বাংলাদেশের নেতৃত্বে লিটন কুমার দাস। —ফাইল চিত্র।
মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএলে খেলা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ। লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বের ১৫ জনের দলে রয়েছেন বাঁহাতি জোরে বোলারও। যদিও ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তিকালীন সরকার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেননি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচকেরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের নিয়েই দল তৈরি করা হয়েছে। লিটনের হাতেই থাকছে বিশ্বকাপে দলের নেতৃত্ব। দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে সইফ হাসানকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশের পর আগামী আইপিএলে কেকেআরের হয়ে মুস্কাফিজুর খেলতে না পারলেও, তিনিও জায়গা পেয়েছেন বিশ্বকাপের দলে। অভিজ্ঞ বাঁহাতি জোরে বোলার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার। সম্প্রতি ২০ ওভারের ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
প্রত্যাশা মতোই বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়েছেন তৌহিদ হৃদয়, শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান শাকিব, তাসকিন আহমেদের মতো দেশের প্রথমসারির ক্রিকেটারেরা। যদিও জাকের আলি, নাজমুল হোসেনের মতো ক্রিকেটারেরা জায়গা পাননি দলে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে থাকা ন’জন রয়েছেন এ বারের দলেও। বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-কে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, ইটালি এবং নেপাল।
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পর শনিবার রাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আমি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে বলেছি, বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যেখানে ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারে না।” তিনি আরও লেখেন, “বাংলাদেশ বোর্ডকে বলেছি, তারা যেন আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লেখে। বোর্ড যেন জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশও আমি দিয়েছি।” এর পর থেকেই বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে আসা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসি। ভারত আয়োজক দেশ। আমাদের যা বলার, তা আইসিসিকে বলব।’’ বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের মতো সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘‘আমাদের খেলার উপযুক্ত জায়গা ঠিক করবে আইসিসি।’’
বিসিসিআই অবশ্য বাংলাদেশের এই দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রয়োজনে জয় শাহের আইসিসির উপর চাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার বিসিসিআইয়ের এক কর্তা সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘কারও ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে ম্যাচের জায়গা বদল করা যায় না। এতে পুরো ব্যবস্থায় সমস্যা হতে পারে। অন্য দলগুলোর কথাও তো ভাবতে হবে। সব দলের জন্য হোটেল, বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। এ ছাড়াও প্রতি দিন তিনটি করে ম্যাচ রয়েছে। একটি করে ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কায়। সূচি অনুযায়ী, সম্প্রচারকারীরা তাদের দলগুলোকে নিয়োগ করে। মুখে বলা যতটা সহজ, কাজটা মোটেও তত সহজ নয়।’’ উল্লেখ্য, সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ রয়েছে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। একটি ম্যাচ হওয়ার কথা মুম্বইয়ে।
বাংলাদেশের দল: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), সইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তৌহিদ হৃদয়, শামিম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান শাকিব, তাসকিন আহমেদ, মহম্মদ সইফুদ্দিন এবং শরিফুল ইসলাম।