবার। প্রতি রবিবারের মতো বাজার-দোকান করে হাত-পা ধুয়ে আনন্দবাজারের রবিবাসরীয়টা নিয়ে যেই সোফায় কাত মেরেছে গণেশ, অমনি মিহি সুরে শ্রাবণী তাকে ডাকল, “এই শুনছ!”
গণেশ যতই ঘুমকাতুরে হোক, ও জানে, বিবাহিত পুরুষদের কাছে এ মধুর ডাক আসলে মধুর নয়, হুকুমের আর এক ভার্শন।
“হ্যাঁ বলো...” হাই চেপে বলে গণেশ।
“জানো, আজ ভাবছি ফুলকপির শিঙাড়া করব। মায়ের মুখে শুনেছি, তোমার ঠাকুমা নাকি শীত পড়তে না পড়তেই বাড়িতে তৈরি করতেন।”
অমনি এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটল। গণেশের নাক আর মন ছুঁয়ে গেল যেন সেই শিঙাড়া ভাজার গন্ধ। চোখের সামনে ভেসে উঠল কয়লা-কাঠের উনুনে লোহার কড়াইতে অল্প আঁচে ঠাকুমা ভেজে চলেছে একের পর এক ফুলকপির শিঙাড়া। প্রত্যেকটা শিঙাড়া এক রকম! হালকা বাদামি-সোনালি রঙের। সেজকাকি বেলছে, মেজকাকি পুর ভরছে, মা ফাইনাল শেপ দিয়ে থালায় বরণডালার মতো সাজিয়ে ঠাকুমার পাশে ছোট্ট একটা টুলের ওপর রাখছে সাবধানে। প্রত্যেকটা হুবহু এক দেখতে। ঘিয়ের গন্ধে সারা বাড়ি ম-ম করছে। তিনতলার ঠাকুরঘরে দাদুর মন্ত্র ভুলভাল হওয়ার জোগাড় সেই গন্ধে। মেজকাকা দালানে যোগাসন করছিল। মাঝপথে থামিয়ে বলে উঠল, “অসম্ভব!” সেজকাকা বাগানে ডালিয়া-চন্দ্রমল্লিকার যত্ন নিচ্ছিল। পাশে গণেশ খুরপি নিয়ে হেল্প করছিল সেজকাকাকে। ওর দিকে চেয়ে সেজকাকা বলল, “যা সব গন্ধ আসছে রান্নাঘর থেকে, আর থাকা যায় না, কী বল গনশা?”
গণেশ আর কী বলবে? ও যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, হাফপ্যান্ট পরা একটা ছেলে দৌড়তে শুরু করেছে। খাবারঘরে পৌঁছে দেখছে, ওর আগেই হাজির তিন খুড়তুতো ভাইবোন— মিলি-পিন্টু-বাবু।
বাবা সাপ্তাহিক হিসাব ফেলে এসে বলল, “আজ খিদেটা যেন জলদি পেয়ে গেল। দাও তো খানকয়েক।”
দাদুও কখন যেন ধুতিটা যা হোক করে মালকোঁচা মেরে খাবার ঘরের দোরগোড়ায়। প্রশান্তি মাখা মুখে তৃপ্তির হাসি। সকলের খাওয়া দেখেই যেন ওঁর খাওয়া হয়ে গেছে। খানিক ক্ষণের মধ্যে গোটা পরিবার, তিনটে প্রজন্ম এক জায়গায়। এক অদ্ভুত জাদুর টানে সবাই মন্ত্রমুগ্ধ।
খুন্তি দিয়ে সন্তর্পণে শিঙাড়া উল্টে-পাল্টে দিতে দিতে ঠাকুমা নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে সমানে, “বড় বৌমা, তোমার শ্বশুরকে যেন চারটের বেশি দিয়ো না… এই ক’টা কড়া করে ভেজেছি, আমার গনশাবাবার জন্যে, ওর তো কড়া ভাজা পছন্দ… সেজোকে ঠান্ডা দেখে দিয়ো, ও আবার গরম খেতে পারে না, জিভ পুড়িয়ে একশা কাণ্ড করবে…”
গণেশের চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে উঠছে স-অ-ব।
“আরে কী হল তোমার? কী অত ভাবছ?” শ্রাবণীর ডাকে বর্তমানে ফিরে আসে গণেশ।
“না না, কিছু না। বলো কী কী আনতে হবে?”
“আনতে কিছু হবে না, আমাকে একটু হেল্প করতে হবে। শিঙাড়া তৈরি কি চাট্টিখানি ব্যাপার? কতগুলো স্টেপ বলো তো?” মুখে মৃদু হাসি শ্রাবণীর। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। আজ ওকে অন্য রকম লাগছে গণেশের। আর বুঝল, ও আজ ফেঁসেছে।
“তা বলো, কী করতে হবে...”
“তেমন কিছু নয়। আমি ময়দা মেখে ফেলেছি, আমি একটা লেচি কেটে দিচ্ছি, তুমি ঠিক ওই মাপের বাকিগুলো কাটবে।”
“কাটলাম। তার পর?”
“তার পর আমি বেলে দিলে, তুমি পুর ভরবে। তার পর আমি গড়ে দেব। লাস্টে তুমি ভাজবে... হালকা গোল্ডেন-ব্রাউন করে… কেমন?”
গণেশ বলে, “ওকে… ওকে।”
এর পর কর্তা-গিন্নি লেগে পড়ল ফুলকপির শিঙাড়া নির্মাণে। ওদের ন’বছরের মেয়ে রিম্পাও বাদ গেল না। হঠাৎ করে পড়ায় ছুটি পেয়ে খুশিতে টগবগ করতে করতে মায়ের নির্দেশ মতো এটা-ওটা এগিয়ে দিতে লাগল। আজ রবিবার অন্য দিনের তুলনায় ব্রেকফাস্ট করতে দেরি হল বটে, তবে আজ একদম আলাদা অভিজ্ঞতা হল। ফুলকপির শিঙাড়ার সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোও যেন ফিরে এল।
তার মধ্যে পাড়ার ক্লাবের সেক্রেটারি আর ক্যাশিয়ার এসে হাজির। ওঁদের ইচ্ছে গণেশ ক্লাবের হিসেব-নিকেশের ব্যাপারে যদি হেল্প করে। গণেশ এক রকম নারাজ হলেও, শ্রাবণী বলল, “দাদারা যখন বলছেন, তখন তুমি অফিস থেকে ফিরে যেতেই পারো ক্লাবে। রিম্পার পড়া তো আমিই দেখি। তুমি তো…” সময়মতো থেমে যায় শ্রাবণী। তত ক্ষণে দুটো করে ফুলকপির শিঙাড়া প্লেটে করে দুই ক্লাবকর্তার হাতে।
গরম শিঙাড়ায় কামড় দিয়ে আবেগ-মাখা গলায় সেক্রেটারি ভোম্বলদা বলে উঠল, “আমার মায়ের হাতে লাস্ট খেয়েছিলাম বাড়িতে তৈরি শিঙাড়া। প্রায় বছর বারো আগে। এ সব এখন উঠেই গেছে। পুরনো দিনের রেওয়াজ তোমরাই বজায় রেখেছ দেখছি।”
ক্যাশিয়ার স্বপনদা হেসে উঠে বলে, “আগে এক বাড়ির খাবার আশপাশের পাঁচটা বাড়িতে যেত। আর এখন বাইরে থেকে ঘরে ঘরে খাবার ঢুকছে। পুরো উল্টো জমানা!”
ওঁরা চলে যাওয়ার পর শ্রাবণী কর্তাকে ডেকে বলল, “নীচের ফ্ল্যাটের সরকার মাসিমা-মেসোমশাইকে দিয়ে এসো তো এটা।” কৌটোটা হাতে নিয়ে গণেশ দেখল, বেশ গরম। আর ফ্ল্যাটের সিকিয়োরিটি কাকুকে এক ফাঁকে রিম্পাই দিয়ে এল।
দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পরে ছুটির দিনের দুপুর-ঘুম দিয়ে উঠে রিম্পা বলল, “বাপি, রিনিমাসিদের বাড়ি চলো না আজ। ভুটাইদাদা একটা ছোট্ট ডগি পুষেছে। আমার দেখার খুব ইচ্ছে। নিয়ে যাবে বাপি?”
এমন করে বললে কোন বাবা না বলতে পারে? সন্ধের মুখে রিনিমাসিদের বাড়ি পৌঁছে গেল ওরা তিন জন। ওরা তো তাজ্জব! মৃণালমেসো রিম্পির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “তুমি খুব লাকি যে এমন বাবা পেয়েছ। তোমার পড়ায় ছুটি দিয়ে বেড়াতে নিয়ে এসেছে...”
শ্রাবণী তখন রিনিমাসির সঙ্গে গপ্পে মত্ত। রিম্পি ছুট লাগাল ভুটাইদাদার ডগি দেখতে। মৃণালবাবু আর গণেশ আড্ডা জুড়ল জমিয়ে।
কোথা থেকে ঘণ্টা তিনেক কেটে গেল। তার পর ডিনার সেরে মৃণালদার থেকে সামনের রবিবার ওদের ফ্ল্যাটে যাওয়ার প্রমিস আদায় করে গণেশরা ফিরল রাত দশটা নাগাদ। ফ্ল্যাটের তালা খুলতে খুলতে গণেশ বলে উঠল, “সারাটা দিন কী ভাবে যেন কেটে গেল। নেক্সট সানডে কড়াইশুঁটির কচুরি ফাইনাল। কী বলিস রিম্পা? শ্রাবণী, নো টেনশন, আমি ভেজে দেব।”
শ্রাবণী ভাবতেই পারেনি, ওর প্ল্যান এত তাড়াতাড়ি সাকসেসফুল হবে। তখনই ঠিক করে ফেলল, কালকেই ডক্টরকে রিপোর্ট দিতে যাবে। আর ঠিক তখনই জুতো খুলতে খুলতে ফিক করে হেসে গণেশ বলে উঠল, “কালকের দিনটা ভাবছি ছুটি নেব, আজকের ঘুমের ঘাটতিটা পুষিয়ে নিতে হবে না?”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে