হর্ষিত রানা। ছবি: পিটিআই।
অন্য জোরে বোলারদের চেয়ে হর্ষিত রানাকে কেন গৌতম গম্ভীর বেশি গুরুত্ব দেন, তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে রবিবার। হর্ষিত মূলত জোরে বোলার। তবে তাঁর ব্যাটের হাত আর্শদীপ সিংহ, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, জসপ্রীত বুমরাহদের থেকে ভাল। রবিবার নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে চাপের মুখে তাঁর ২৩ বলে ২৯ রানের ইনিংসই প্রমাণ। প্রয়োজনের সময় দলকে সাহায্য করতে পেরে খুশি কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলারও।
বোলার পরিচয় মুছে ফেলতে চান হর্ষিত। আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা মেনে অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে চান। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন। হর্ষিত বুঝেছেন, ব্যাটিং অর্ডারের সাত বা আট নম্বরে নেমে ৩০-৪০ রান করতে পারলেও দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দিতে পারবেন। প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেই হোক বা রান তাড়া করার ক্ষেত্রে।
রবিবার ম্যাচের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) দেওয়া সাক্ষাৎকারে হর্ষিত বলেছেন, ‘‘বাবা আমাকে প্রথম থেকে ব্যাটিংয়ে গুরুত্ব দিতে বলতেন। বাবা চাইতেন আমি যাতে অলরাউন্ডার হতে পারি। খেলা শেষ হওয়ার পর ফোন করেছিলাম। বাবা খুব একটা খুশি হননি আমার ব্যাটিংয়ে। যখন আউট হয়েছি, তখন আমাদের ২০ রানের বেশি দরকার ছিল। বাবার মতে আমার শেষ পর্যন্ত থাকা উচিত ছিল। একটু বকাই দিয়েছেন।’’ হর্ষিত আরও বলেছেন, ‘‘আট নম্বরে ব্যাট করতে নামি। এই জায়গাটার জন্যই নিজেকে তৈরি করছি। দলের প্রয়োজনে ৩০-৪০ রান অন্তত করার লক্ষ্য থাকে। নেটেও ব্যাটিং নিয়ে পরিশ্রম করছি।’’
রবিবার বোলার হর্ষিতকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে এক জন বলেন, ‘‘বুমরাহ না থাকলে মনে হয় একটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা দেখছি, বুমরাহের অনুপস্থিতিতে নতুন বলে উইকেট আসছে না। বোলারদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এটার কারণ কী?’’ জবাবে হর্ষিত বলেছেন, ‘‘জানি না আপনি কোন ম্যাচ দেখে বলছেন। আজকের ম্যাচেই দেখুন। বুমরাহ তো কোনও উইকেট নেয়নি। মহম্মদ সিরাজ দুর্দান্ত বল করেছে। আমরা নতুন বলে খুব বেশি রানও দিইনি।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এ ভাবেও তো প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা যায়। নতুন বলে উইকেট না এলে মাঝের ওভারগুলোয় সুযোগ থাকে। আমরা মাঝের ওভারগুলোয় উইকেট তুলেছি। এটা তো এক দিনের ক্রিকেট।’’
হর্ষিত মানতে চাননি বুমরাহের অনুপস্থিতি ভারতের বোলিং আক্রমণকে দুর্বল করেছে। তাঁর মতে, রবিবার বোলারেরা নিজেদের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতে পেরেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত উইকেট না পেলেও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা যায়।