Election has Arrived

ভোটের আমি, ভোটের তুমি

ভোটের মরসুমে হাতজোড় করেন নেতারা। পাত্তা পান আমজনতা, কারণ তাঁরা ভোটব্যাঙ্ক। দেওয়াল দখল দিয়ে এর শুরু আর ভোট-পরবর্তী হিংসা দিয়ে সমাপ্তি। এক রঙের আবির জেতে, আর এক রঙের আবির হেরে যায়। তার পর আবার সব ভুলে, আমরা এগিয়ে চলি পরের ভোটের দিকে।

বিধান রায়

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৮
Share:

প্রস্তুতিপর্ব: দেওয়ালে লেখা হচ্ছে রাজনৈতিক দলের স্লোগান।

ভোট মানে একটা মরসুম। কথায় কথায় ‘পুজো আসছে, চাষটা মিটুক, সামনে নবান, সামনে ইদ বা মহরম’ ইত্যাদি বলে বাঙালি তার ব্যস্ততার পরিসর চিহ্নিত করে। ভোটও সেরকমই। ভোটের ছ’মাস আগে থেকেই সরকারি দফতরে ব্যস্ততা বাড়ে। কোনও কাজ নিয়ে গেলে শুনতে হয়, “সামনে ভোট, আমাদের শ্বাস ফেলার সময় নেই, পরে আসুন।” একই কথা শোনা যাবে রাজনৈতিক নেতাদের মুখেও, তবে বিনয়ের সঙ্গে। “তোমারটা মনে আছে, ভোটটা মিটুক, দেখছি।” আবার প্রতিশ্রতি পুরণ হয়নি এমন ভোটারদেরও এ-ই সুযোগ, সরাসরি তিনি বলে দিতে পারেন, ‘এ বার আসুক ভোট চাইতে, দেখব।’ ভোট— ভোটারদেরও একটু বাড়তি পাত্তা পাওয়ার মরসুম। আবার রাজনৈতিক ক্ষোভ জমানোরও মরসুম। ভোট-পরবর্তী হিংসা যার পরিণতি। এই মরসুম ঘরে ফেরারও। ভোটও ঘরে ফেরায় ঘরের ছেলেদের— যাঁরা বাইরে গেছেন কর্মসূত্রে।

নিষ্ঠুর এপ্রিল

গ্রামেগঞ্জে ভোটের উত্তাপটা শহরাঞ্চলের তুলনায় একটু বেশিই। নিমফুলের মৌ পিয়ে যখন ভোমরার ঝিম ধরে, গাছে গাছে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিমতা, তালের রস গেঁজে গিয়ে চৈত্র-গাজনের মাতন, চড়কপুজোয় ভক্ত-সন্ন্যাসীর মানত, মেলায় ঘুগনি, দরবেশ খাজা জিলিপি তেলেভাজার মনমাতানো গন্ধ— ঠিক তখনই ভোট-পুজোর বাজনা বাজে। মধ্য-রাঢ় অঞ্চলে তখন আবার শিবের গাজন। গ্রামে গ্রামে বোলান গানের আসর। সাধারণত বঙ্গে এই সময়ই ভোট হয়। এই সময়ে বোরো চাষ মাঠগুলোকে সবুজ ও শীতল রাখে। কিন্তু মানুষের মেজাজ থাকে রুক্ষ, লেগে থাকে ছোট-বড় ঝামেলা মারামারির ঘটনা। ভোটের হাওয়ায় ছোট-বড় ব্যক্তিগত ঝামেলায় রাজনৈতিক রং লেগে যায় অবলীলায়। ঝোপ বুঝে কোপ মারতে ছাড়ে না রাজনৈতিক দল। প্রশাসনও তখন নানা অভিযোগে নাজেহাল।

লাল-নীল-সবুজের মেলা

মাস দুয়েক আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় দেওয়াল দখলের পালা। ‘সাইড ফর’ করে রাখতে হয়। নইলে অন্য কেউ দখল নেবে দেওয়ালের। দেওয়াল-দখল গাঁ-শহর সর্বত্রই একই কায়দা। অতীতে বাড়ির কর্তার অনুমতির দরকার হত না। এখন হয়। এখানেই অতান্তরে পড়েন গৃহকর্তা, শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা। এ ক্ষেত্রে শাসক দলই এগিয়ে থাকে, তাদের চটাবে, সাধ্য কার? তবে যে আগে যাবে তার কপালে শিকে ছিঁড়বে বলেই ধারণা। অনেক সময় বাড়ির কর্তাও তাঁর অবস্থান অস্পষ্ট রাখতে দেওয়াল ভাগ করে দেন: ‘এই দিকটা ওরা আর এই দিকটা তোমরা’। দেওয়াল-দখল ভোটযুদ্ধের প্রথম পর্যায়। ছোট-বড় অশান্তি দেওয়াল-দখল নিয়েই ঘটে যায়।

অতীতে রঙের রমরমা ছিল না। ভুষো কালি, কাঠ নীল, খড়ি মাটি, এলা মাটি দিয়ে কাজ চলত। দিন পাল্টেছে, তাই রঙেরও বদল ঘটেছে। সাদাকে ‘বেস’ রেখে লাল নীল সবুজ কমলা ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের নজরে আনতে হবে, তাই নানা কায়দায় শ্যাডো। আর যে সব রাজনৈতিক দল দেওয়াল-দখলে অসমর্থ হয়, তাদের ভরসা ব্যানার ফেস্টুন কাগজ পোস্টার।

দেওয়াল লেখার জন্য অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নিজেদের লোক থাকত। তাঁদের এই সময় কদর বাড়ত। নতুন নতুন কর্মীরাও লেখা শেখা অভ্যেস করতেন। পেশাদার ‘রাইটার’দের এখন শ্বাস ফেলার সময় নেই। সকালে জোড়াফুল, বিকেলে বড় ফুল, পরের দিন হাত, কাস্তে-হাতুড়ি, এখন ওঁদেরও মরসুম। ওঁরা অর্ডারে কাজ করেন। ওঁদের বিষয় বা বানানবিধির দায় নেই। এক জন রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তাঁর সোজা জবাব, “মানুষ বুঝতে পারল কি না সেটাই দেখার, বানান ভুলে নজর দেবেন না।”

ছড়ায় ছড়াছড়ি

ভোটের ছড়ার কথা উঠলেই সবার আগে যে মানুষটার কথা মনে পড়ে, তিনি দাদাঠাকুর। তিনি বিধানসভাকে বলতেন “খোদ বিধানচন্দ্র রায়ের খোস মেজাজের সভাকেই বলা হয় বিধানসভা।” শরৎ পণ্ডিত ওরফে দাদাঠাকুর অনেক ভোটের ছড়াও ছড়িয়ে দিয়েছেন, যেমন ‘ভোটামৃত’-এর একটি গানে তিনি লিখছেন, “এবার হুইপ বেড়ে করবে হুইপ/ গ্যালপে চড়েছি ভাই, করিব উইন রে/ দোহাই ভোটার কোরো না রুইন রে।”

এক সময় কংগ্রেস দেওয়ালে লিখত, “চিনের কাস্তে হাতুড়ি পাকিস্তানের তারা/ এর পরেও কী বলতে হবে দেশের শত্রু কারা?” জরুরি অবস্থার পরবর্তী সময়ে বামেরা ইন্দিরা-সঞ্জয়ের উদ্দেশে দেওয়ালে লিখতেন, “বড় লোকের বিটি লো সাদাকালো চুল/ বাপের কোটে গোঁজা ছিল লাল গোলাপ ফুল/ সেই বিটির বেটা লো পাতলা পাতলা চুল/ দেশ জুড়ে ফুটিয়ে দিল হলুদ সর্ষেফুল।” ব্যক্তি-আক্রমণের ধারা বন্ধ হয়নি। বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ার পর কংগ্রেসিরা দেওয়ালে লিখলেন, “চন্দনের পিতা তুমি নিশিকান্তের ছেলে/ বক্রেশ্বরের রক্ত বেচে কত টাকা পেলে?”

সেই ছড়ার ধারা এখনও অব্যাহত। দেওয়ালে, ব্যানার-ফেস্টুনে, কাগজ-পোস্টারে ছড়ার ছড়াছড়ি। দেওয়ালে তাকালে অজস্র ছড়া চোখে পড়ে। তবে ছড়ার জোর কমছে বলে অনেকেই মনে করছেন। চূড়ান্ত ব্যক্তি-আক্রমণ রাজনৈতিক ছড়ার আভিজাত্যকে নষ্ট করছে। অনেক ক্ষেত্রেই ছড়াগুলি অশিষ্টতার পর্যায়ভুক্ত হয়, যা সুস্থ রাজনৈতিকচর্চার পরিপন্থী।

মধ্য-রাঢ় অঞ্চলে শিব-গাজন উপলক্ষে যে বোলান গানের আসর বসে, তাদের কারও কারও পালায় পৌরাণিক অনুষঙ্গের সঙ্গে পণপ্রথা, বধূ-নির্যাতনের মতো সামাজিক বিষয়ের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক ঘটনাবলিও বাদ যায় না। বোলান গান গাওয়ার পর পাঁচালি বা হাপু গানে উঠে আসে রাজনীতি। তখনই বোঝা যায় রাজনীতি বিষয়ে গ্রামীণ মানুষের মনোভঙ্গি।

ভুল হয়ে যায় বিলকুল

ভোটে কি শুধু রবীন্দ্রনাথ আর বঙ্কিম ভাগ হয়ে যান? ‘বন্দে মাতরম্‌’ আর ‘জনগণমন’ নিয়ে দ্বন্দ্ব সামনে আসে? এক-একটা পক্ষ এই ভোট-পর্বে মনীষীদের এক-এক পক্ষে টেনে নেয়। এঁরা সবাই যে একত্রে বাঙালি অস্মিতার উদ্রেক করেন, তা ভুলিয়ে দেওয়া হয় এই মরসুমে। রবীন্দ্রনাথের ‘দুই বিঘা জমি’র ভূমিহীন ছিন্নমূল উপেন আর বঙ্কিমের ‘বঙ্গদেশের কৃষক’-এর রামা কৈবর্ত্তের সঙ্গে হাসিম সেখরা যে নিখুঁত ভাবে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, সেই নিয়ে চর্চা কম হয়। সারা বছর রামা আর হাসিম সেখের নাতিপুতিরা এক মাঠে চাষ করে, আর ভোট এলেই কোন অজানা জাদুতে যেন ভাগ হয়ে যায়। সারা বছর ওদের চর্চায় থাকে ফসলের দাম না পাওয়ার, কৃষিতে ব্যবহৃত উপাদান-সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার যন্ত্রণার কথা, আর ভোটের মরসুম ওদের সেগুলো ভুলিয়ে দিয়ে সামনে নিয়ে আসে ওদের জাতিপরিচয়। তখন ওরা পরস্পরের শত্রু।

দেওয়ালে ছড়ায় যদি লেখা হয় রবিঠাকুরের সেই দাবি, “অন্ন চাই, প্রাণ চাই, চাই মুক্ত বায়ু/ চাই স্বাস্থ্য, চাই বল, আনন্দ উজ্জ্বল পরমায়ু”, অথবা বঙ্কিমের “খাইতে পাইলে কে চোর হয়” ইত্যাদি পঙ্‌ক্তি থাকে, তা হলে সমস্যার আর কারণ থাকে না। অসম বণ্টনই যে দুঃখের উৎস, এ কথা শুধু কার্ল মার্ক্স কেন, বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথ দু’জনেই বলে গেছেন। সেই নিপীড়িত অংশই তো ভোটার, ভোটের জন্য তাদের ভাগ না করে, তাদের মূল সমস্যাকে বড় করে দেখলেই রবীন্দ্রনাথ আর বঙ্কিমকে আলাদা করার প্রয়োজন হবে না। তবে তা হয় নাকি? ভোট হবে, ইস্যু থাকবে না? তাই ‘বন্দে মাতরম্‌’-এ ‘মাদার কালী’ না ‘মাদারল্যান্ড’-এর বন্দনা আছে, অথবা ‘জনগণমন’ গানে সিন্ধু ইত্যাদি শব্দ আছে যা একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অপমান, ওগুলো এখন পরদেশ— এই সব উপলক্ষ লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে যায় এই সময়।

ভোটের সময় সাধারণ মানুষও ভাগ হয়ে যায়। পরিচিত মানুষও রাজনৈতিক পরিচয়টাকেই বড় করে দেখেন। অপরিচয়ের অন্ধকার নেমে আসে কয়েকটা দিনে। একরঙা আবির জেতে, আর-একরঙা আবির হেরে যায়। আবার দিন গড়ায় দিনের নিয়মে, আমরাও ভোট ভুলে যাই।

আয় ভোটার আয়

ভোট-মরসুমে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়। এক দিকে দেশের সরকারের প্রকল্প, অন্য দিকে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচার; এক দিকে এগুলি দ্বিগুণ করার দাবি, সঙ্গে সঙ্গে অন্য দিকে তা দ্বিগুণ-তিন গুণ করার প্রতিশ্রুতি। মানুষও আশু সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, স্থায়ী বা দীর্ঘসূত্রী বিষয়গুলোকে নিছক প্রতিশ্রতি হিসেবেই দেখছেন। রাজনীতিতে আদর্শবোধের জায়গাটাও ক্রমশ কমে আসছে। শোনা যায়, ‘যে যাবে লঙ্কায় সেই হবে রাবণ’। রাজনীতি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের এই যদি মূল্যায়ন হয়, তা হলে দুর্নীতি, অনিয়ম, দলবদল তাদের কাছে কোনও ‘ইস্যু’ই নয়। তবে আদর্শবোধের জায়গাটা একেবারেই যে নেই, তা নয়। অনেক মানুষ একটা রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়েই ভোটের লাইনে দাঁড়ান। প্রতিশ্রুতি, পাওনা-গন্ডার জন্য নয়। এই আদর্শবোধের পরিসর যত বাড়বে, রাজনীতি তত পরিচ্ছন্ন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এক রাজনীতিজ্ঞ আক্ষেপের সঙ্গে জানালেন, বর্তমানে ভোটার কম, ভোট ব্যাঙ্ক বেশি। ভোট ব্যাঙ্ক তৈরির নানাবিধ কৌশল আছে। হিন্দি বলয়ে বড় জমির মালিকানা যাদের আছে, তাদের ধরলেই কাজ হাসিল হয়ে যায়। সেই বড় জমির মালিকের এক-একটা মহল্লায় বাস করেন খেতখামারের মজুর-কামিনরা। তারা মালিকের কথায় চলে। আমাদের রাজ্যে সেই রকম জমির মালিক কম, তাই সেই সুযোগও কম।

নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে যাঁরা ভোট দেন, তাঁদের চিহ্নিত করা সহজ। রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রকাশ করেন না অথচ বোঝা যায় কোন দলকে ভোট দেবেন। আর এক ধরনের ভোটার আছেন, রাজনীতিকরা যাঁদের দোদুল্যমান ভোটার বলে থাকেন। তাঁরা কাকে ভোট দেবেন, আগাম আঁচ করা অসাধ্য। এঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জল মাপেন। কাদের রমরমা বেশি, কারা জিততে পারে— সেই দলই এঁদের ভোট পান। ভূতুড়ে ভোটারের কথা তো অনেকেরই জানা। ভোট এলেই বেঁচে ওঠে, সুযোগমতো কাজ করে।

ভোট তোদের ডাক দিয়েছে

ছোট ছোট গ্রুপ-সভা, হাটসভা, পথসভা, বড় বড় জনসভা, নতুন নতুন স্লোগান পেরিয়ে ভোটের দিন আসে। তখন ভোটতলা অনেকটা মিলনমেলা। প্রধানত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র হয়ে থাকে। ভোটের সময় নিজের পুরনো স্কুল বা কলেজকে দেখা যায়। অথবা শিক্ষালয়ের গণ্ডি পেরোননি এমন অভিভাবক সন্তানের পড়ার জায়গাটা এক বার দেখার সুযোগ পান। পাটভাঙা শাড়ি পরে বাড়ির বৌ-ঝিরা আসেন ভোটকেন্দ্রে। ভিন্‌রাজ্যে কাজ করা মানুষও ভোটের লাইনে। অনেকে আসতে পারেন না, মালিক এক সঙ্গে সবাইকে ছাড়েননি। বাচ্চারাও এসেছে মায়ের সঙ্গে ভোট দেখতে। বিভিন্ন বুথ, ক্যাম্প থেকে ভেসে আসে ‘দেখবেন’ শব্দটা। প্রতি ভোটেই লাইনে দাঁড়ান অশীতিপর বৃদ্ধ শঙ্কর বাউরি। দেখা হয়ে যায় তাঁকে ছেড়ে যাওয়া তুলসীর সঙ্গে। কথা হয় না। আবার ‘নোটবন্দি’ পর্বে ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারানো কোনও পিতার সন্তান ধীরে ধীরে ‘বিপ’ শব্দটার দিকে এগিয়ে যান। ভোটকেন্দ্রের চার পাশে মেশিনের সেই আওয়াজটা অনেক ক্ষণ বাজতে থাকে— শেষ মানুষটা ভোট দিয়ে যাওয়ার পরও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন