Fossilized Egg

ডিমই পাড়ত স্তন্যপায়ীদের পূর্বসূরিরা! প্রথম বার মিলল প্রমাণ, ধরিয়ে দিল ২৫ কোটি বছরের পুরনো জীবাশ্ম

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরেই অনুমান করে আসছিলেন যে স্তন্যপায়ীদের উত্তরসূরিরাও প্লাটিপাস এবং একিডনার মতোই ডিম পাড়ত। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রামাণ্য তথ্য ছিল না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৬
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

স্তন্যপায়ীদের পূর্বসূরিরা কি সত্যিই ডিম পাড়ত? এত দিন এ বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রামাণ্য তথ্য ছিল না। ছিল শুধুই কিছু ধারণা। এ বার সেই ধোঁয়াশা কাটল। মিলল প্রমাণ। জীবাশ্ম গবেষণা প্রথম বারের মতো প্রমাণ করল— হ্যাঁ, স্তন্যপায়ীদের পূর্বসূরিরা ডিমই পাড়ত।

Advertisement

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এরা ডিম পাড়ে না। সন্তান প্রসব করে। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্য রয়েছে। যেমন— প্লাটিপাস, একিডনা। এরা স্তন্যপায়ী হলেও ডিম পাড়ে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরেই অনুমান করে আসছিলেন যে স্তন্যপায়ীদের উত্তরসূরিরাও প্লাটিপাস এবং একিডনার মতোই ডিম পাড়ত। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রামাণ্য তথ্য ছিল না। এ বার সেই পূর্বসূরির ডিমের জীবাশ্ম পাওয়া গেল দক্ষিণ আফ্রিকায়, যা প্রায় ২৫ কোটি বছরের পুরনো।

স্তন্যপায়ীদের বিবর্তনের ইতিহাসে বেশ দীর্ঘ। এবং বৈচিত্রময়ও বটে। বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় রয়েছে এই বিবর্তনের ইতিহাসে। এর প্রথম অধ্যায় হল সিনাপসিড গোত্রের প্রাণীরা। আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে সরীসৃপ এবং পাখিদের পূর্বসূরিদের থেকে পৃথক হয়ে সিনাপসিড গোত্রের প্রাণীদের আবির্ভাব হয়। এরা দেখতে অনেক ক্ষেত্রে সরীসৃপদের মতো হলেও বর্তমানের স্তন্যপায়ীদের সঙ্গে এদের বেশ কিছু মিল পাওয়া যায়। এখান থেকেই শুরু হয় আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণী হয়ে ওঠার যাত্রাপথ। পরবর্তী সময়ে আবির্ভাব হয় থেরাপসিড গোত্রের প্রাণীর। আনুমানিক ২০-২৯ কোটি বছর আগে এরা বিবর্তিত হয়। এরা ছিল সিনাপসিডদের চেয়ে কিছুটা উন্নত গোত্রের। চোয়াল এবং দাঁতের গড়নের বিশেষ পরিবর্তন দেখা দিতে থাকে এদের মধ্যে, যার সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে বর্তমান স্তন্যপায়ী প্রাণীদের।

Advertisement

এই থেরাপসিড গোত্রেরই এক প্রাণী হল লিসট্রোসরাস। আনুমানিক ২৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত এরা। তার পরে ট্রায়াসিক যুগ (আজ থেকে প্রায় ২০-২৪ কোটি বছর আগে)-এর শুরুর দিকে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়। বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই প্রাণীর একটি ডিমের জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। জীবাশ্মটি প্রায় ২৫ কোটি বছরের পুরনো। যা প্রমাণ করে, স্তন্যপায়ীদের পূর্বসূরিরা ডিমই পাড়ত। সম্প্রতি ‘প্লস ওয়ান’ জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

লিসট্রোসরাস হল মাঝারি মাপের এক তৃণভোজী প্রাণী। এরা সাধারণত ৩-৪ ফুট লম্বা হত। উপরের চোয়ালে এক জোড়া লম্বা শ্বদন্ত (ক্যানাইন) থাকত। ঠোঁট ছিল অনেকটা পাখির মতো। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, পার্মিয়ান যুগের শেষে (আজ থেকে প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে) যখন পৃথিবীর বেশির ভাগ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, সেই গণবিলুপ্তির সময়েও পৃথিবীতে টিকে ছিল লিসট্রোসরাস। সেই প্রাণীর ডিমের জীবাশ্ম নিয়ে সম্প্রতি গবেষণা চালান দক্ষিণ আফ্রিকার উইটওয়াটার্সরান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুলিয়েন বেনোয়া এবং তাঁর সহযোগীরা। তাঁরা অত্যাধুনিক এক্স-রে ব্যবহার করে এই জীবাশ্মটি বিশ্লেষণ করে দেখেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, একটি ভ্রূণের জীবাশ্মও কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে তার মধ্যে। ডিমের ভিতরে থাকাকালীনই মারা যায় ভ্রূণটি।

Advertisement

গবেষকদলের প্রধান বেনোয়ার কথায়, “আমরা এই প্রথম বার জোর দিয়ে বলতে পারছি যে লিসট্রোসরাসের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীর পূর্বসূরিরা ডিম পাড়ত। এটি সত্যিই একটি মাইলফলক।” তিনি আরও জানান, এই ডিমগুলি বাইরের খোসা নরম হত। কারণ শক্ত খোসার ডিমের বিবর্তন শুরু হয়েছিল আরও অন্তত ৫ কোটি বছর পরে।

পার্মিয়ান যুগের শেষ পর্বে সাইবেরিয়ায় বিশাল অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পৃথিবী স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে পড়েছিল। ওই সময়ে পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাণীই মারা গিয়েছিল (যা ‘দ্য গ্রেট ডাইং’ নামে পরিচিত)। ওই প্রতিকূলতার মধ্যেও লিসট্রোসরাস কী ভাবে টিকে গিয়েছিল, তা দীর্ঘদিন ধরেই রহস্যই রয়ে গিয়েছে। জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া এই ডিমের উপর গবেষণা আগামী দিনে সেই রহস্যের জালও ভেদ করতে পারে বলে মনে করছেন বেনোয়া। তাঁদের গবেষণায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। যেমন, এদের শরীরের তুলনায় ডিম ছিল কিছুটা বড় আকারের। ফলে ডিম ফুটে বেরোনোর সময় এদের শাবকেরা কিছুটা বিকশিতই থাকত। যা এদের টিকে থাকার জন্য সাহায্য করত বলে মনে করেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement