ছবি: সংগৃহীত।
কাশ্মীরের সোনমার্গের পর এ বার মানালি। সোনমার্গে অর্ধনগ্ন অবস্থায় তরুণদের নাচের পর বরফে ঢাকা উপত্যকায় তরুণীর বিকিনি পরে নাচ। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নাচের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নাগরিক সচেতনতা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিষয়স্রষ্টা তরুণীর নাচের ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় সমাজমাধ্যমে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ইন্টারনেটে ঝড় তোলা সেই ভিডিয়োয় এক তরুণীকে মানালিতে তুষারপাতের মধ্যে কালো বিকিনি পরে নাচতে দেখা গিয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, নেটমাধ্যমপ্রভাবী ওই তরুণী মাঝেমধ্যেই খোলামেলা পোশাকে পাহাড়ে বা সমুদ্রে প্রকাশ্যে গিয়ে ভিডিয়ো করে থাকেন। মানালির ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিষয়স্রষ্টাদের দায়িত্ব, আচরণ এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত এই ফুটেজটি দেখে কাশ্মীরের সোনমার্গের ঘটনার তুলনা টানতে শুরু করেছেন নেটাগরিকেরা। কয়েক দিন আগে খালি গায়ে কয়েক জন তরুণকে পর্যটকভর্তি স্থানে উদ্দাম নাচতে দেখা গিয়েছিল। সঙ্গে গাড়ির ছাদে উঠে হুঁকো টানার দৃশ্যের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছিল সমাজমাধ্যমে। সেই ভিডিয়ো দেখে ফুঁসে উঠেছিলেন কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দারা।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে মানালিতে। এই ধরনের ভিডিয়ো শুট পরিবারকেন্দ্রিক পর্যটনকেন্দ্রের অনুপযুক্ত বলে দাবি তুলেছেন নেটাগরিকেরা। ‘নিখিলসাইনি’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করার পর তা কয়েক লক্ষ বার দেখা হয়েছে। নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ ভিডিয়োটি দেখে অস্বস্তি প্রকাশের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁদের মতে, মানালি এমন একটি পাহাড়ি অঞ্চল, যেখানে আট থেকে আশি সব বয়সের পর্যটকেরা যান। প্রশ্ন, প্রকাশ্যে এই ধরনের বিষয়বস্তু তৈরি কি সমাজের জন্য উপযুক্ত? তাঁরা মনে করেন যে এটি স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না।
এখনও পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেছেন কি না বা চিত্রগ্রহণের সময় কোনও আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মানালিতে পর্যটকদের জন্য কোনও পোশাকবিধি নেই। যদি কোনও বিষয়বস্তু জনসাধারণের বিরক্তির কারণ হয়, তবেই আইন এবং স্থানীয় নিয়মগুলি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।