Earth's Water

পৃথিবীর মহাসাগরে কোথা থেকে এসেছিল জল? চাঁদের মাটি পরীক্ষা করে নতুন এক তথ্য পেলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে। পাতে পাতে ধাক্কা লাগছে। এর ফলে ভূত্বকের পরিবর্তন হচ্ছে। শিলার রূপান্তর হচ্ছে। কিন্তু চাঁদে তা হয় না। সে কারণে চাঁদের মাটি কোটি কোটি বছরের ইতিহাস তুলে ধরে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৬
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

পৃথিবীতে এই যে বিশাল সমুদ্র, মহাসাগর, তার জলের উৎস কী? কোথা থেকে সেখানে এল এত জলরাশি? এত দিন মনে করা হত, চাঁদ থেকে আসা জল ভরা বড় বড় উল্কা আছড়ে পড়ত পৃথিবীতে। তার জেরেই জলে ভরে উঠেছে সাগর, মহাসাগর। নাসার সাম্প্রতিক গবেষণা অন্য কথা বলছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীতে মহাসাগরের জলের উৎস শুধু চাঁদ থেকে ছুটে আসা উল্কা নয়, আরও অন্য কিছু।

Advertisement

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণাকারী সংস্থা নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের গবেষক টনি গারগানো মহাসাগরের জলের উৎস নিয়ে গবেষণাটি করেছেন। সেটি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রসিডিংস টু দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’ পত্রিকায়। চাঁদের পৃষ্ঠে যে ধুলো, মাটি রয়েছে, তাকে বলে রোগোলিথ। এই রোগোলিথ পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। আর তাতেই দেখেছেন, গত ৪০০ কোটি বছরে চাঁদ থেকে ছুটে আসা উল্কারা পৃথিবীর বুকে সামান্য পরিমাণে জলের জোগান দিয়েছে।

পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে। পাতে পাতে ধাক্কা লাগছে। এর ফলে ভূত্বকের পরিবর্তন হচ্ছে। শিলার রূপান্তর হচ্ছে। কিন্তু চাঁদে তা হয় না। কোটি কোটি বছর আগের শিলা, মাটি যা রোগোলিথ নামে পরিচিত। এখনও চাঁদের বুকে পড়ে রয়েছে। সেই রোগোলিথ চাঁদের অতীত ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। সেই রোগোলিথ পরীক্ষা করেছেন টনি এবং তাঁর সহকারীরা।

Advertisement

রোগোলিথে থাকা অক্সিজেনের আইসোটোপ পরীক্ষা করেছেন তাঁরা। শিলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন। উল্কা বাষ্পীভূত হয়ে গেলেও এই অক্সিজেন কিন্তু থেকে যায়। আর তা থেকেই চাঁদের মাটির মূল গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে টনিরা। তাঁরা দেখেছেন, চাঁদের রোগোলিথের মাত্র এক শতাংশে মিলেছে কার্বন সমৃদ্ধ উল্কার উপাদান। সেই শিলা কতটা পরিমাণ জল ধারণ করতে পারে, তা-ও পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আর তাতেই তারা দেখেছেন, খুব বেশি পরিমাণে জল ধারণ করতে সক্ষম নয় ওই শিলা। যতটা জল তারা ধারণ করতে পারে, তা পৃথিবীর সাগর, মহাসাগর ভরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। সাগর, মহাসাগরে যত জল, তার কিছু অংশের জোগান দিতে পেরেছে চাঁদ থেকে ছুটে আসা উল্কা।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, রোগোলিথে থাকা সেই জলের বেশির ভাগটা চাঁদেই সঞ্চিত রয়েছে। চাঁদের মেরু অঞ্চল, যা সর্বদা ছায়ায় ঢাকা থাকে, সেখানেই রয়েছে জল। প্রায় ৫০ বছর আগে চাঁদ থেকে ওই রোগোলিথ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তা পরীক্ষা করে আজও বিজ্ঞানীরা জানতে পারছেন নিত্যনতুন জিনিস। সেই মাটি ভেদ করছে সৌরজগতের নানা রহস্য।

তবে বিজ্ঞানীদের একাংশ জানিয়েছেন, টনিরা যে রোগোলিথ পরীক্ষা করেছেন, তা চাঁদের নির্দিষ্ট একটি এলাকার। চাঁদের বাকি অংশের রোগোলিথে কী লুকিয়ে রয়েছে, তা কিন্তু এখনও অধরা। তাই চাঁদ থেকে ছুটে আসা উল্কারা পৃথিবীর সাগর, মহাসাগরকে জলপূর্ণ করেনি, এ কথা এখনই বলা যাবে না। চাঁদের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগোলিথ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তবেই জানা যাবে আসল সত্য।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement