মারমুখী মেজাজে সঞ্জু স্যামসন। ছবি: পিটিআই।
হলুদ জার্সিতে ছন্দে সঞ্জু স্যামসন। তাঁকে নিয়ে পাঁচ বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের কতটা লাভ হয়েছে তা আরও এক বার বুঝিয়ে দিলেন ডানহাতি ব্যাটার। ওয়ানখেডেতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে শতরান করলেন সঞ্জু। চলতি আইপিএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় শতরান। সব মিলিয়ে আইপিএলে পঞ্চম। সঞ্জুর ১০১ রানে ভর করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সামনে ২০৮ রানের লক্ষ্য দিল চেন্নাই।
চেন্নাই জানত, এই উইকেটে লড়াইয়ে থাকতে হলে অন্তত ২০০ রানের বেশি করতে হবে। শুরুটাও সে ভাবেই করেছিল তারা। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেন। কিন্তু বেশি ক্ষণ টেকেননি তিনি। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে তাঁকে ফেরান আল্লা গজ়নফর। ১৪ বলে ২২ রান করেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক।
রুতুরাজ আউট হওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়ান সঞ্জু। তিনি পাশে পান সরফরাজ় খানকে। তবে সরফরাজ়ও বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি। ৮ বলে ১৪ রান করে আউট হন তিনি। ২ উইকেট পড়ে গেলেও চেন্নাইয়ের প্রথম তিন ব্যাটারের কাঁধে ভর করে পাওয়ার প্লে-তে রান হয় ৭৩।
পাওয়ার প্লে-র পরেও রান তোলার গতি কমতে দেননি সঞ্জু। চেন্নাইয়ের হয়ে প্রথম কয়েকটি ম্যাচ বাদ দিলে ছন্দে তিনি। শুরু থেকে ভরসা দেখাচ্ছেন। শিবম দুবে অবশ্য এই ম্যাচে রান পাননি। ৮ বলে ৫ রান করে গজ়নফরকে ছক্কা মারতে গিয়ে বোল্ড হন।
সঞ্জুকে সঙ্গ দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার শুরু থেকে হাত খুলতে থাকেন। তার মাঝেই আরও একটি অর্ধশতরান করেন সঞ্জু। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, ২২০-২৩০ রান হবে। কিন্তু অশ্বনী কুমারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন ব্রেভিস। ১১ বলে ২১ রান করেন তিনি। তরুণ কার্তিক শর্মা করেন ১৯ বলে ১৮ রান। তবে দু’টি দর্শনীয় ছক্কা মারেন তিনি।
ডেথ ওভারে জসপ্রীত বুমরাহের হাতে খেলায় ফেরে মুম্বই। ১৭তম ওভারে মাত্র ২ রান দেন তিনি। কার্তিককে আউট করেন। ওভারটন ৭ বলে ১৫ রান করেন। পর পর উইকেট পড়লেও ২০০ রানের দিকে এগোচ্ছিল চেন্নাই। তখনও ক্রিজ়ে ছিলেন সঞ্জু।
শেষ দিকে রান তোলার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নেন সঞ্জু। দৌড়ে রান নিচ্ছিলেন না। খালি বড় শট মারার চেষ্টা করছিলেন। তাতে সফলও হন তিনি। ৫৪ বলে শতরান করেন সঞ্জু। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন। পুরো ২০ ওভার খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করে চেন্নাই।
মুম্বইয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল গজ়নফর। চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। বাকি প্রত্যেকে ৩০ রানের উপর দিয়েছেন। ওভার প্রতি ১৯ রান দিয়েছেন অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। তাঁর বোলিং চিন্তা বাড়াচ্ছে মুম্বইয়ের সমর্থকদের।