Pakistan's India Boycott In T20 World Cup

জরুরি বৈঠকে জয় শাহের আইসিসি, খিড়কির দরজা দিয়ে চলছে আলোচনাও, রাজি না হলে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ভাল ভাবে নিচ্ছে না আইসিসি। জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন জয় শাহেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৬
Share:

পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (বাঁ দিকে) ও আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পাকিস্তানকে চাপে রাখার পাল্টা কৌশল নিয়েছে আইসিসি। রবিবার পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেললেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ভাল ভাবে নিচ্ছে না আইসিসি। জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন জয় শাহেরা। পাকিস্তান সিদ্ধান্ত না বদলালে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে মহসিন নকভিদের।

Advertisement

আইসিসির সূত্র জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে তারা। মঙ্গল বা বুধবার তারা বৈঠকে বসবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মাঝেই খিড়কির দরজা দিয়ে পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে আইসিসি। সম্প্রচারকারী চ্যানেল থেকে শুরু করে স্পনসরেরাও এই সমস্যা মেটাতে চাইছে। যে কোনও উপায়ে হোক পাকিস্তানকে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে মাঠে নামাতে উদ্যোগী তারা।

পাকিস্তান যদি তার পরেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তা হলে কড়া শাস্তি হবে তাদের। নির্বাসিত করা হতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। সত্তরের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যে ভাবে আইসিসি নির্বাসিত করেছিল, সেই পদক্ষেপ আরও এক বার করতে পারে তারা। আইসিসির লভ্যাংশের যে টাকা পাকিস্তান পায়, তা কেটে নেওয়া হতে পারে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সব দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তেমনটা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট পিছিয়ে যাবে বেশ কয়েক বছর। অন্ধকার হয়ে যাবে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।

Advertisement

রবিবার পাকিস্তান সরকার এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তারা বলেছে, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।” অবশ্য যদি ফাইনালে দু’দল মুখোমুখি হয় তখন পাকিস্তান কী করবে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি পাক সরকার বা সে দেশের বোর্ড। যদি সত্যিই তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি, দুই সংস্থারই সমস্যা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপে জটিলতা আরও বাড়বে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা বলেছে, “জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান করে। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী, যাঁদের মধ‍্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন, তাঁদের ভালর কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নয়।” আইসিসি জানিয়েছে, তারা প্রত‍্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি লিখেছে, “পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের উপর এর সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের কথা বিবেচনা করবে। কারণ এটি বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার অন্যতম সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই।”

আইসিসি আরও লিখেছে, “পাকিস্তানের 'বাছাই করা ম‍্যাচ খেলার' অবস্থান বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মূল ভিত্তির সঙ্গে মেলানো কঠিন। কারণ, এ ধরণের প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জন করা সকল দলের কাছে প্রত্যাশা থাকে যে, তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।” পাক বোর্ডকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে আইসিসি শেষে লিখেছে, “আইসিসির অগ্রাধিকার হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফল ভাবে আয়োজন করা। পিসিবি-সহ এর সকল সদস্যেরও এটা দায়িত্ব হওয়া উচিত। আইসিসি আশা করে পিসিবি একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে যা বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত সকলের স্বার্থ রক্ষা করবে। এখন দেখার, বৈঠকে আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement