Hail Storm

স্ফটিক বিন্দু থেকে কী ভাবে বলের আকার ধারণ করে বৃষ্টির শিলা! নেপথ্যে কি রয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তন?

সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে হয় শিলাবৃষ্টি। ঊর্ধ্বমুখী এই মেঘে ভেসে থাকা জলের কণা ঠান্ডা হয়ে বরফে পরিণত হয়। তার পর তা আর ভেসে থাকতে পারে না। মাটিতে ঝরে পড়ে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৯:০২
Share:

কী ভাবে তৈরি হয় শিলা? ছবি: সংগৃহীত।

বৃষ্টির সঙ্গে টুপটাপ শিলা। আকারে ছোট হলেও তার দাপট কিন্তু জোরালো। আঙুরের মতো একটা শিলা পড়লে ভেঙে যেতে পারে গাড়ির কাচ। কোনও শিলের আকার বৃদ্ধি পেয়ে হতে পারে আনারসের মতো। ওই আকারের শিল পড়ে বাড়ির ছাদ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। কী ভাবে তৈরি হয় শিলা? কী ভাবে শিলা আড়েবহরে বাড়ে? তার নেপথ্যে কি রয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তনের হাত? দীর্ঘ গবেষণার পরে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আগামী দিনে আরও বড় আকারের শিলাপাত হতে পারে। তার প্রভাবে হতে পারে দুর্ঘটনাও।

Advertisement

বৃষ্টির সঙ্গে যখন টুকরো টুকরো বরফ বা গোলাকার বরফখণ্ড আকাশ থেকে পড়ে, তখন তাকে বলে শিলাবৃষ্টি। সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে হয় শিলাবৃষ্টি। ঊর্ধ্বমুখী এই মেঘে ভেসে থাকা জলের কণা ঠান্ডা হয়ে বরফে পরিণত হয়। তার পর তা আর ভেসে থাকতে পারে না। মাটিতে ঝরে পড়ে।

কী করে ক্রমে বড় হয় শিলা?

Advertisement

এক বিন্দু স্ফটিক হয়ে জন্মায় শিলা। ঝড়ের কারণে মেঘের বিভিন্ন স্তরে ওঠানামা করে সেই স্ফটিক কণা। সেই সময়ে ঠান্ডা জলের কণার সংস্পর্শে আসে ওই স্ফটিক, যার তাপমাত্রা হিমাঙ্কেরও নীচে। ওই ঠান্ডা জল স্ফটিকের গায়ে লেগে কঠিন হয়। ক্রমে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে শিলার আকার।

ঠান্ডা জল বরফে পরিণত হয় ভিন্ন সময়ে ভিন্ন হারে। তা নির্ভর করে স্ফটিকের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার উপরে। সে কারণে স্ফটিকের উপরে স্তরে স্তরে জমতে থাকে বরফ। একটি শিলাখণ্ড কেটে দু’ভাগ করা হলে তার ভিতরে স্পষ্ট দেখা যাবে সেই স্তর, যেমন গাছের গুঁড়ি কাটলে দেখা যায়।

ওই শিলাখণ্ড মেঘের মধ্যে দিয়ে কোন পথে এগোচ্ছে, কতটা ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে এসে তা সংগ্রহ করতে পারছে, তার উপরেই নির্ভর করে, কতটা বড় হবে সেই শিলা। যে সব ঝড় দীর্ঘস্থায়ী এবং ঘূর্ণায়মান হয়, সেগুলির সংস্পর্শে আসা শিলার স্ফটিক সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করে। এই ধরনের ঝড়কে বলে সুপারসেল। এই সুপারসেল ঊর্ধ্বমুখী। সে কারণে তাতে ঠান্ডা জলের কণা থাকে অনেক বেশি। এর ফলে শিলাখণ্ডগুলি ১০ থেকে ১৫ মিনিট বা তারও বেশি সময় ভেসে থাকতে পারে। এর পরে ওজন ক্রমে বাড়তে থাকলে সেগুলি আর ভেসে থাকতে পারে না। মাটিতে ঝরে পড়ে।

কখন বেশি হয় শিলাবৃষ্টি?

বসন্ত এবং গ্রীষ্মেই সাধারণত বেশি হয় শিলাবৃষ্টি। এই শিলাবৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ওই সময়েই থাকে। যেমন উষ্ণতা, ভূপৃষ্ঠের কাছে আর্দ্র হাওয়া, ট্রপোস্ফিয়ারের মাঝে অস্থিতিশীল বায়ুস্তর, উচ্চতার সঙ্গে বাতাসের পরিবর্তন, ঝড়ঝঞ্ঝা। এই সবের মিলিত ফল হল শিলাবৃষ্টি।

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব কি পড়ে শিলাবৃষ্টিতে?

স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্কের অধ্যাপক ব্রায়ান ট্যাঙ্গ জানান, দীর্ঘ চার দশক ধরে গবেষণার ফলে দেখা গিয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে শিলার আকার ক্রমে বড় হচ্ছে। তাঁরা পূর্ব এবং মধ্য আমেরিকার বিস্তৃত অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির ধরন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাতে দেখেছেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ওই এলাকায় আকছার গল‌্ফ বলের আকারে শিলা পড়ছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? ট্যাঙ্গের মতে, উষ্ণায়নের কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাতাস আরও উষ্ণ ও আর্দ্র হয়েছে। এর ফলে শক্তিশালী ঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সংস্পর্ষে এসে আরও দানা বেঁধেছে শীতল জলের কণা। ক্রমে তা আরও বড় হয়েছে। ব্রায়ানের এই গবেষণা ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ট্রপোস্ফিয়ারের বায়ুস্তর অস্থিতিশীল হওয়ায় সূর্যরশ্মি আরও বেশি করে উত্তপ্ত করে পৃথিবীকে। শিলার আকার বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ সেটিও। তাঁরা মনে করছেন, আগামী দিনে ওই শিলার আকার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তার জেরে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement