Asteroid

পৃথিবীর আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার গ্রহাণু! ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে ছোট শহর, খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগে বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে গ্রহাণুগুলির আকার খুব বড়, সেগুলি নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন। কারণ, সেগুলি কোথায় রয়েছে, তা তাঁরা জানেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

এক লহমায় ধ্বংস করে দিতে পারে অনেক কিছু। আকারে ছোট হলেও পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে সেই অঞ্চলে বিপত্তি ঘটাতে পারে। এ রকম হাজার হাজার গ্রহাণু মহাকাশের কোথায় অবস্থান করছে, তা জানা যায়নি। ধরা পড়েনি রাডারে। এমনটাই জানিয়েছে নাসা।

Advertisement

নাসার সদর দফতরের গবেষক কেলি ফাস্ট একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে জানান, প্রায় ১৫ হাজার মাঝারি আকারের বস্তু পৃথিবীর কাছাকাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক একটি প্রায় ১৪০ মিটার চওড়া। তবে সেই বস্তুগুলিকে এখনও চিহ্নিত করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জনবহুল কোনও অঞ্চলে ওই বস্তু পড়লে ক্ষতি হতে পারে। ছোটখাটো শহরকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে সেই বস্তু। তাই তাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘সিটি কিলার’।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বস্তু আসলে গ্রহাণু। যেগুলির আকার খুব বড়, সেগুলি নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন কেলি। কারণ, সেগুলি কোথায় রয়েছে, তা তাঁরা জানেন। যে গ্রহাণুগুলির আকার তুলনায় ছোট, সেগুলির অবস্থানই ধরা পড়ে না। কেলি জানান, পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল টেলিস্কোপেও ধরা পড়ে না মাঝারি আকারের সেই গ্রহাণুর অবস্থান। তাই তা কোথা থেকে কবে, কখন ছুটে আসতে পারে, সেই নিয়ে কোনও ধারণাই নেই। কেলির মতে, ওই গ্রহাণু হয়তো বিশাল এলাকা জুড়ে ধ্বংস সাধন করতে পারবে না, তবে যেখানে পড়বে, সেই জায়গার ক্ষতি হতে পারে। জায়গাটি জনবহুল হলে হতাহত পর্যন্ত হতে পারে।

Advertisement

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা নাসার গ্রহাণু নিয়ে গবেষণাকারী দলের প্রধান ন্যান্সি শাবট মহাকাশযান নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছুটে আসা গ্রহাণু এড়িয়ে যেতে পারে এমন মহাকাশযান কিন্তু নেই বললেই চলে। ওয়াইআর৪-এর মতো কিছু পৃথিবীর দিকে ছুটে এলে তার আঘাতে ধ্বংস হতে পারে মহাকাশযানও।

গত বছর বিজ্ঞানীরা ওয়াইআর৪ নামে এক গ্রহাণুর অবস্থান লক্ষ্য করেন। তার আকার প্রায় একটি ফুটবল মাঠের সমান। ২০২৪ সালের বড়দিনে পৃথিবীর বেশ কাছ দিয়ে সেটি চলে যাওয়ার পরে বিজ্ঞানীরা তাকে লক্ষ্য করেন। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, ২০৩২ সালে পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা লাগতে পারে সেই গ্রহাণুর। যদিও পরে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন, তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই।

নাসার বিজ্ঞানীরা এখন মাঝারি আকারের সেই গ্রহাণুরই খোঁজ করছেন। ১৪০ মিটারের বেশি চওড়া এমন যত গ্রহাণু রয়েছে, তার মাত্র ৪০ শতাংশেরই খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের লক্ষ্য, এ ধরনের গ্রহাণুর খোঁজ চালিয়ে যাওয়া, যাতে পৃথিবীর কোথাও কোনও ক্ষতিসাধন না হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement