সর্দি-কাশি কমাবে রাজস্থানের জাদু পানীয় রাব। ছবি: সংগৃহীত।
কমেছে শীতের দাপট। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গেই হাঁচি, সর্দি, জ্বরজারি ঘরে ঘরে। দিনে গরম, রাতের দিকে একটু একটু ঠান্ডা। পাখা না চালালে গরম লাগছে, আবার চালালেও মুশকিল। রাতের দিকে ঠান্ডা লাগতে শুরু করে। আর এই ঠান্ডা থেকেই যত ঝামেলা। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টাতে সতর্ক না থাকলে সর্দি, গলা ব্যথা, কাশি, জ্বর হতে আর কত ক্ষণ! আর এক বার সর্দি-কাশি শুরু হলে তা খুব সহজে পিছু ছাড়ে না। মরসুম বদলের এই সময়ে শরীর চাঙ্গা করতে ভরসা রাখতে পারেন রাজস্থানের বিশেষ পানীয় রাবের উপর।
বাজরা আর গুড় দিয়ে তৈরি রাব খেতে বেশ সুস্বাদু। মরসুম বদলের সময় শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করতে এই পানীয় দারুণ উপকারী। বাজরায় রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ, যেমন— প্রোটিন, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং জ়িঙ্কের পাশাপাশি এতে রয়েছে ত্বক-চুল এবং স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি বিভিন্ন ধরনের বি ভিটামিন। যাঁরা গ্লুটেন সহ্য করতে পারেন না, বা সিলিয়াক রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য বাজরার রুটি গ্লুটেন মুক্ত বিকল্প হতে পারে। কারণ, বাজরায় প্রাকৃতিক ভাবেই গ্লুটেন থাকে না। বাজরাতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ভাল রাখতে সাহায্য করে। ফাইবার বেশি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলিকেও ভাল রাখতে সাহায্য করে বাজরা।
রাব বানাতে বাজরার সঙ্গে গুড় মেশানো হয়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং বিভিন্ন খনিজের গুণে সাধারণ ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি্র সমস্যা রুখে দেওয়া যায় সহজেই। গুড়ের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান। শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজের জন্য এই খনিজগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। গুড় ছাড়াও শুকনো আদা, গোলমরিচ গলা খুসখুস কমাতে সাহায্য করে।
উপকরণ:
২ টেবিল চামচ বাজরার গুঁড়ো
১ টেবিল চামচ ঘি
২ কাপ জল
১ টেবিল চামচ গুড়
আধ চা চামচ গোলমরিচগুঁড়ো
আধ চা চামচ আদাগুঁড়ো
১ চিমটে দারচিনিগুঁড়ো
প্রণালী:
একটি পাত্রে ঘি গরম করে বাজরার গুঁড়ো হালকা করে ভেজে নিন। এ বার তার ভিতরে জল মিশিয়ে নিন ভাল করে। ফুটন্ত মিশ্রণে গুড়, গোলমরিচের গুঁড়ো, আদার গুঁড়ো আর দারচিনিগুঁড়ো মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এ বার গরম গরম পানীয়ে চুমুক দিতে হবে। সকালের দিকে এই পানীয় খেলে উপকার পাবেন।