সেরা মাঠ ও পিচের পুরস্কার নিচ্ছেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস (ডান দিকে)। ছবি: ফেসবুক।
এই নিয়ে চার বার। আইপিএলের সেরা মাঠ ও পিচের পুরস্কার পেল ইডেন গার্ডেন্স। অজিঙ্ক রাহানের কলকাতা নাইট রাইডার্স সপ্তম স্থানে শেষ করলেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কলকাতা প্রথম হল। দেওয়া হল ৫০ লক্ষ টাকা। গত বার ইডেনের পিচ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। এ বার অবশ্য ততটা হয়নি। কিন্তু বিতর্ক হোক বা না হোক, ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, তিনি এ রকম পিচই বানাবেন।
সেরা পিচের পুরস্কার পেয়ে স্বভাবতই খুশি সুজন। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বললেন, “এই নিয়ে চার বার সেরা পিচের পুরস্কার পেলাম। এক বার যুগ্ম ভাবে। তিন বার একক ভাবে। পরিশ্রমের পুরস্কার পেলে তো ভালই লাগে।”
গত বার ছবিটা এ রকম ছিল না। ঘরের মাঠে কয়েকটি ম্যাচে হারার পর সরাসরি পিচকে দুষেছিলেন কেকেআরের অধিনায়ক রাহানে। তাঁর অভিযোগ ছিল, ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেট তাঁরা চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। তখনও রাহানের অভিযোগ মানতে চাননি সুজন। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশ মেনে তিনি পিচ বানিয়েছেন।
নিজের বক্তব্যে অনড় সুজন। তিনি বললেন, “গত বার কেকেআরের কোচ, অধিনায়ক ও দু’জন ধারাভাষ্যকার পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আর কেউ তো কিছু বলেননি। কী রকম পিচ হবে তা নিয়ে বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ মেনে আমি পিচ বানাই। অতীতে বানিয়েছি। ভবিষ্যতেও বানাব।”
এ বার অবশ্য তেমন বিতর্ক হয়নি। একটি ম্যাচের পরেই রাহানে শুধু বলেছিলেন, পিচ দেখে তাঁদের যেমনটা মনে হয়েছিল, তেমনটা ছিল না। অর্থাৎ, পিচ বুঝতে পারেননি তাঁরা। বিতর্ক নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না সুজন। তিনি বললেন, “বিতর্ক হোক বা না হোক, আমি এ রকম পিচই বানাব।”
এ বার ইডেনের সাতটি ম্যাচের মধ্যে একটি বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছে। বাকি ছ’টি ম্যাচের মধ্যে তিনটি জিতেছে কেকেআর। তিনটি হেরেছে। অর্থাৎ, কেকেআরের পাশাপাশি প্রতিপক্ষও সমান সুবিধা পেয়েছে এই উইকেট থেকে। সর্বাধিক ২৪৭ রান হয়েছে এই মাঠে। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে করেছে কেকেআর। আবার ১৪৮ রানের ম্যাচও দেখা গিয়েছে কেকেআর-মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে। কেকেআর-লখনউ ম্যাচে ১৮১ রান করতে নেমে শেষ বলে জিতেছে লখনউ। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, সব ধরনের উইকেট দিয়েছে এই মাঠ। লড়াই হয়েছে। ব্যাটার ও বোলারেরা সমান সুবিধা পেয়েছেন। সেই কারণেই সেরা পিচের পুরস্কার পেয়েছে ইডেন। আগামী দিন আবার এই পুরস্কার পেতে চান সুজন।