পিঠের নাম চন্দ্রকান্তি! ছবি : সংগৃহীত।
সংক্রান্তি শেষ হলেও বাঙালির পিঠেবিলাস এখনও চলছে পুরোদমে। হবে না-ই বা কেন! বঙ্গে তো পিঠের কমতি নেই। এক দিনে কতই বা খাওয়া যায়? সেদ্ধপিঠে, দুধপুলি, পাটিসাপটা নয় এক দিন খেলেন। তার বাইরেও তো কত রকমের পিঠে আছে। চিতৈ, সরু চাকলি, গোকুল, ভাজা পিঠে, চুষি পিঠে, রসবড়া, রাঙা আলুর পান্তুয়া। গুনে শেষ করতে পারবেন না নাম। সারা বছরে তো আর সে সব খাওয়া হবে না। তাই সংক্রান্তি পরবর্তী ১৫ দিন বাঙালি প্রাণ ভরে পিঠে খান। পেটে সওয়ার চিন্তা না করেই। সেই পিঠে-পার্বণে একটু স্বাদ বদল করতে চাইলে বানাতে পারেন চন্দ্রকান্তি পিঠে।
মুচমুচে ভাজা অথচ স্বাদে মিষ্টি। রয়েছে নতুন গুড় নারকেলের স্বাদও। আর কি চাই। চাইলে এই ভাজা পিঠেকে রসে ডুবিয়ে রসভরি চন্দ্রকান্তি পিঠেও বানিয়ে নেওয়া যায়। আর বানানোর পদ্ধতিটিও মোটেই ঝক্কির নয়।
চন্দ্রকান্তি পিঠে কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ:
১ কাপ মুগ ডাল
১/৪ কাপ গোবিন্দভোগ চাল
২ কাপ জল
১/২ কাপ পাটালি গুড় (গুঁড়িয়ে নেওয়া)
১/২ কাপ নারকেল কোরা
১ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো
২ টেবিল চামচ ঘি
ভাজার জন্য তেল
সামান্য নুন
সাজানোর জন্য নলেন গুড়
কাঠবাদাম বা কাজু বাদাম কুচি
প্রণালী:
মুগ ডাল এবং চাল আলাদা আলাদা পাত্রে ৭-৮ ঘণ্টা বা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। তার পরে জল টুকু ফেলে দিয়ে মুগ ডাল এবং চাল এক সঙ্গে মিহি করে বেটে নিন। তার পরে বাটিতে ডাল ও চালের বাটা মিশিয়ে নিন।
সসপ্যানে ২ কাপ জল গরম করুন। তাতে সামান্য নুন, গুড়, এলাচ গুঁড়ো এবং ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে মিশিয়ে নিন। জল ফুটে উঠলে তাতে ডাল-চালের মিশ্রণটি ধীরে ধীরে যোগ করুন এবং ক্রমাগত নাড়তে থাকুন।
মিশ্রণটি ঘন হয়ে লেইয়ের মতো হয়ে গেলে তাতে নারকেল কোরা এবং বাকি ঘি দিয়ে মিশিয়ে নামিয়ে নিন।
একটি কানা উঁচু থালা বা ট্রেতে ঘি মাখিয়ে মিশ্রণটি ঢেলে সমান ভাবে ছড়িয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে মাঝারি মাপের চৌকো টুকরোয় কেটে নিন।
কড়াইতে তেল বা ঘি গরম করে মাঝারি আঁচে পিঠেগুলোকে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
এ বার ওই মুচমুচে করে ভাজা গরম পিঠের উপরে নলেন গুড় আর সামান্য বাদামকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন। অথবা গরম অবস্থায় চিনির রসে ফেলে ৫-১০ মিনিট রেখে তার পরে পরিবেশন করতে পারেন। দু’ভাবেই খেতে ভাল লাগবে।