বিশ্বকাপ জিতে ট্রফি হাতে উল্লাস ভারতীয় ক্রিকেটারদের। ছবি: বিসিসিআই।
রবিবার ছিল রেকর্ড গড়ার দিন। অহমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এই জয়ের পথে ১৯টি রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় দল। কে নেই সেই তালিকায়। সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিশন, অভিষেক শর্মারা যেমন ব্যক্তিগত নজির গড়েছেন, তেমনই দল হিসাবে রেকর্ড করেছে ভারত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ১৯ রেকর্ড কী কী।
২০০৭, ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। প্রথম বার কোনও দল তিন বার বিশ্বজয়ের রেকর্ড গড়ল। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দু’বার করে এই ট্রফি জিতেছে।
ভারতই প্রথম দল যারা পর পর দু’বার এই বিশ্বকাপ জিতল। এই কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও দেশের নেই।
কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে এর আগে কোনও দল দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। প্রথম দেশ হিসাবে ভারত সেই রেকর্ড গড়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বাধিক রান (৫ উইকেটে ২৫৫) করেছে ভারত। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনও দল ২০০ রান পার করতে পারেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়েছে ভারত। কুড়ি-বিশের বিশ্বযুদ্ধে ফাইনালে এর আগে কোনও দল এত রানে জিততে পারেনি।
এই বিশ্বকাপে তিন বার ২৫০ রানের বেশি করেছে ভারত। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২৫৬, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৩ ও নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৪ রান করেছে তারা। এর আগে এক বিশ্বকাপে কোনও দল তিন বার ২৫০-র বেশি রান করেনি।
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি দ্বিতীয় সেরা বোলিং। ২০১২ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস ১২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। সেটিই রেকর্ড।
রবিবার মাত্র ১৮ বলে ৫০ করেছেন অভিষেক। বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম অর্ধশতরান করেছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল হাইনরিখ ক্লাসেনের দখলে। ২০২৪ সালের ফাইনালে ২৩ বলে ৫০ করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার।
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৯ রান করেছেন সঞ্জু স্যামসন। বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি কোনও ব্যাটারের করা সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৬ সালের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মার্লন স্যামুয়েলস ৮৫ রান করেছিলেন।
এ বারের বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন সঞ্জু। একটি বিশ্বকাপে এটি রেকর্ড। ফিন অ্যালেনের ২০ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি।
রবিবার নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারই অর্ধশতরান করেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বার কোনও দলের প্রথম তিন ব্যাটার অর্ধশতরানের নজির গড়েছেন।
ফাইনালে অভিষেক ও সঞ্জুর মধ্যে ৯৮ রানের জুটি হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের কামরান আকমল ও শাহজ়াইব হাসান ওপেনিং জুটিতে ৪৮ রান করেছিলেন। সেটিই ছিল এত দিন সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি।
ফাইনাল তো বটেই, বিশ্বকাপের পাওয়ার প্লে-তে সর্বাধিক রান করেছে ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬ ওভারে ৯২ রান করেছে তারা। ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লে-তে ৯২ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ও। কিন্তু তাদের ১ উইকেট পড়েছিল। ভারত বিনা উইকেটে তা করেছে।
রবিবার প্রথম উইকেটে সঞ্জু ও ঈশানের মধ্যে ১০৫ রানের জুটি হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১০ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ক্রেগ কিজ়ওয়েটার ও কেভিন পিটারসেনের মধ্যে ১১১ রানের জুটি রেকর্ড।
অভিষেক বিশ্বের প্রথম ব্যাটার যিনি টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে-র মধ্যে চার বার অর্ধশতরান করে ফেলেছেন। এই রেকর্ড আর কারও নেই।
বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে শতরান করতে পারেননি সঞ্জু। সেই সুযোগ হাতছাড়া হলেও রেকর্ড গড়েছেন সঞ্জু। শেষ তিন ম্যাচে তিনি যথাক্রমে অপরাজিত ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান করেছেন। বিশ্বকাপে পর পর তিন ম্যাচে ৮০-র বেশি রান করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। ২০১০ সালে এই নজির গড়েছিলেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়বর্ধনে।
চলতি বিশ্বকাপে ৩২১ রান করেছেন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি কোনও ভারতীয় ব্যাটারের করা সর্বাধিক রান। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ১৪৯ রান করেছিলেন বিরাট কোহলি। তাঁর থেকে ১৭৮ রান বেশি করেছেন সঞ্জু।
ভারত এই বিশ্বকাপে ১০৬টি ছক্কা মেরেছে। এক বিশ্বকাপে এর আগে কোনও দল ১০০ বা তার বেশি ছক্কা মারতে পারেনি। রেকর্ড গড়েছে ভারত।
গৌতম গম্ভীরই প্রথম ব্যক্তি যিনি ক্রিকেটার ও কোচ হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। ২০০৭ সালে ক্রিকেটার হিসাবে কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। এ বার কোচ হিসাবে সেই কীর্তি গড়েছেন।