Ancient Underwater City

জলের নীচে ২,৪০০ বছরের পুরনো এক আস্ত শহর! টাইগ্রিসের তীরে সেই জনপদ কেমন ছিল তলিয়ে যাওয়ার আগে?

টাইগ্রিসের নীচে হারিয়ে যাওয়া সেই জনপদ কেমন ছিল? এ বার তা নিয়ে আরও সুস্পষ্ট কিছু তথ্য মিলল নতুন গবেষণায়। মিলেছে হারিয়ে যাওয়া সমাধিস্থল, উপাসনাস্থল-সহ বিভিন্ন নিদর্শন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

জলের নীচে তলিয়ে যাওয়া শহর। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

এক সময়ে সেখানে জনবসতি ছিল। ছিল গোটা একটা শহর। এখন পুরোটাই জলের তলায়। তুরস্কের এক জলাধারের নীচে হারিয়ে যাওয়া সেই ২,৪০০ বছরের পুরনো শহর কেমন ছিল, সে বিষয়ে আরও বিশদ তথ্যের সন্ধান পেলেন গবেষকেরা।

Advertisement

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে এই জলাধার। আঙ্কারা শহর থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে আনাতোলিয়া অঞ্চলের দিয়ারবাকি প্রদেশে টাইগ্রিস নদীর উপর গড়ে উঠেছে ডিকলে বাঁধ। নদীর তলায় যে হারিয়ে যাওয়া জনপদ রয়েছে, তা আগেই জানা গিয়েছিল। এ বার পাওয়া গেল, সেই জনপদের আরও সুস্পষ্ট কিছু তথ্য। মিলেছে হারিয়ে যাওয়া সমাধিস্থল, উপাসনাস্থল-সহ বিভিন্ন নিদর্শন। যা থেকে স্পষ্ট, এটি কোনও এক সময়ে এক বর্ধিষ্ণু জনপদ ছিল।

তুরস্কের ডিকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইরফান ইলদিজ়ের নেতৃত্বে জলাধারে এই গবেষণাটি চলে। জলাধারের ডুবুরি নামিয়ে উন্নত মানের ছবি সংগ্রহ করা হয়। সেই ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জনপদটি যে বিন্যাসে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছিল, এত বছর জলের নীচে থাকার পরেও সেই একই বিন্যাসে রয়ে গিয়েছে।

Advertisement

টাইগ্রিস নদীর তীরে এই অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের আমলে বিভিন্ন বসতি গড়ে উঠেছিল। ১৯৮৬ সালে নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়েছিল। তুরস্কের সরকারি নথি অনুযায়ী, বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয় ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে। পুরনো নথি অনুযায়ী, ওই সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমাধিকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে বাকি অংশ জলের নীচেই পড়ে ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, জলাধারের নীচে মসজিদ, মাদ্রাসা, সমাধিস্থল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি চেনা বিন্যাস রয়েছে। তবে এই জনপদ কতটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। সেই প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিতই রয়ে গিয়েছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সমাধিস্থলের কাছেই একটি মসজিদ ছিল। ছিল একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তার সংলগ্ন একটি কবরস্থানও। জলে ডুবে যাওয়া পথ ধরে আরও এগিয়ে গেলে দেখা যায়, পাহাড়ের উঁচু ঢাল এবং পবিত্র এই স্থাপনাগুলির মাঝে একটি স্নানাগারও ছিল সেখানে। গবেষকদলের প্রধান ইরফানের মতে, এই নিদর্শনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জলাধারের নীচে এই অভিযান স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে এই উপাসনাস্থল, সমাধিস্থল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন ভাবে তৈরি হয়নি। বরং, পাশাপাশি গড়ে উঠেছিল।

Advertisement

তবে এই অঞ্চলের জনপদ নিয়ে আরও বিশদে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন ইরফান। তবে সে ক্ষেত্রে জলাধারের জলের স্তর কমানো দরকার মত ইরফান এবং তাঁর সহযোগীদের। তা ছাড়া জলাধারের নীচে পলির স্তর বেশি পুরু হয়ে গেলে হারিয়ে যাওয়া এই জনপদের মানচিত্রও বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। সম্প্রতি ডিকলে বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে।

টাইগ্রিস নদীর ধারে অন্যত্রও হারিয়ে যাওয়া জনপদের সন্ধান মিলেছে। কয়েক বছর আগেই এক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ইরাকেও এমন একটি হারিয়ে যাওয়া শহরের সন্ধান মিলেছিল। সেটিও এই তুরস্কের জনপদের প্রায় সমসাময়িক। ইরাকের উত্তর প্রান্তে মসুল বাঁধের কাজ চলাকালীন প্রায় ৪০টি সমাধি আবিষ্কার হয়। সমাধিস্থল থেকে প্রাপ্ত নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীদের অনুমান, সেগুলি প্রায় ২,৩০০ বছরের পুরনো।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement