ICC T20 World Cup 2026

বাবা বলছিল, কী করছে ওরা? ফাঁস আরশদীপের

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। ‘‘মহম্মদ সিরাজ বা যশপ্রীত বুমরা, যার নামই করুন না কেন, দুরন্ত দুই বোলারের সঙ্গ পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

সুমিত ঘোষ

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪১
Share:

স্বস্তি: ২৪ রানে তিন উইকেট আরশদীপের। দলকে জিতিয়ে গড়লেন নজিরও। চেন্নাইয়ে। ছবি: পিটিআই।

আমদাবাদে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচ চলছিল, ভারতীয় দলের ক্রিকেটার, তাঁদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ আর প্রার্থনা চলছিল। জ়িম্বাবোয়েকে হারানোর পরে আরশদীপ সিংহ জানিয়ে গেলেন, তাঁরা নজর রাখছিলেন। ফাঁস করলেন, তাঁদের চেয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বেশি মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন আমদাবাদের ম্যাচ নিয়ে।

‘‘আমার পরিবার হোটেলের ঘরে বসে ম্যাচ দেখছিল। বিশেষ করে বাবা খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় যখন শুরুতে মারতে শুরু করল, তখন বাবা ওদের উদ্দেশে বলছিল— আরে, ওরা কী করছে, কী করছে কী ওরা?’’ আরশদীপ তখন বাবাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কী বলেছিলেন? বাঁ হাতি পেসারের জবাব, ‘‘বলেছিলাম, বাবা, সব ঠিক আছে। তুমি শান্ত হয়ে বসে ম্যাচটা উপভোগ করো। আর প্রার্থনা করো যেন ওদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে আর আমরাও বাকি দু’টো ম্যাচ জিততে পারি।’’ দু’দিকের দু’টি ম্যাচই ভারতের পক্ষে গেল। দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মতোই স্বস্তির হাসি আরশদীপের মুখে। ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না এডেন মার্করামদের। বললেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। ওদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ। ওরা জিতল বলেই পরের ম্যাচে নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করার একটা সুযোগ আমরা পাচ্ছি।’’ তাঁদের লক্ষ্য কী ছিল?, ‘‘ভাল ক্রিকেট খেলা,’’ জবাব আরশদীপের, ‘‘আমরা জানি যদি নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, ফল ঠিকই পাব।’’ ঝুলিতে ৩৬ উইকেট নিয়ে এ দিন যশপ্রীত বুমরাকে টপকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে গেলেন আরশদীপ। নতুন কীর্তি গড়ে কী অনুভূতি? সাংবাদিকদের ‘স্যর’ বলে সম্বোধন করা পেসার বললেন, ‘‘দারুণ অনুভূতি, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে স্বপ্ন দেখেছি দেশের হয়ে খেলব। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া তো অনেক বড় ব্যাপার। দল এত আস্থা দেখিয়েছে, পাওয়ার প্লে-তে দু’ওভার বোলিং পাচ্ছি। তাই উইকেট তোলার সুযোগও বেশি পাচ্ছি।’’ সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। ‘‘মহম্মদ সিরাজ বা যশপ্রীত বুমরা, যার নামই করুন না কেন, দুরন্ত দুই বোলারের সঙ্গ পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। হার্দিক ভাইয়ের কথাও বলব। নতুন বলেআমার পার্টনার।’’

জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এই জয়কে কী ভাবে ব্যাখ্যা করবেন তিনি? এ দিন তিন উইকেট নেওয়া পেসার বললেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার পরে খুব সমালোচনা হচ্ছিল। অনেক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আমরা কিন্তু গত দেড়-দুই বছরে এ রকম খুব একটা হারিনি। আজ সব কিছু ঠিকঠাক চলেছে। ব্যাটিং ভাল হয়েছে। বোলিং ভাল হয়েছে।’’ দলের স্বার্থে চেন্নাইয়ের মতো ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট পেলে একেবারেই আপত্তি নেই বলেও জানালেন তিনি। পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন, তাঁদের রণনীতি কী। অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষনরা প্রথমে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বড় স্কোর তুলবে, তার পরে তাঁরা সেই রানের দুর্গকে রক্ষা করবেন। যদিও সেই রণনীতি ভীষণ ভাবেই টস-নির্ভর, এটাও মাথায় রাখতে হবে। অথবা প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টসে জিতেও যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেন, সেই বরাত পাওয়া যেতে পারে। যেমন বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে জ়িম্বাবোয়ে অধিনায়ক সিকন্দর রাজা টসে জিতেও ভারতকে ব্যাট করতে পাঠালেন। তিনি কি শিশিরের ভয় পাচ্ছিলেন? কিন্তু অনেকগুলো ম্যাচ খেলা হয়ে গেল, রাজার তো জানা উচিত এ বারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিশিরের প্রভাব সে ভাবে দেখাই যায়নি। এ দিন চেন্নাইয়েও ছিল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর দল জায়ান্ট কিলার হয়ে ওঠার জন্য জ়িম্বাবোয়েতে খুবই বন্দিত হচ্ছেন রাজা। এতটাই সাড়া ফেলেছে তাঁদের সাফল্য যে, দেশ থেকে যে ছ’জন ভক্ত এসেছিলেন দলের জন্য গলা ফাটাতে, অর্থের অভাবে তাদের কলম্বো থেকেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিজ্ঞাপন সংস্থার থেকে ফোন পান তাঁরা এবং বলা হয়, ‘‘তোমরা সবাই চেন্নাই যাও, সব খরচ আমরা দেব।’’ টি-টোয়েন্টির মতোই এর পরে রুদ্ধশ্বাস হয়ে উঠল জ়িম্বাবোয়ের এই ছয় ক্রিকেট ভক্তের ভারতে আসা। তাঁরা সকলে হারারে ফিরে গিয়েছিলেন। হারারে বিমানবন্দরে নেমে ফোন খুলে দেখেন, একাধিক স্পনসর এগিয়ে এসেছে। অনেকে তাদের ভারত যাত্রার দায়িত্ব নিতে চাইছে। সবাই বলছে, ‘‘তোমরা এত আনন্দ করেছ, এত আনন্দ দিয়েছ সকলকে। আমরা চাই যত দিন জ়িম্বাবোয়ে টিম থাকবে, তত দিন তোমরা ভারতে থাকো।’’ একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁরা চেন্নাইয়ে এসে পৌঁছন। যদিও এমন রুদ্ধশ্বাস যাত্রা করে ভারতে এসে দেখতে হল, তাদের দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আর একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও ভারতের কাছে হারার পরে সেই ম্যাচ এখন নিয়মরক্ষার। এমন নাটকীয় ভাবে ভারতে আসার শেষ দৃশ্যটা বিষাদের হয়ে থাকল।

তবু জ়িম্বাবোয়ে ফিরে যাবে ‘জায়ান্ট কিলার’-এর সম্মান নিয়ে। আর ভারত? ম্যাচ জেতার পরে অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল। বোলাররা ফের নেমে পড়েছেন হাত ঘোরাতে। সেখানে ম্যাচে খেলা হার্দিক পাণ্ড্যরাও রয়েছেন। জ়িম্বাবোয়ে ১৮৪ তুলে দিল বলেই হয়তো সতর্ক থাকা। জিতলেও কাজ তো সম্পন্ন হয়নি। আত্মতুষ্টি যেন কিছুতেই ঢুকতে না পারে। একটা দলের যাত্রা শেষ হল, অন্যটার কি শুরু? মনে হচ্ছে তা-ই। এটা নতুন প্রাণ ফিরে পাওয়া ভারত। নতুন উদ্যমে আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেনামতে চাইছে!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন