শতরানের পর রাহুলের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিটিআই।
দল জেতেনি। তবে শনিবার দিল্লির হয়ে মনে রাখার মতো ইনিংস খেলেছেন কেএল রাহুল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা একটি ইনিংস পাওয়া গিয়েছে তাঁর ব্যাট থেকে। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রান করেছেন। সাফল্যের কৃতিত্ব অভিষেক নায়ারকে দিয়েছেন রাহুল। একাধিক নজিরও ভেঙে দিয়েছেন তিনি।
এ দিন দিল্লি হেরে গেলেও রাহুল ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পান যা আইপিএলে ব্যতিক্রম। পুরস্কার পেয়ে রাহুল বলেন, “২০ ওভার পর্যন্ত খেলতে পেরে খুব ভাল লাগছে। নেপথ্যে এই কাজটা করার চেষ্টা অনেক দিন ধরে করছিলাম। আগের বছরও বলেছিলাম, অভিষেক নায়ারের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছি, যা আমাকে সাহায্য করেছে।”
রাহুল জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উন্নতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া খুবই প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “এক ধাপ পিছিয়ে গিয়ে দেখেছি, টি-টোয়েন্টি খেলা কোন উচ্চতায় গিয়েছে এবং এখনকার সময় টি-টোয়েন্টি খেলতে গেলে কী দরকার। ছয় মারা নিয়ে আগেও বলেছি। এই ব্যাপারে আমার আরও উন্নতি দরকার। আরও খোলা মনে খেলতে হবে। প্রথম বা দ্বিতীয় বল থেকে মারার চেষ্টা করতে হবে।”
রাহুলের মতে, এখনকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পুরনো মানসিকতার কোনও জায়গা নেই। তিনি বলেছেন, “একটা সময় টি-টোয়েন্টি বেশ অন্য রকম ছিল। ওপেনারেরা কিছুটা সময় নিয়ে তার পর রান তোলার দিকে মন দিত। এখন প্রথম ছয় ওভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার প্লে-তে যতটা বেশি সম্ভব রান তুলে নিয়ে বিপক্ষকে চাপে ফেলতে হয়।”
আইপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পাঁচে উঠে এসেছেন রাহুল (৫৫৭৯)। টপকে গিয়েছেন সুরেশ রায়না (৫৫২৮) এবং মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে (৫৪৩৯)। রাহুলের আগে রয়েছেন বিরাট কোহলি (৮৯৮৯), রোহিত শর্মা (৭১৮৩), শিখর ধাওয়ান (৬৭৬৯) এবং ডেভিড ওয়ার্নার (৬৫৬৫)।
একটি আইপিএল ইনিংসে সর্বাধিক বাউন্ডারির (চার ও ছয় মিলিয়ে) নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে এলেন রাহুল। তিনি শনিবার মোট ২৫টি বাউন্ডারি মেরেছেন, যার মধ্যে ১৬টি চার এবং ৯টি ছয়। টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন রাহুল। আগে সেই নজির ছিল তিলক বর্মার। তিনি ২০২৪-এ মেঘালয়ের বিরুদ্ধে এই নজির গড়েছিলেন।
রাহুল এবং নীতীশ রানার ২২০ রানের জুটি আইপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। শীর্ষে কোহলি এবং এবি ডিভিলিয়ার্সের ২২৯ রানের জুটি।