—প্রতীকী চিত্র।
ভারতীয় হকিতে নতুন বিতর্ক। যৌন হেনস্থার অভিযোগ শীর্ষস্তরের এক কর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই কর্তা মহিলা অফিসিয়াল, কোচ, খেলোয়াড়দের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করছেন।
ভারতের মহিলা হকি খেলোয়াড়, কোচ এবং অন্য অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হল। ওই কর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (সাই) ডিরেক্টর হরিরঞ্জন রাও, ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেন্টস কমিটির ডিরেক্টর কল্পনা শর্মা এবং হকি ইন্ডিয়ার সভাপতি দিলীপ তিরকেকে। তিন জনের কাছে পাঠানো ই-মেল পাঠানো হয়েছে বেনামে। এর থেকে মনে করা হচ্ছে, নিরাপত্তার অভাব অনুভব করছেন অভিযোগকারীনিরা।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হকি ইন্ডিয়ার ওই কর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমতা অপব্যবহার করে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি জন্য চাপ দেওয়া, অকারণে বার বার ফোন করা এবং কেরিয়ার নষ্ট করার হুমকি। ওই কর্তার বিরুদ্ধে মহিলা আধিকারিকদের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। টাকার বিনিময়ে নানা সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন ওই কর্তা। মহিলাদের থেকে নানা আপত্তিকর ছবিও চাইতেন তিনি।
হকি ইন্ডিয়ার অভিযুক্ত কর্তার বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। এক মহিলা হকি আম্পায়ার জানিয়েছেন, প্রথম বার তাঁদের অভিযোগকে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। আর এক জনের অভিযোগ, ওই কর্তা তাঁর কাছ থেকে টাকা এবং নানা রকম ছবি চাইতেন। প্রতিবাদ করায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত হকি ইন্ডিয়ার পদে ছিলেন অভিযুক্ত কর্তা। নানা অভিযোগ ওঠায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার ২০২৫ সালে ফিরিয়ে আনা হয়। নতুন পদ পেয়ে আবার নানা অভব্যতা শুরু করেছেন তিনি। শীর্ষস্তরের এক কর্তার বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পরও হকি ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আগেও ওই কর্তার বিরুদ্ধে হকি ইন্ডিয়া কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। স্বভাবতই এমন সব মারাত্মক অভিযোগের পরও কেন্দ্রীয় সরকার এবং হকি ইন্ডিয়ার উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।