আমেরিকার সামরিক বিমান সি-১৩০ হারকিউলিস। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকার সামরিক বিমান সি-১৩০ হারকিউলিসকে গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করল ইরান। সে দেশের আধা সামরিক সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম নিউজ়’ জানিয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনীর সব ক’টি বিভাগের যৌথ অভিযানে কেবল সি-১৩০ বিমানই নয়, আমেরিকার দু’টি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারকেও নামানো হয়েছে।
রবিবার ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের তরফে জানানো হয়েছে, তারা আমেরিকার বেশ কয়েকটি ‘উড়ন্ত বস্তু’ বা ‘ফ্লাইং অবজেক্টস’ ধ্বংস করেছে। রবিবারই ইরানের পুলিশ কমান্ডের তরফে জানানো হয়, ইরানের বায়ুসেনা, স্থলসেনা, পপুলার ইউনিটস, বাসিজের যৌথ অভিযানে আমেরিকার একটি সি-১৩০ বিমান গুলি করে নামানো হয়েছে। মূলত সেনাবাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দিতে এই ধরনের বিমান ব্যবহার করে আমেরিকা। তুলনায় অমসৃণ রানওয়েতেও অবতরণ করতে পারে বিমানটি।
‘তাসনিম নিউজ়’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানে আটকে পড়়া বায়ুসেনার এক কর্মীকে খুঁজতে সে দেশে ঢুকেছিল আমেরিকার সি-১৩০। ইসফাহান শহরের দক্ষিণে বিমানটিকে গুলি করে নামানো হয়।
আমেরিকার অবশ্য দাবি, ইরানের মাটিতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করেছে তাদের সেনা। প্রসঙ্গত, শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মার্কিন সেনার একটি এফ-১৫ ই যুদ্ধবিমান। ইরানের মাটিতে ভেঙে পড়েছিল সেটি। বিমানের এক পাইলটকে উদ্ধার করতে পারলেও, ওই বিমানেরই অন্য পাইলটের কোনও খোঁজ মিলছিল না। তার পর থেকেই পাইলটকে উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আমেরিকা। সেই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাইলটকে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাইলট উদ্ধারের কথা ট্রুথ সোশ্যালে জানান। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওঁকে (পাইলট) খুঁজে পেয়েছি। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়েছে শত্রুপক্ষের মাটিতে। তাঁকে অবশেষে উদ্ধার করা গিয়েছে। আমি অত্যন্ত খুশি। পাইলট নিরাপদে রয়েছেন। তাঁকে সুরক্ষিত অবস্থায় ইরানের মাটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’’