Thunderstorm Alert

কোথায় পড়তে পারে বাজ, কোথায় শুরু হতে পারে ঝড়! শুধু আকাশে নয়, এ বার মাটিও পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা

ব্রিটেনের এক দল বিজ্ঞানী আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির একটি অংশে ২০ বছর ধরে বজ্রপাত, ঝড় পর্যবেক্ষণ করে দাবি করেছেন, তা আচমকা আসে না। তবে শুধু বায়ুমণ্ডলে ঝড়ের পূর্বাভাস খুঁজলে চলবে না। মাটিতেও খুঁজতে হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

আগেভাগেই মিলতে পারে ঝড় বা বজ্রপাতের নির্দিষ্ট স্থানের পূর্বাভাস, ইঙ্গিত গবেষণায়। —ফাইল চিত্র।

গরমের বিকেলে হঠাৎই মোবাইলে ভেসে উঠল পূর্বাভাস, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে! কিন্তু ঠিক কোথায় বাজ পড়বে, তা আর স্পষ্ট হয় না। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, ঠিক কোথায় বাজ পড়তে পারে, কোন এলাকায় ঝড় হতে পারে, তার হদিস এ বার পেতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। কোনও অঞ্চলের মাটির আর্দ্রতা এবং ভূপৃষ্ঠ লাগোয়া বাতাস পরখ করে তা করা যাবে।

Advertisement

‘ইউকে সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড হাইড্রোলজি’ এই নিয়ে গবেষণা করেছে। কখন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, ঝড় শুরু হবে, তা শুরু এবং আগের মুহূর্ত নিয়ে গবেষণা করছে ওই প্রতিষ্ঠান। সত্যি যদি ঝড়, বজ্রপাতের পূর্বাভাস অনেক আগে মেলে, তা হলে প্রাণহানি রোখা যাবে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিতে গোটা পৃথিবীতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ হাজার জন।

গরমের দুপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির আবির্ভাব হয় দ্রুত। কখনও ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে আকাশে মেঘ তৈরি হয়। ক্রমে তা থেকে হয় বৃষ্টি, বাজ পড়ে। দ্রুত গতিতে ছোটে ঝোড়ো হাওয়া। সে কারণে অনেক সময়ই ঝড়ের হওয়ার খুব বেশি আগে তার পূর্বাভাস মেলে না। তবে গবেষকদের একাংশ বলছেন, ঝড় কিন্তু ততটাও এলোমেলো ভাবে আসে না। তাঁদের মতে, মাটির আর্দ্রতা এবং বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে থাকা বাতাসের মিথস্ক্রিয়ার ফল হল ঝড়। এই মিথস্ক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সেই ধরন লক্ষ্য করলেই আগেভাগে মিলতে পারে বজ্রপাত, ঝড়ের পূর্বাভাস।

Advertisement

বিজ্ঞানীরা মূলত সাহারা মরুভূমির একটি অংশে ঝড়, বজ্রপাতের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রেখে গিয়েছিলেন। সেখানে মাঝেমধ্যেই আচমকা চলে আসে ঝড়। বাজ পড়ে। ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২২ লক্ষ ঝড়, বজ্রপাতের সময় বায়ুমণ্ডলের, ভূপৃষ্ঠের কী অবস্থা ছিল, তা পর্যবেক্ষণ করেন বিজ্ঞানীরা। এ জন্য তাঁরা উপগ্রহচিত্রের সাহায্য নিয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বহু সংখ্যক ঝড় পর্যবেক্ষণ করার ফলে তার পূর্বসঙ্কেতের বিষয়ে একটি ধারণা তৈরি হয়ে যায়। তারা বজ্রপাত, ঝড়ের পূর্বাভাস দিতে সমর্থ হন। বিজ্ঞানীদের দাবি, শুধু আফ্রিকা নয়, তাদের সেই বোঝাপড়া পৃথিবীর যে কোনও দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে।

ব্রিটেনের ওই বিজ্ঞানীরা আফ্রিকায় ২০ বছর ধরে বজ্রপাত, ঝড় পর্যবেক্ষণ করে দাবি করেছেন, তা আচমকা আসে না। তবে শুধু বায়ুমণ্ডলে ঝড়ের পূর্বাভাস খুঁজলে চলবে না। মাটিতেও খুঁজতে হবে। যেখানে মাটি শুষ্ক, সেখানে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত উত্তপ্ত হয়। যেখানে মাটি ভিজে, সেখানে তা দীর্ঘ ক্ষণ ঠান্ডা থাকে। আর এ সবই হল মেঘ তৈরির নেপথ্য কারণ।

উচ্চতা যত বাড়ে তত বদলায় বাতাস, তার চাপ। এই বিষয়টির উপর নির্ভর করে ঝড়। এতকাল বিজ্ঞানীরা তাই মনে করতেন। তবে নতুন গবেষণার পরে কয়েক জন বিজ্ঞানীর দাবি, মাটির আর্দ্রতাও ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। তার জেরে আচমকাই উঠতে পারে ঝড়। বাজ পড়তে পারে। তাঁরা মনে করেন, ঝড় এবং বাজ পড়ার ক্ষেত্রে প্রধান দু’টি ‘ফ্যাক্টর’ হল বায়ু চাপের আচমকা তারতম্য এবং মাটির আর্দ্রতা। তাদের দুইয়ের প্রভাবে দ্রুত মেঘ তৈরি হয়ে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। বাজ পড়তে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানান, তাঁদের কাছে পরের চ্যালেঞ্জ ছিল, কোথায় বাজ পড়তে পারে, তা জানা। এ ক্ষেত্রে তাঁরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছেন। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, উপগ্রহ থেকে মেলা প্রয়োজনীয় তথ্য এআই-কে জোগালে, তা বলে দিতে পারবে, কোথায় পড়তে পারে বাজ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ঝড় কতটা বিধ্বংসী হতে পারে, কত বাজ পড়তে পারে, তা-ও অনেকটাই নির্ভর করে মাটির আর্দ্রতার উপরে। তা দেখেই নির্ণয় করা যেতে পারে, কোথায় পড়তে পারে বাজ।

দু’টি ফ্যাক্টর পর্যবেক্ষণ করে ঝড় হওয়ার ছ’ঘণ্টা আগে সেই পূর্বাভাস দেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোথায় ঝড় হবে, কোথায় বাজ পড়বে, তা-ও বলা যাবে। শুধ বায়ুর চাপ, গতি, প্রবাহের দিকের সঙ্গে মেলাতে হবে মাটির আর্দ্রতা। তা হলেই বলা যাবে, কোথায় কখন পড়বে বাজ। হবে ঝড়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement