বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন দোকানের মতো ফিশ টিক্কা। ছবি: সংগৃহীত।
অফিস হোক বা বাড়ি, দুপুরের খাবার পেটে পড়লেই ঘুমে চোখ ঢুলে আসে অনেকের। অফিসে থাকলে তো উপায় নেই, তবে বাড়িতে থাকলে ইচ্ছে হলেও ঘুমোন না অনেকে। মনে একটাই ভয়, দুপুরের ঘুম মানেই ওজন বেড়ে যাওয়া নিশ্চিত। সত্যিই কি ভাতঘুম ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে?
চিকিৎসক শুভম সাহার মতে, দিবানিদ্রা কিন্তু মোটেও বদভ্যাস নয়। বরং এই অভ্যাস খুবই স্বাস্থ্যকর। শুভম বলেন, ‘‘কম সময়ের জন্য হলে সেটা শরীরের পক্ষে ভাল। তবে ভাতঘুম লম্বা হয়ে গেলেই মুশকিল! তাই বাড়িতে থাকলে তো বটেই, অফিসেও দুপুরের খাওয়া সেরে সুযোগ পেলে নিয়ে নিতে পারেন ‘মিনি ন্যাপ’। শরীর চাঙ্গা করতে এই অভ্যাসের কোনও জুড়ি নেই।’’
তা হলে সমস্যা কোথায়?
চিকিৎসকের মতে, দুপুরে কেউ যদি ২ থেকে তিন ঘণ্টার জন্য ঘুমিয়ে প়ড়েন, সে ক্ষেত্রে তাঁর রাতের ঘুম কিন্তু ব্যাহত হবে। আর তাতেই সমস্যা। রাতে ৭-৮ ঘণ্টার ঘুম শরীরের ঘুমের চক্র স্থির রাখার জন্য একান্ত জরুরি। রাত জাগলেই খিদে পাবে। আর খিদে পেলেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়বে। তাই ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
ঘুম কম হলে সারা দিন ক্লান্তি ভাব কাজ করে। কোনও কাজ করতেই ইচ্ছে করে না। ফলে শারীরচর্চা করার প্রতিও অনীহা বাড়ে। শরীর সচল না রাখলে মেদ ঝরানো কখনওই সম্ভব নয়। কম ঘুমোলে ঘ্রেলিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে খিদে বেড়ে যায়। কমে লেপটিনের পরিমাণ, যার কাজ মস্তিষ্ককে পেট ভরে যাওয়ার সঙ্কেত দেওয়া। ঘুম কম হলে অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। আবার কম ঘুমের ফলে মানসিক চাপ বাড়ে, ফলে ক্ষরিত হয় স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল। ক্যালোরি খরচ কমে যায়। এতেও ওজন বেড়ে যায়।